• প্রচ্ছদ » » গরিব মানুষের শিক্ষার মাধ্যম যেন এক দুঃখের উপাখ্যান


গরিব মানুষের শিক্ষার মাধ্যম যেন এক দুঃখের উপাখ্যান

আমাদের নতুন সময় : 10/01/2019

কামরুল হাসান মামুন

বাংলা মাধ্যমের তৃতীয় শ্রেণি থেকে জনসংখ্যা বৃদ্ধির কুফল শেখানো শুরু হয়। এ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের আদমশুমারি, নারী-পুরুষের শতকরা অনুপাত, জনসংখ্যার ঘনত্ব মুখস্ত করতে হচ্ছে। অথচ বিশ্বে জ্ঞান-বিজ্ঞানে যেসব জায়ান্ট যেমন ইউরোপ আমেরিকায় এই বয়সের ছেলেমেয়েরা কাঁদামাটি নিয়ে খেলে বা খেলাচ্ছলে পড়ে। অধিকাংশ সভ্য দেশে পরীক্ষাও নেওয়া হয় না। আর পাঠ্যবইয়ে এ ধরনের সিরিয়াস বিষয় থাকার কথাতো চিন্তাও করা যায় না। স্মপ্রতি প্রথম আলো পত্রিকার রিপোর্টে ষষ্ঠ শ্রেণির ‘বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়’ বইয়ের জনসংখ্যাবিষয়ক অধ্যায়ের একটি অনুচ্ছেদ একটি নমুনা প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। এটি দেখে একবার ভাবুন সৃজনশীলতার নামে আমরা কি বলদামি করছি। প্রশ্নটি নিম্নে হুবহু কপি অ্যান্ড পেস্ট করলাম তারপর বাকি কথাগুলো বলি।
‘জুন মাসের প্রচ- গরমে ফিরোজা ষষ্ঠ সন্তানের মা হন। ফিরোজার কর্মস্থলের মালিক সুশানের একমাত্র ছেলে থমসন নিজের কেনা বাড়ি থেকেই নিজস্ব গাড়িতে কাজে যায়। তার দেশে সবাই শিক্ষিত’। এটি পড়ে শিক্ষার্থীদের জলবায়ু, শিক্ষার হার, সমাজব্যবস্থা ও সামাজিক গতিশীলতার মধ্যে ফিরোজার ক্ষেত্রে জন্মহার তারতম্যের কোন কারণটি প্রযোজ্য, তার উত্তর দিতে হবে। একই সঙ্গে থমসনের দেশের ক্ষেত্রে ‘জন্মহার বেশি হবে, সুচিকিৎসার অভাব, জন্মহার কম হবে এবং খাদ্য ও বস্ত্রের অভাব’ এই চারটির মধ্যে কোন প্রভাবটি পরিলক্ষিত হতে পারে, তা বলতে বলা হয়েছে।
এই প্রশ্নটি আমাদের বেশ কয়েকজন শিক্ষাবিদকে করা হয়েছিলো। মোটাদাগে প্রায় সবাই বলেছেন, ‘এ অনুচ্ছেদ আমার কাছে বোধগম্য হচ্ছে না’! তাহলে কীভাবে আমাদের কোমলমতি ছেলেমেয়েদের জন্য প্রণীত বইয়ে এ ধরনের দুর্বোধ্য বিষয় ঢুকে যায়? এর কারণ একটিই। সেটি হলো অমার্জনীয় অবহেলা। যারা বইটি সম্পাদনার দায়িত্বে ছিলেন তাদের চরম অবহেলা। আসুন দেখি কারা ছিলো এর সম্পাদনায়। বইটির সম্পাদনায় ছিলেন অধ্যাপক ড. মুনতাসীর মামুন, অধ্যাপক শফিউল আলম, আবুল মোমেন, অধ্যাপক ড. মাহবুব সাদিক, অধ্যাপক ড. মোরশেদ শফিউল হাসান, অধ্যাপক ড. সৈয়দ আজিজুল হক এবং সৈয়দ মাহফুজ আলী। এবার এই নামের মানুষদের রাজনৈতিক পরিচয় একটু জেনে নিন তাহলেই সব ফকফকা হয়ে যাবে। এইটা শুধু আজকের ব্যাপার নয়। যখন যে সরকার ক্ষমতায় তখন সেই সরকারের ঘরানার লোকজনই এইসব কমিটিতে ঢুকে যায়। অর্থাৎ কমিটির মানুষ ঠিক করার ক্ষেত্রে প্রধান বৈশিষ্ট হলো রাজনৈতিক ঘরানা। আরো খোঁজ নিলে দেখতে পাবেন এই কমিটির হয়ত প্রায় সবার সন্তান ইংরেজি মাধ্যমে পড়ে। নিজের ছেলেমেয়ে ঐর শ্রেণির বাংলা মাধ্যমে পড়লে বিষয়টা সম্মন্ধে একটু ধারণা থাকতো আর যেহেতু নিজের সন্তান পড়বে সেহেতু অবহেলা হয়তো করতো নয়। উচিত ছিলো এমন মানুষদের কমিটিতে নিয়োগ দেওয়া যাদের শিক্ষাগত এক্সপার্টিজ এবং শিশুশিক্ষার প্রতি একটি বিশেষ দরদ আছে।
আসলে এই যে বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক দেওয়া এটি একটি বিশাল প্রজেক্ট। আর প্রজেক্ট মানেই অনেক মানুষের উপার্জনের ব্যবস্থা। বিনামূল্যে দেয় বইগুলো হাতে নিয়ে একটু দেখুন তো। এর মলাট থেকে শুরু করে প্রচ্ছদ এবং ভিতরের কনটেন্ট এর কোথাও শিশুদের প্রতি মমতাবোধের ছাপ দেখি না। ছোট ক্লাসের বইয়ের পাতাগুলো হওয়া উচিত ভালো মানের যেন এক বছর টিকে থাকে। ছোট ক্লাসের বইয়ের প্রচ্ছদ এবং ভিতরে অনেক ংপযবসধঃরপ ফরধমৎধস বা রঙিন ছবি থাকা আবশ্যক! ছোটবেলায় দেখতাম বেশ কিছু নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস আমাদের রেশন দেওয়া হতো। সেগুলোর মান বাজারে পাওয়া অন্য পণ্য থেকে সর্বনিম্নমানের ছিলো। অর্থাৎ এইসবের সাথে যারা জড়িত তাদের মধ্যে দেশ এবং দেশের মানুষের প্রতি দায়িত্ব জ্ঞান এবং দেশপ্রেম খুবই কম।




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]