ইসরায়েল কি একটা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র?

আমাদের নতুন সময় : 11/01/2019

মো. ফাখরুল ইসলাম চৌধুরী : ইকনোমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের বৈশ্বিক গণতন্ত্র সূচক অনুযায়ী ইসরায়েল একটি ত্রুটিপূর্ণ গণতন্ত্রের দেশ। তারপরও ২০১৭ সালে সেই সূচকে ইসরায়েলের অবস্থান তিরিশতম। মধ্যপ্রাচ্যের বিচারে এটিই সেরা অবস্থান।  মধ্যপ্রাচ্যের দ্বিতীয় ও তৃতীয় গণতান্ত্রিক দেশ হিসাবে যথাক্রমে শততম ও একশ’ চারতম অবস্থান তুরস্ক ও লেবাননের। উল্লেখ্য, বাংলাদেশ এই সূচকে বিরানব্বইতম অবস্থানে আছে।

তবে ২০১৩ সালের ইসরায়েল ডেমোক্রেসি ইনস্টিটিউটের এক জরিপে, আরব বংশোদ্ভূত ইসরায়েলিদের ৬৬ শতাংশই এটা বিশ্বাস করে না যে, কোন রাষ্ট্রের পক্ষে একই সঙ্গে ইয়াহুদি ও গণতান্ত্রিক হওয়া সম্ভব। অন্যদিকে একই জরিপে অংশ নেয়া ৭৫ শতাংশ ইসরায়েলি ইয়াহুদি মনে করে তা অবশ্যই সম্ভব।

দেশটির সমালোচকদের অধিকাংশই মনে করেন, শুধুমাত্র বিচার ব্যবস্থাকে বিশ্লেষণ করেই বলা যায় ইসরায়েল গণতান্ত্রিক নয়। যে দেশ তার ভূখ-ের বিশ শতাংশ মানুষকে, তথা অ-ইয়াহুদি/মুসলিম/আরবীয় সংখ্যালঘুদের, দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিকের মর্যাদা দেয়, সে গণতান্ত্রিক দেশ হবার প্রাথমিক শর্তটাই পূরণ করতে ব্যর্থ।

উল্টোভাবে ইসরায়েলের সমর্থকরা বলেন, দেশটির নির্বাচন ব্যবস্থা চমৎকার, কথা বলার অধিকার অক্ষুন্ন, জেলে যাবার বা মারা যাবার আতঙ্ক ছাড়াই যে কেউ সরকারের সমালোচনা করতে পারে। বিশ্বাসের স্বাধীনতা আছে, আছে নিজ ধর্ম পালনের পূর্ণ স্বাধীনতাও।

যদি গণতান্ত্রিক হবার শর্ত হিসেবে জনগণের ভোটে নির্বাচিতদের দ্বারা নিয়মতান্ত্রিক শাসনকে বোঝায়, তাহলে ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যের মত ইসরায়েলও একটি গণতান্ত্রিক দেশ। কিন্তু এই সজ্ঞার পরিধি যদি একটু বড় করে ভাবতে চেষ্টা করি তাহলে কিছু প্রশ্ন দেখা দেয়। দেশের সব নাগরিকের সমান অধিকার, রাজনৈতিক অথবা সামাজিক সাম্য, সবার বাকস্বাধীনতা – এসব বিবেচনাকে আমলে নিলে বলতেই হয়, আনুষ্ঠানিকভাবে ইসরায়েল গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হলেও প্রকৃত অর্থে তাকে গণতান্ত্রিক বলা কঠিন।

উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলাকে সেখানে রাষ্ট্রদ্রোহিতা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। যার শাস্তি মৃত্যুদ-ও হতে পারে। সন্ত্রাসী হামলার ঝুঁকি কমানোর নামে সেখানকার আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সুবিদিত বিচার বহির্ভূত হত্যাকা-ের কথাও এখানে উল্লেখ করতে হয়। যার শিকার অ-ইয়াহুদি মানুষেরা।

প্রাচীন গ্রিসে দাস প্রথার নামে মানুষকে শেকলে আটকে রেখেও গণতান্ত্রিক হওয়া সম্ভব ছিলো। কিন্তু আধুনিক বিশ্বে এটাই স্বীকৃত যে, কোন শাসনকে গণতান্ত্রিক বলা যাবে না, যদি সে তার সব নাগরিকের  মানবাধিকার ও ভোটের অধিকার অস্বীকার করে।

জন্মলগ্নে ইসরায়েলের নেতারা দেশটির ইয়াহুদি পরিচয়ের পাশাপাশি গণতান্ত্রিক হবার ওপর জোর দিয়েছিলো। কিন্তু ২০১৮ সালে পাস হওয়া একটা নতুন আইন ইসরায়েলের গণতান্ত্রিক হবার দাবিকে হাস্যকর পর্যায়ে নিয়ে গেছে।

‘মৌলিক আইন’ নামে পরিচিত এ আইনে ইসরায়েলকে ইয়াহুদিদের জাতিরাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা দেয়া হয়েছে। আরবি ভাষার ওপরে স্থান দেয়া হয়েছে হিব্রু ভাষাকে। উৎসাহিত করা হয়েছে নতুন নতুন ইয়াহুদি বসতি স্থাপনকে। সেখানে সংখ্যালঘু বিশ শতাংশ মানুষের অস্তিত্বের কোন উল্লেখই নেই।




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]