আমাদের নির্বাচন ও বিদেশী পর্যবেক্ষক

আমাদের নতুন সময় : 10/01/2019

অম্লান দেওয়ান : নির্বাচনে বিদেশী পর্যবেক্ষক নিয়ে কথা হয়েছে এন্তার। কেউ বলেছেন, এবার  ইতিহাসের সবচাইতে কম সংখ্যক পর্যবেক্ষক ছিলেন। এটি নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে। তাদের যুক্তি, বাংলাদেশের মতো দেশে যত বেশি বিদেশী পর্যবেক্ষক থাকবেন ততই ভালো। তারা চোখকান খোলা রাখলে নির্বাচনের ত্রুটিবিচ্যুতি থাকার সম্ভাবনা কমে যায়।

কেউ আবার বলেছেন, নিবাচনে বিদেশিদের দরকারটাই বাকি? বিদেশি পর্যবেক্ষক নয়, এদেশের জনগণই বড় পর্যবেক্ষক।

খোঁজ-খবর নিয়ে জানা যায়, ২০০৮ সালে বিভিন্ন সংস্থার সর্বোচ্চ সংখ্যক বিদেশি পর্যবেক্ষক ছিলেন। সে সময় ৫৯৩ জন বিদেশি পর্যবেক্ষক অংশ নেন। আর এবার নির্বাচনে সবচাইতে কম সংখ্যক অংশ নিয়েছেন। ৩০-৪০ জনের মতো। নির্বাচনের পরদিন প্রধানমন্ত্রীর সংগে মতবিনিময় সভার পর বেশ কয়েকজন বিদেশি সাংবাদিক এ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমামের কাছে জানতে চেয়েছিলেন। তারা বলেছেন, নির্বাচন কি এমন এক সময় করা হলো, যখন বড় দিন? পাশ্চাত্যের বেশিরভাগ  লোকজন যখন বড়দিন পালন নিয়ে ব্যস্ত থাকে, এমন সময় নির্ধারণের রহস্য জানতে চাইছিলেন তাঁরা।

এইচ টি ইমামের সাফ জবাব : উইন্টার ইজ দ্যা বেস্ট টাইম। আর এ কারণেই এ সময় নির্বাচন করা হলো। বিদেশী পর্যবেক্ষক থাকার সঙ্গে সময় নির্ধারণের কোন সম্পর্ক নেই।

তবে উপস্থিত পর্যবেক্ষকদের কেউই নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেননি।

জাতিসংঘ নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে তাদের কাজ সেরেছে। আর ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন আর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এখনো ‘ওয়েইট এন্ড সি’ নীতিতে আছে বলেই মনে হচ্ছে।

ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের ডোমোক্রেসি সাপোর্ট এন্ড ইলেকশন কো-অরডিনেশন গ্রুপ অবশ্য আগেই জানিয়ে দিয়েছিলো তারা নির্বাচন নিয়ে কোন মন্তব্য করবে না। আর কেউ যদি এ ব্যাপারে মন্তব্য করেও তা ইসি’র মন্তব্য হিসেবে বিবেচিত হবে না। তা হবে তাদের ব্যক্তিগত মতামত। তারা আশা প্রকাশ করে, নির্বাচন পরিচ্ছন্ন, স্বচ্ছ ও অংশগ্রহণমূলক হবে। নাগরিকরা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবে।

বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত বেনজিতিরিন বলেছিলেন, সময় কম। বাজেট নেই। আর স্থানীয় পর্যায়ে অনেক ভালো ভালো পর্যবেক্ষক রয়েছেন। তারাই পর্যবেক্ষণ করবেন। তাই ইসি এবার কোন পর্যবেক্ষক পাঠাবে না।

তাদের একজন সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান তানিয়া ফস্টার। তিনি আমাকে বলেছেন, এটি তার জীবনের প্রথম নির্বাচন পর্যবেক্ষণ। তবে প্রতিটি ভোট  কেন্দ্রেই ভোটারদের আনন্দের সংগে ভোটদিতে দেখেছি। একই প্রতিষ্ঠানের আরেক পর্যবেক্ষক গৌতম ঘোষ বলেছেন, খুবই শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সবাই ভোট দিয়েছে। এখানকার নির্বাচন আর ভারতের নির্বাচনের মধ্যে পার্থক্য দেখিনি। সবাই দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দিয়েছেন। একই সুর শোনা গেছে নির্বাচন পর্যবেক্ষণে আসা অন্যদের কাছ থেকেও।

নির্বাচন পরবতীতে ভারত, চীন ও রাশিয়ার রাষ্ট্রপ্রধানরা একটি ভালো নির্বাচনের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। আরও অভিনন্দন বার্তা আসছে বলেই খবর পাওয়া যাচ্ছে। ভারত, চীন, রাশিয়ার পথে অন্য রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানদেরও অভিনন্দন বার্তা আসলে ধোঁয়াশা কেটে যাবে। সম্পাদনা : মুহাম্মদ নাঈম ও সালেহ্ বিপ্লব

 

 




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]