মন্ত্রণালয়ে দীপু মণির ঝাড়ু দানের চিত্র কি ষড়যন্ত্রের প্রথম ধাপ?

আমাদের নতুন সময় : 10/01/2019

অসীম সাহা : আমি মনেপ্রাণে কামনা করেছিলাম, দীপু মনি মন্ত্রী হোন। সংসদ সদস্য হবার পর বহফোনে একটি ক্ষুদে বার্তায় অভিনন্দন জানানোর সঙ্গে সঙ্গে তিনি মন্ত্রী হবেন, এই প্রত্যাশা করেছিলাম। তা ছাড়া সংসদ নির্বাচনের পূর্বেও তাকে নিয়ে ‘দৈনিক আমাদের নতুন সময়’ পত্রিকায় একটি কলামও লিখেছিলাম। আমার প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে। দীপু মন্ত্রী হয়েছেন। আমি উল্লসিত ও আনন্দিত। আমি তাকে আমার প্রাণঢালা অভিনন্দন জানাই এবং প্রত্যাশা করি, তার মন্ত্রিত্বের সময়কালে তিনি যেন সততার সঙ্গে তার কার্যকাল পূর্ণ করতে পারেন।

কিন্তু মন্ত্রিত্ব পেতে না পেতেই কিছু নির্বোধ ও ঈর্ষাপরায়ণ লোকজন তাকে নিয়ে ষড়যন্ত্র শুরু করে দিয়েছে। মুখগ্রন্থে তার ঘর ঝাড়– দেয়ার একটি ছবি ভাইরাল করে দিয়ে বলা হয়েছে, প্রথম দিনই তিনি মন্ত্রণালয়ে গিয়ে নিজ হাতে ঝাড়– নিয়ে অফিস ঝাড়– দিতে শুরু করেছেন। যে স্তাবক এটা করেছেন, তিনি হয়তো এটা দিয়ে দীপু মনির ওপর অকারণ মহত্ব আরোপের চেষ্টা করেছেন অথবা তাকে হেয় করার জন্য এমন একটি হাস্যকর কাজ করেছেন।

দীপুকে যারা চেনেন, তারা জানেন, তিনি সত্যিকার অর্থেই একজন সংসারী মানুষ। আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সম্পাদক হওয়া সত্ত্বেও তিনি নিজহাতে সংসারের কাজ করতে ভালোবাসতেন। আপাদমস্তক একজন সংস্কৃতিবান মানুষ তিনি। তার স্বামী ও ছেলে বংশীবাদক। অনেক অশিক্ষিত নেতার মতো দীপু মনির অবস্থান নয়। নিয়মিত বিভিন্ন বিষয়ে বই পাঠ করা রীতিমতো তার অভ্যাস। নিজেই ঘুরে ঘুরে পছন্দসই বই কেনেন এবং তা নিয়ম করে পাঠ করেন। ফলে একজন গৃহিণী এবং সংস্কৃতিবান মানুষকে নিয়ে ইয়ার্কি-ফাজলামো করা অত্যন্ত গর্হিত কাজ। নিজ হাতে ঘরঝাড়– দেয়ার যে ছবিটি ভাইরাল করে তার অফিস ঝাড়– দেয়ার কল্পকাহিনি তৈরি করে তা ভাইরাল করা হয়েছে, তিনি নিজেই সে-সম্পর্কে বলেছেন, নির্বাচনের কিছুদিন আগে তার চাঁদপুরের বাড়িতে তিনি নিজ হাতে ঘর ঝাড়– দিচ্ছিলেন। সেই ছবি কীভাবে অন্যের হাতে এলো এবং তা ভাইরাল হয়ে গেলো, সেটাও এক বিস্ময়ের ব্যাপার! এটা যে তার খুব আপন কেউ না হলে অন্য কেউ করতে পারেন না, সেটা স্পষ্ট। তবে ব্যাপারটা যেই করুক, তিনি যে কাজটা অন্যায় করেছেন, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। দীপু মনির মতো এমন একজন শোভন সুন্দর মানুষকে এটা নিয়ে নানাজন নেতিবাচক সমালোচনার সুযোগ পাচ্ছে!

