বড়দিন হোক ঈশ্বরের আশীর্বাদের

আমাদের নতুন সময় : 25/12/2018

সুমন কোড়াইয়া

এই বছরের বড়দিনের আনন্দ যেন একটু বেশি। বড়দিনের ঠিক পর পরই রয়েছে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। খ্রিস্টভক্তরা একটু বেশি ছুটি নিয়ে বড়দিন এবং নির্বাচন পার করেই কর্মক্ষেত্রে ফিরবেন। তাই বড়দিনটা খুশিই বটে। আজ থেকে বড়দিনের নাড়ির টানে গ্রামে ফিরছেন অনেকে। অনেক প্রবাসী খ্রিস্টভক্ত ইতিমধ্যে বিদেশ থেকে বাড়ি ফিরে এসেছেন- স্বজনদের সাথে বড়দিনের আনন্দ উদযাপন করতে। অনেকে রাস্তায় আছেন। তাদের যাত্রা পথ শুভ হোক এই প্রার্থনা করি।
বছর শেষে শীতের হিমেল হাওয়ায় ফিরে আসে বড়দিন। পিঠা-পুলি, নতুন কাপড়, স্বজনদের সাথে দেখা সাক্ষাৎ, বড়দিনের মহা খ্রিস্টযাগ, বিয়ে, জুবিলীর মত সামাজিক অনুষ্ঠান- সব মিলিয়ে ভাল সময় কাটে এই সময়। বছর শেষে এসে বুঝতে পারি নিজেরা কতটা ঈশ্বরের আশীর্বাদ পেয়েছি। এই সময়টায় এসে- আমাদের নিজেদের এক বছরের মূল্যায়ন করারও সময়। গেল এক বছর আমার কোন কোন বিষয় ভাল ছিল না, কোন কোন বিষয় ভাল ছিল- এই সব বিষয়ে নিজেকে প্রশ্ন করার সময়। নিজেদের দুর্বলতাকে অতিক্রম করার দ্বিগুণ মনোবাসনা থাকা দরকার নতুন বছর থেকে।
আমরা খ্রিস্টান। যীশু বলেছেন, তোমরা জগতের ‘আলো’ এবং ‘লবণ’। বড়দিনের এই লগ্নে আমরা নিজেদের প্রশ্ন করতে পারি, সত্যি কী আমরা লবণের মত ‘স্বাদ’ মানুষকে দিতে পারি? সত্যি কী আমরা ‘আলো’ হয়ে অন্যকে ‘আলোকিত’ করতে পারি? যদি না পারি তাহলে আমরা যীশুর শিষ্য না। যীশুর শিষ্য হতে হলে আমাদের হতে হবে আলো এবং লবণের মত। আমাদের হতে হবে যীশুর সাক্ষ্য।
বড়দিন আমাদের একটি অপুর্ব সুযোগ করে দেয়। আর তা হলো শেকড়ে ফেরা। দিন শেষে পাখি যেমন নীড়ে ফিরে, তেমনি আমরা অনেকে বছরের এই আনন্দময় বড়দিনে গ্রামের বাড়িতে ফিরি বা আমাদের স্বজন যারা প্রবাসে থাকে তারা বাড়িতে আসেন। এই আসাটার একটি তাৎপর্য রয়েছে। এই সময় আমরা অনেক স্বজনের সাথে, বিশেষ্ত প্রবীণদের সংস্পর্শ পাই। এই সংস্পর্শে তাদের নিকট থেকে আশীর্বাদ পাই। এই পাওয়া হয়ত আগামী বছর নাও হতে পারে আমাদের জীবনে বা সেই প্রবীণ ব্যক্তিটি আগামী বছর নাও থাকতে পারেন এই ধরণীতে। তাই বড়দিন সুযোগ করে দেয় স্বজনদের গভীরভাবে ভালবাসার, সম্মান ও শ্রদ্ধ করার।
বড়দিন যেমন আনন্দের, আবার বড়দিন কষ্টেরও হয়ে থাকে কারও কারও জন্যে। অতিরিক্ত মদ্যপান, বেপরোয়া গাড়ি চালানো, বিশেষ করে মোটর সাইকেল দূর্ঘটনার মত ঘটনা যেন না ঘটে এই সময় সেই দিকে লক্ষ্য রাখা জরুরী। এই সব ঘটনায় ব্যক্তি নিজে যেমন ক্ষতিগ্রস্থ হয় তেমনি ক্ষতিগ্রস্থ হয় এবং কষ্ট পান তাদের স্বজনরা।
বড়দিন এখন শুধু খ্রিস্টনদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। দেশে রাষ্ট্রীয় ভাবেও বড়দিন উদযাপন করা হয়। স্বয়ং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজে বড়দিনের কেক কেটে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের সাথে প্রাক বড়দিন উৎসব উদযাপন করে থাকেন। তাই বলতে পারি বড়দিন এখন সার্বজনীন। আমরা এই বড়দিনে অন্য ধর্মের ভাইবোন এবং বন্ধু-বান্ধবদের সাথেও আমাদের আনন্দ ভাগ করে নিতে পারি।
বড়দিন হয়ে উঠুক আশীর্বাদের, সমৃদ্ধির, সুখের ও শান্তির। আমাদের দেশ হয়ে উঠুক বিশ্বের বুকে একটি অসাম্প্রদায়িক দেশ- এই কামনা করি।
সকল পাঠক, লেখক ও শুভ্যানুধ্যায়িদের জানাই বড়দিনের শুভেচ্ছা।
সকলকে শুভ বড়দিন!
লেখক: প্রধান সম্পাদক, বিডি খ্রিস্টান নিউজ




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]