গণতান্ত্রিক দেশের তালিকায় নেই বাংলাদেশ : ইকোনমিস্ট

আমাদের নতুন সময় : 11/01/2019

আসিফুজ্জামান পৃথিল :  যুক্তরাজ্যের গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইকোনমিস্ট ইন্টালিজেন্স ইউনিটের (ইইইউ) গণতন্ত্র বিষয়ক প্রতিবেদন অনুযায়ী গণতান্ত্রিক দেশের তালিকায় বাংলাদেশের নাম নেই। এমনকি ত্রুটিপূর্ণ গণতন্ত্রের তালিকাতেও নেই বাংলাদেশের নাম। এই তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান গণতান্ত্রিক আর স্বৈরতান্ত্রিক দেশের মাঝামাঝি অবস্থানে। এই অবস্থানকে ইইইউ বলছে হাইব্রিড রেজিম। ইইই, বিবিসি

তবে বৈশ্বিক গণতন্ত্র সূচকে ২০১৮ সালে বাংলাদেশের স্কোর আগের বছরের তুলনায় ০.১৪ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১৭ সালে বাংলাদেশের অবস্থান ছিলো ৯২তম। এবারের সূচকে তা ৪ ধাপ এগিয়ে এসেছে ৮৮ নম্বরে।  ইআইইউ প্রতিটি দেশের গণতন্ত্র সূচক পরিমাপ করতে পাঁচটি মানদ- ব্যবহার করে। সেগুলো হলো; নির্বাচনী ব্যবস্থা ও বহুদলীয় অবস্থান, নাগরিক অধিকার, সরকারে সক্রিয়তা, রাজনৈতিক অংশগ্রহণ, এবং রাজনৈতিক অংশগ্রহণ। প্রতিটি মাণদ-ের ০ থেকে ১০ স্কোর ধরে গড় করা হয়। এই স্কোরের ভিত্তিতেই প্রতিটি দেশকে ৪টি ক্যাটাগরিতে ফেলা হয়। স্বৈরতন্ত্র, হাইব্রিড রেজিম, ত্রুটিপূর্ণ গণতন্ত্র এবং পূর্ণাঙ্গ গণতন্ত্র।

এই হিসেব অনুযায়ী, একটি দেশকে ‘পূর্ণ গণতান্ত্রিক’ অবস্থায় যেতে হলে গণতান্ত্রিক সূচকে ৯ থেকে ১০ স্কোর করতে হয়। যেসব দেশের স্কোর ৭ থেকে ৮ সেসব দেশকে ‘ত্রুটিপূর্ণ গণতন্ত্র’ বলা হয়েছে। এর নিচের অবস্থান ‘হাইব্রিড রেজিম’-এ তালিকাভুক্ত দেশগুলোর স্কোর ৫ থেকে ৬ এবং ‘স্বৈরতান্ত্রিক” দেশগুলোর স্কোর ০ থেকে ৪ এর মধ্যে। ১৬৭টি দেশের মধ্যে মাত্র ২০টি দেশ গণতন্ত্রের তালিকায়, ৫৫টি দেশ ত্রুটিপূর্ণ গণতান্ত্রিক দেশের তালিকায়, ৩৯টি দেশ হাইব্রিড রেজিমের তালিকায় এবং ৫৩টি দেশ স্বৈরতান্ত্রিক দেশের তালিকায় আছে।

ইকোনমিস্ট ইন্টালিজেন্স ইউনিট-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, গণতন্ত্র সূচকে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ স্কোর ছিলো ৬.১১ (ত্রুটিপূর্ণ গণতন্ত্র), সেটি ২০০৬ সালে। কিন্তু ২০০৮ সাল থেকে দেশটি ‘হাইব্রিড রেজিম’-এর তালিকায় আছে। ২০১৭ সালে বাংলাদেশের স্কোর ছিল ৫.৪৩। ইকোনমিস্ট গ্রুপ ২০০৬ সালে এই সূচক প্রকাশ শুরু করার পর সেটাই ছিল বাংলাদেশের সবচেয়ে বাজে অবস্থান। ইআইইউ-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে ভারত ও শ্রীলঙ্কায় ‘ত্রুটিপূর্ণ গণতন্ত্র’ বিরাজ করছে। অন্যদিকে, বাংলাদেশ, ভুটান, নেপাল ও পাকিস্তানে ‘হাইব্রিড রেজিম’ এবং আফগানিস্তানে ‘স্বৈরতন্ত্র’ সরকারব্যবস্থা আছে বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। সে হিসেবে দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের অবস্থান ৩য়। সর্বোচ্চ স্কোর ৯.৮৭ পেয়ে গণতন্ত্র সূচকে সবচেয়ে উপরের অবস্থানে আছে নরওয়ে। অন্যদিকে, মাত্র ১.০৮ স্কোর নিয়ে উত্তর কোরিয়ার অবস্থান সবার নীচে।

 




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]