বাংলাদেশ নিয়ে ইউরোপিয় ইউনিয়নের দ্বিমুখি নীতি!

আমাদের নতুন সময় : 10/01/2019

আসিফুজ্জামান পৃথিল : ভারতের নিউ দিল্লি টাইমস বাংলাদেশ বিষয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ভাবনা নিয়ে সম্প্রতি একটি নিবন্ধ প্রকাশ করেছে। নিবন্ধে দিল্লিভিত্তিক পত্রিকাটি বলেছে, ২০১৮ সালের ১৫ নভেম্বর বাংলাদেশের ‘বাজে ধরণের মানবাধিকার পরিস্থিতির’ সমালোচনা করে একটি রেজুলেশন পাশ করে ইউরোপিয় পার্লামেন্ট। অন্য সব বিষয়ের সঙ্গে এখানে উঠে এসেছে মত প্রকাশে স্বাধীনতার অভাব, গ্রেফতার, নির্যাতন এসব প্রসঙ্গ। এর আগে ২০১৮ সালের মে মাসে জাতিসংঘ প্রকাশ করে ইউনিভার্সাল পিরিওডিক রিভিউ (ইউপিআর)। এটিতে মানবাধিকার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অসামান্য অগ্রগতির অকুণ্ঠ সুনাম করা হয়। কিছুদিন আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভূমিধ্বস বিজয়ের মাধ্যমে আরো একবার সরকার গঠন করেছেন। বাংলাদেশ তার নেতৃত্বে স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা, নারীর অধিকারের মতো খাতে ঈর্ষাজনক অগ্রগতী করেছে। যদি মাত্র ৭ মাস আগে জাতিসংঘ বাংলাদেশের ভূয়সী প্রশংসা করে থাকে, তাহলে ইউরোপিয় ইউনিয়নের এই রেজুলেশনের অর্থ বুঝতে পারা কঠিন। নিউ দিল্লি টাইমস

লৈঙ্গিক সমতায় বাংলাদেশের প্রভূত উন্নতির স্বীকৃতি দিয়েছে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম। ২০১৬ এবং ১৭ সালে দেশটি লৈঙ্গিক সমতায় দক্ষিণ এশিয়ায় সবার শীর্ষে অবস্থান করছিলো। এই ধরণের সূচবে বাংলাদেশ পাকিস্তানের অনেক উপরে অবস্থান করলেও ইউরোপিয় পার্লঅমেন্ট পাকিস্তানের সমালোচনা করে, এমনটা সচরাচর দেখা যায়না। শেখ হাসিনা লৈঙ্গিক সমতার ক্ষেত্রে তার প্রতিশ্রুতি ক্রমাগত পূরণ করে যাচ্ছেন। সরকার শিক্ষাখাতে বড় ধরণের বিনিয়োগ করেছে এবং করছে। এতোকিছুর পরেও ইউরোপিয় পার্লামেন্ট বলছে, বাংলাদেশে নারীর অধিকার খর্ব হয়েছে। এটা একদম অনৈতিক। ইউরোপিয় পার্লামেন্টের রেজুলেশনের একটি বক্তব্য ছিলো, যদিও বাংলাদেশে বাল্যবিবাহ কমেছে তবুও বাল্যবিবাহ সংক্রান্ত একটি আইনের ধারায় বলা হয়েছে বিশেষ ক্ষেত্রে অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের বিয়ে দেওয়া যাবে। যদিও ২০১৭ সালের বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ আইনের একটি ধারায় এরকম কথা বলা হয়েছে, কিন্তু সঙ্গে এও বলা হয়েছে এর অপব্যববহার করলে শাস্তি দেওয়া হবে। বাংলাদেশে মেয়েদের বিয়ের জন্য নির্ধারিত বয়স ১৮। যা ইউরোপের অনেক দেশেই মানা হয় না। ইউরোপিয় পার্লামেন্টে বাংলাদেশের আইন নিয়ে কথা বলছে। কিন্তু তারা ফ্রান্সের আইন নিয়ে কথা বলছে না। এটি ভ-ামি এবং দ্বিচারিতা।

লাখ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশকে যে সামাজিক ও অর্থনৈতিক চ্যঅলেঞ্জ মোকাবেলা করছে সে সম্পর্কে কোন মন্তব্য করেনি ইউরোপিয় পার্লামেন্ট। বরং তারা সমালোচনার সুরে বলছে, বাংলাদেশ ও মিয়ানমার যৌথভাবে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের চেষ্টা করছে। অথচ শেখ হাসিনা স্পষ্টভাবে বলেছেন, যতক্ষণ নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত না হবে জোর করে কোন রোহিঙ্গাকে ফেরত পাঠানো হবে না। এক্ষেত্রে ইউরোপিয় পার্লামেন্ট বাংলাদেশের প্রশংসার পরিবর্তে নিন্দা করে অন্যায় করেছে। ইউরোপিয় ইউনিয়নের উচিৎ বাংলাদেশকে তার প্রাপ্য মর্যাদা এবং কৃতিত্ব দিয়ে নিজেদের দ্বিচারিতা বন্ধ করা। সম্পাদনা : ইকবাল খান




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]