শীলের গুরুত্ব ও পঞ্চশীল প্রার্থনা

আমাদের নতুন সময় : 26/12/2018

প্রভাশ মারমা

‘শীল’ শব্দের অর্থ স্বভাব বা চরিত্র। আসলে শীল মানে সদাচার কিংবা সংযম। বিশেষ অর্থে নিয়মনীতিকেও বোঝায়। শীলের অনুশীলন ছাড়া চরিত্র গঠন করা যায় না। বৌদ্ধ দৃষ্টিকোণে বিচার করলে এ নিয়মনীতির অভ্যাস বা চর্চার নামই শীল। সুনীতির অনুশীলনে কায়, বাক্য ও মন পরিশুদ্ধ থাকে। স্বভাব সুন্দর হয়। রাগ প্রশমিত হয়। বিদ্বেষভাব থাকে না। মোহে আচ্ছন্ন থাকে না। হিংসা উৎপন্ন হয় না। পরিবারে শান্তি বিরাজ করে। এজন্য শীল পালনকারীকে শীলবান বলা হয়।
ত্রিপিটকে বিভিন্ন প্রকার শীলের কথা আছে। তন্মধ্যে পঞ্চশীল, অষ্টশীল, দশশীল, ভিক্ষুশীল অন্যতম। গৃহী বা সংসারী বৌদ্ধরা পঞ্চশীল পালন করে থাকে। তারা অষ্টমী, অমাবস্যা ও পূর্ণিমায় অস্টশীলও পালন করে। শ্রামণেরা দশশীল পালন করে থাকেন। ভিক্ষুরা ভিক্ষুশীলের ব্রত সম্পন্ন করেন। গৃহীরা সবসময় পঞ্চশীল পালনে সচেষ্ট থাকে।
শীল গ্রহণের কিছু নিয়ম আছে। প্রথমে মুখ, হাত, পা ভাল করে ধুয়ে নেবে। পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন কাপড় পরবে। চুল আঁচড়ে নেবে। বিহারে গিয়ে ভিক্ষুর কাছে পঞ্চশীল প্রার্থনা করবে। বিহার দূরে থাকলে নিজের ঘরেও বুদ্ধমূর্তির সামনে পঞ্চশীল গ্রহণ করা যায়। ভিক্ষুকে ‘ভন্তে’ বলে সম্বোধন করে দুহাত জোড় করে নতজানু হয়ে প্রথমে ভিক্ষুকে বন্দনা করে এরপর পঞ্চশীল প্রার্থনা করতে হয়:১. প্রাণী হত্যা করা থেকে বিরত থাকার শিক্ষাপদ গ্রহণ করছি।২. অদত্ত বন্তু (যা দেয়া হয়নি) গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকার শিক্ষাপদ গ্রহণ করছি।৩. মিথ্যা কামাচার থেকে বিরত থাকার শিক্ষাপদ গ্রহণ করছি।৪. মিথ্যাকথা বলা থেকে বিরত থাকার শিক্ষাপদ গ্রহণ করছি।৫. নেশাদ্রব্য সেবন করা থেকে বিরত থাকার শিক্ষাপদ গ্রহণ করছি।
পঞ্চশীল প্রদান করার পর ভন্তে বলবেন, ত্রিশরণসহ পঞ্চশীল প্রদান করা হলো। শ্রদ্ধার সাথে মনোযোগ সহকালে শীল পালন করবে। প্রার্থাকারীরা একসাথে সাধু, সাধু, সাধু বলে তিনবার সাধুবাদ দেবে। নতজানু হয়ে আবার বন্দনা করে পঞ্চশীল গ্রহণ শেষ করবে। সকাল-বিকাল দুই বেলা পঞ্চশীল গ্রহণ করবে। সযতেœ পঞ্চশীল পালন করবে। শীল মানব জীবন গঠনের ভিত্তি স্বরূপ। ব্যক্তিজীবন প্রতিষ্ঠার শ্রেষ্ঠ উপাদান। প্রব্রজিত হোক কিংবা গৃহী হোক প্রত্যেকে শীল পালন করা একান্ত কর্তব্য। সবাই সুখ আকাক্সক্ষা করে। শীলের মাধ্যমেই সুখ লাভ করা যায়। যে যত বেশি নিখুঁতভাবে শীল পালন করেন, তিনি তত বেশি সুখ লাভ করেন। শীলবান ব্যক্তিরা ক্ষমাশীল। তারা দুষ্কর্ম করেন না। শীল লঙ্ঘনকারীরা পাপ-পুণ্য, ভালো-মন্ত, ধর্ম-অধর্ম জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। সৎকর্ম ছাড়া আতœমুক্তি সম্ভব নয়। শীল মানুষের জীবনকে সুন্দর ও সুশৃঙ্খল করে। সবাই তাদের প্রশংসা করেন। তারা যশ-কীর্তির অধিকারী হন। সুতরাং বিশুদ্ধভাবে শীল পালন করার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]