এক নজরে আধুনিক বিজ্ঞানে মুসলিম মনীষীদের আবিষ্কারসমূহ

আমাদের নতুন সময় : 11/01/2019

হাফেজ মাওলানা আহসান জামিল

 

জ্ঞান, বিজ্ঞান, চিকিৎসা, দর্শন, শিল্প, সাহিত্য ও বিশ্ব সভ্যতায় মুসলমানদের যে যোগপযোগী অবদান রয়েছে তা আমরা অনেকেই জানিনা। আর বিশ্ব সভ্যতায় মুসলমানদের তথা মুসলিম মনষীদের যুগ শ্রেষ্ঠ কোন অবদান আছে কিনা অন্তত মুসলিম হিসেবে তা জানার চেষ্টাও করিনা।এর অন্যতম কারণ হলো পাশ্চাত্য সভ্যতার ধারক ও বাহক এবং তাদের অনুসারীগণ ষড়যন্ত্রমূলকভাবে মুসলিম মনষীদেরকে মুসলমানদের স্মৃতিপট থেকে সম্পূর্ণরূপে মূছে ফেলার জন্য ইসলামের ইতিহাস এবং মুসলিম মনষীদের নামকে বিকৃতভাবে লিপিবব্ধ করেছে।

তাই মুসলমানরা মুসলিম মহা-মনষীদের সঠিক ইতিহাস না জানার কারণে অকপটে একথা বলতেও কোন প্রকার দ্বিধা করছেনা যে, ‘সভ্যতার উন্নয়নে মুমলমানদের কোন অবদান নেই’। শুধু তাই নই শিল্প, সাহিত্য, ইতিহাস, দর্শন, জ্যোর্তিবিদ্যা, ফিজিক্স, ক্যামিস্ট্রি এমনকি চিকিৎসা শাস্ত্রেও আমরা আসলে পিছিয়ে আছি, বা উক্ত বিষয়ে মুসলমানগণ অমুসলিমদের নিকট চির ঋনী। আসলে এ বিশ্বাস সঠিক নয়। বরং জগণ্য মিথ্যারও নিচে।

পৃথিবী কাঁপানো স্বরনীয় মুসলিম আবিস্কারকদের মধ্যে যারা রয়েছেন-

া            আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের জনক ইবনে সিনা। তিনি শুধু চিকিৎসা বিজ্ঞানের জনকই না মাত্র ১৬ বছর বয়সে তিনি জ্ঞানী গুনি চিকিৎসক এবং মনীষীদের পড়িয়েছেন। শুধু তাই নয় পদার্থ বিজ্ঞান, দর্শন, ধর্মতত্ব, জ্যামিতি, গনিত, চিকিৎসা বিজ্ঞান ইত্যাদি বিষয়ে শতাধিক গ্রন্থ রচনা করেন।

া            পদার্থ বিজ্ঞানে শূণ্যের অবস্থান নির্ণয় কারী হলেন-আল ফারাবি। পদার্থ বিজ্ঞানে শূণ্যতার অবস্থান তিনিই প্রমাণ করেছিলেন। একজন দার্শনিক হিসেবেও তিনি প্রথম সারিরই ছিলেন।

া            রসায়নের জনক -জাবির  ইবনে হাইয়্যান। পৃথিবীর ইতিহাসে তিনিই সর্বপ্রথম বিজ্ঞান সম্মত পদ্ধতিতে রসায়নের প্রাথমিক প্রক্রিয়াগুলো চর্চা করার উপায় উদ্ভাবন করেন।

া            বীজগনিতের জনক- মূসা আল খাওয়ারিজমি। এখন পর্যন্ত গনিত বিদ্যার যে উন্নয়ন এবং এর সহায়তায় বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় যে উন্নতি ও আবিস্কার সম্ভব হয়েছে, তার পিছনে আল খাওয়ারিজমির উদ্ভাবিত গনিত বিষয়ক নীতিমালারই বেশী অবদান।

া            বিশ্বের সেরা ভূগোলবিদ হলেন-আল বেরুনি। যিনি আবিস্কার করেন পৃথিবী কিভাবে নিজ কক্ষপথে ঘূর্ণায়মান। বল বিদ্যার প্রবর্তকও আল বেরুনিকেই বলা হয়।

া            এনালিটিক্যাল জ্যামিতির জনক হলেন-ওমর খৈয়াম। তিনি জ্যোর্তিবিদ হিসেবেও সর্বাধিক পরিচিত ছিলেন।

া            সালফিউরিক এসিডের আবিস্কারক বলা হয় -আল রাযিকে। তিনি গুটি বসন্তসহ আরো অনেক রোগ ও তার চিকিৎসা পদ্ধতি আবিস্কার করেন।

া            হৃদযন্ত্রে রক্ত চলাচল আবিস্কার করে যিনি সর্ব প্রথম ব্যাপকতা সৃষ্টি করেন তিনি হলেন -ইবনুল নাফিস। ইবনুল নাফিস ই সর্বপ্রথম মানবদেহে রক্ত সঞ্চালন পদ্ধতি , শাস নালী, হৃদপিন্ড, শরীরের শিরা-উপশিরায় বায়ু ও রক্তের প্রবাহ ইত্যাদি সম্পর্কে বিশ্বের জ্ঞান ভান্ডারকে অবহিত করেন।

া            পৃথিবীর ব্যাস নির্ণয় করেন -আল ফারগানি।

া            বীজ গনিতের প্রতিক উদ্ভাবন করেন- আল কালাসাদি।

া            ঘড়ির পেন্ডুলাম আবিস্কার করেন-ইবনে ইউনুস।

া            মিল্কিওয়ের গঠন শনাক্তকারী হলেন-নাসিরুদ্দীন তুশি।

া            এলজাব্রায় প্রথম উচ্চতর পাওয়ার ব্যবহার করেন-আবু কামিল।

া            ত্রিকোনমিতির জনক হলেন-আবুল ওয়াফা।

া            পৃথিবীর আকার ও আয়তন নির্ধারণ করনে -বানু মূসা।

া            পৃথিবীর প্রথম নির্ভূল মানচিত্র অংকন করেন -আল ইদ্রিসী।

 




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]