দীপু যখন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন, তখনও তার বিদেশসফর নিয়ে পত্রপত্রিকার এক শ্রেণির সাংবাদিক থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত পর্যায় পর্যন্ত সমালোচনার তিরে তাকে ক্ষতবিক্ষত করতে দ্বিধাবোধ করেননি। বাঙালির চিরাচরিত স্বভাব অনুযায়ী এবারও ‘ছিদ্রান্বেষণে’ পারদর্শীরা ইতিমধ্যেই তার ত্রুটি সন্ধান করতে শুরু করেছেন। একটু গন্ধ পেলেই তারা মৌমাছির মতো তাঁর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়তে একটুও দ্বিধাবোধ করবেন না। এবার তাকে এমন একটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে, যেটি একটি অত্যন্ত সেনসিটিভ মন্ত্রণালয়ে। এখানে তাকে অত্যন্ত সতর্কতা ও দক্ষতার সঙ্গে সবকিছু মোকাবেলা করতে হবে। নুরুল ইসলাম নাহিদ যেখানে যেখানে ব্যর্থ হয়েছেন, সে-স্থানকে চিহ্নিত করে তা মোকাবেলা ও তার সমাধান করতে হবে। তাকে মনে রাখতে হবে, মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরেই তাকে ব্যর্থ করে দেয়ার লোকের অভাব নেই। দরিয়ার মাঝিকে প্রবল তুফানের মধ্যেও যেভাবে শক্ত হাতে হাল ধরতে হয়, দীপু মনিকেও তাই করতে হবে। তাকে মনে রাখতে হবে, তার হারাবার কিছু নেই। তিনি ৫ বছর মন্ত্রিত্ব করেননি। তাতে তার কী ক্ষতি হয়েছে? কিছুই না! বরং তার ইমেজ বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি যে নৌকার হাল ধরেছেন, সে-নৌকার অবস্থা এখনো টলোমলো। তা ছাড়া তাকে ব্যর্থ করে দিতে মন্ত্রিত্ব হারানোরাও নানা ষড়যন্ত্র করবেন। মনে রাখতে হবে, নিহত ব্যাঘ্রের চেয়ে আহত ব্যাঘ্র অনেক বেশি ভয়ংকর। যে কোনো সময় প্রতিশোধস্পৃহায় তারা যে কোনো ধরনের আক্রমণ শানাতে পারেন। এটা ভাবার কোনো কারণ নেই, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যে চিন্তা থেকে এবার মন্ত্রিসভায় পরিবর্তন এনেছেন, পদ হারানোরা তাকে সহজভাবে মেনে নিয়েছেন। বিশেষত শরিক দলের অনেকেই এরই মধ্যে উচ্চকণ্ঠে তাদের অপ্রাপ্তির যন্ত্রণা প্রকাশ করতে শুরু করেছেন। আর আছে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার পথ প্রশস্তকারীরা। ১০ বছরে তারা যে আনন্দে নিজেদের দলের লোকদের নিয়ে ‘খাদ্যউৎসবে’ মেতে উঠেছিলেন, সেই উৎসবের পথ বন্ধ করে দেয়াতে তারা কি নেত্রীর ওপর খুশি হবেন নাকি তাঁকে বিপদে ফেলার সব ধরনের চেষ্টা করবেন, অতীত অভিজ্ঞতা থেকে তা বুঝতে তো আমাদের অসুবিধে হওয়ার কথা নয়! এটা দেখার জন্য বেশিদিন অপেক্ষা করতে হবে না। তারা ভোল পাল্টালো বলে। দেখা যাবে, নেত্রীর সঙ্গে রশি টানাটানিতে হেরে গিয়ে আদর্শহীন এইসব লোক হয় বিএনপি না হয় তকথাকথিত যুক্তফ্রন্টের সঙ্গে ফেবিকলের  আঠা নিয়ে যুক্ত হয়ে গেছেন!

তাই উভয়পক্ষীয় শত্রুকে মোকবেলা করেই দীপু মনির মতো আরো অনেক মন্ত্রীকে জয়লাভ করতে হবে। এখানে পরাজয়ের সুযোগ নেই। দীপু তার নৈতিকতা, সততা ও আন্তরিকতা দিয়ে তার মন্ত্রিত্বের কঠিন দরিয়া নির্বিঘেœ না হোক, সাহসের সঙ্গে পার হয়ে যাবেন, এটাই আমি প্রত্যাশা করি।

লেখক : কবি ও সংযুক্ত সম্পাদক, দৈনিক আমাদের নতুন সময়

 




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]