বঙ্গবন্ধুকে ফিরে পেতে তখন সারাবিশ্বই উদগ্রিব ছিলো : ড. অনুপম সেন

আমাদের নতুন সময় : 10/01/2019

আশিক রহমান : বঙ্গবন্ধু দেশে না ফিরলে কী হবে দেশের? দেশ সঠিক পথে থাকবে তো? নাকি ধ্বংসের পথে যাবে দেশ? কেননা দেশ তখন যুদ্ধবিধ্বস্ত। কিন্তু যখন থেকে বাংলাদেশের মানুষ জেনে যায় যে, জাতির জনক পাকিস্তান থেকে ৮ জানুয়ারি মুক্তি পেয়ে লন্ডন থেকে দিল্লি হয়ে স্বদেশে ফিরছেন তখন থেকেই সবাই অধীর অপেক্ষা করছিলো তার জন্য। মুক্তিযুদ্ধের সময় বঙ্গবন্ধু সশরীরে উপস্থিত ছিলেন না। কিন্তু যুদ্ধ হয়েছে তার নামেই। বঙ্গবন্ধুকে ফিরে পেতে তখন সারাবিশ্বই উদগ্রিব ছিলো। বাংলাদেশের কোটি মানুষের আকাক্সক্ষা, শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধীসহ বিশ্বনেতাদের পাকিস্তানের ওপর প্রবল চাপ ও আন্তরিক প্রচেষ্টার ফলে পাকিস্তানিরা বঙ্গবন্ধুকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়। জনক ফিরে আসেন তার আপন ঠিকানায়। জনতা ফিরে পায় তার প্রিয় নেতাকে। এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে বলছিলেন, শিক্ষাবিদ ও আওয়ামী লীগের উপদেষ্টাম-লীর সদস্য অধ্যাপক ড. অনুপম সেন।

তিনি আরও বলেন, যখন তাকে আমরা পেলাম স্বাধীন দেশে, তিনি ফিরলেন তার প্রিয়মাতৃভূমিতে সে কি উল্লাস সবার, সে কি আনন্দ-অশ্রু জনতার চোখে। যে যার মতো তখন আনন্দ করছিলো। উচ্ছ্বাস প্রকাশ করছিলো। স্বস্তিপ্রকাশ করছিলো। তখন জনতার সবচেয়ে আপন, প্রিয় নেতা তো একজনই, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তাকে ফিরে পাওয়া তো বিরাট স্বস্তি। আনন্দ। ভালোলাগার ছিলো।

বঙ্গবন্ধু যখন দেশে ফিরছিলেন, তখনই কোনো এক জায়গায় শ্রীমতি ইন্ধিরা গান্ধীর কাছ থেকে এই প্রতিশ্রুতি আদায় করে নিয়েছিলেন যে, মিত্রবাহিনী তিন মাসের মধ্যে ফিরে যাবে। এটি কিন্তু বিশ্ব ইতিহাসে খুব দুর্লভ, সাধারণত এমনটি হয় না। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় আমেরিকা জাপান দখল করেছিলো, এখনো কিন্তু জাপানে আমেরিকার সৈন্য রয়েছে। এমনকি জার্মানি ও ইউরোপের বিভিন্ন জায়গায় এমনটি দেখা যায়।

যারা মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন তাদের সবার হাতে তখন অস্ত্র। তিনি মিটিং করে যাদের কাছে অস্ত্র ছিলো সেগুলো উদ্ধার করেছিলেন। সবাইকে বলা হয়েছিলোÑ অস্ত্র সমর্পণ করার। অতি অল্প সময়েই তারা অস্ত্র সমর্পণ করেছিলো। সেই কাদের সিদ্দিকী থেকে শুরু করে এমন কেউ নেই যে তিনি বঙ্গবন্ধুর কাছে অস্ত্র সমর্পণ করেননি। যারা এটি করেননি, ধারণা করা হয়েছিলো তারা দেশদ্রোহী।

পাকিস্তান সৃষ্টির পর দেশটির সংবিধান রচনার ক্ষেত্রে প্রায় ৯ বছর সময় নিয়েছিলো। সেজন্য পাকিস্তানের ভিত্তিটিই আলগা হয়ে গিয়েছিলো। সেখানে মাত্র ১০ মাসের মধ্যে বঙ্গবন্ধু একটি অসাধারণ সংবিধান রচনা করেছিলেন। উপহার দিয়েছিলেন দেশকে, গণপরিষদ থেকে পাস করিয়ে নিয়ে। এটি তো একটি অসাধারণ কাজ। তিনি পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছিলেন। সেই পরিকল্পনার মাধ্যমে অর্থনীতি, শিল্প, ব্যবসা-বাণিজ্য এগিয়ে নেওয়ার জন্য তিনি তাৎক্ষণিক অনেক উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন। পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা তখন একটি বিরাট ব্যাপার। এই পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা গ্রহণ করতে অনেক দেশ অনেক সময় নিয়েছে। কিন্তু বঙ্গবন্ধু কোনো সময়ই নেননি। তিনি পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার মাধ্যমে দেশকে অগ্রগতির পথে এগিয়ে নিয়ে গেছেন।

বঙ্গবন্ধু যুদ্ধবিধ্বস্ত একটি দেশ পেয়েছিলেন। যুদ্ধে এই দেশটির বিরুদ্ধে পাকিস্তান পোড়ামাটি নীতি গ্রহণ করেছিলো, যাতে এদেশের মানুষ খেতে না পায়, অভাব-অনটনে থাকে, দারিদ্র্যের চাপে সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়ে যায়। এজন্যই তৎকালীন আমেরিকার পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জার বলেছিলেন, ‘বাংলাদেশের কোনো ভবিষ্যৎ নেই। কারণ এটি হলো একটি তলাবিহীন ঝুড়ি।’ কেন কিসিঞ্জনার এমনটি বলেছিলেন, কারণ তখন এখানে আসলে কিছুই ছিলো না। সেই কিছু ছিলো না দেশটিকে বঙ্গবন্ধু গড়ে তোলার কাজ শুরু করলেন। পঁচাত্তরের যখন তিনি সপরিবারে নিহত হন, তখন বাংলাদেশের অর্থনীতি প্রায় দাঁড়িয়ে গেছে। কৃষিতেও স্বয়ংসম্পূর্ণের পথে ছিলো। শিল্পে অসাধারণ উন্নয়ন ঘটেছিলো। তিনি কি না করেছিলেন তখন। সম্ভাব্য প্রায় সবকিছু করে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন। ভয়ানক রকম চক্রান্ত করেই তো তাকে হত্যা করা হয়েছিলো। তিনি বলেছিলেন, আমি এদেশের মানুষের জন্য সব কিছু করছি, কিন্তু কেউ ভাবেনি এভাবে তাকে হত্যা করতে পারে। তার এই শূন্যতা কখনো পূরণ হওয়ার নয়।




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]