• প্রচ্ছদ » » জামায়াতকে নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি দলটির নেতারাও যেন অন্য দলে প্রবেশ করতে না পারে সেই উদ্যোগ সরকারকে নিতে হবে : শাহরিয়ার কবির


জামায়াতকে নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি দলটির নেতারাও যেন অন্য দলে প্রবেশ করতে না পারে সেই উদ্যোগ সরকারকে নিতে হবে : শাহরিয়ার কবির

আমাদের নতুন সময় : 11/01/2019

আমিরুল ইসলাম : ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শাহরিয়ার কবির বলেছেন, জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করা মানে শুধু দলটাকে বন্ধ করা না । জমায়াতের রাজনীতিটাই নিষিদ্ধ করতে হবে। মওদুদিবাদ নিষিদ্ধ করতে হবে। ওহাবিবাদ নিষিদ্ধ করতে হবে। ধর্মের নামে রাজনীতি নিষিদ্ধ করতে হবে। সেই ব্যক্তিরা যেন অন্য কোনো রাজনৈতিক দলে প্রবেশ করতে না পারে সেটাও বন্ধ করতে হবে।
এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, জামায়াত যেন নতুন কোনো দল প্রতিষ্ঠা না করতে পারে সেটা বন্ধ করতে হবে। তারা যদি বলে আমরা ভুল করেছি, জামায়াতের বিচার হওয়া উচিত। ভুল স্বীকার করে যদি নতুন দল প্রতিষ্ঠা করতে চায় তবে সেটা ঠিক আছে। নতুন প্রজন্ম যারা আছে তারা নতুন দল করতে পারে, তার আগে ভুল স্বীকার করতে হবে এবং জামায়াতের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক নেই বলে তারা নতুন করে রাজনীতি শুরু করতে পারে।
আমরা একাত্তরের গণহত্যার বিচার করছি। জামায়াতের সাথে সংশ্লিষ্টতার জন্য কারো বিচার হচ্ছে না। যাদের একাত্তরের পর জন্ম হয়েছে তাদের বিচার হচ্ছে না। একাত্তরের পরবর্তী যারা অন্য দলে ঢুকে গিয়েছে তাদেরও বিচার হচ্ছে। জামায়াত নিষিদ্ধের জন্য গত ২৭ বছর ধরে আমরা আন্দোলন করছি। একাত্তরের গণহত্যার জন্য জামায়াতকে নিষিদ্ধ করতে হবে, ট্রাইবুনালে বিচার করে। জামায়াত আত্মপ্রকাশের পর যতো হত্যা, সন্ত্রাস, মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছে এগুলোর জন্য সন্ত্রাসবিরোধী আইনেও জামায়াতের বিচার করা যায়। এটা সরকার এতো বছর কেনকরেনি তারাই বলতে পারবে। তারপর দেরিতে হলেও আইনমন্ত্রী বলেছেন, আইন সংশোধন করে জামায়াতের বিচার করা হবে।’ এটাকে আমার স্বাগত জানাই। আমরা আশা করবো যতো দ্রুত সম্ভব তারা আইনটির প্রয়োজনীয় সংশোধন করবেন। জামায়াতসহ গণহত্যাকরীতের অন্যান্য সংগঠন আছে যেমন, রাজাকার আলবদর, আলশামস,পাকিস্তানি হাইকমান্ড যারা বাংলাদেশে গণহত্যা করেছিলো এই সকল সংগঠনের বিচার আমাদের ট্রাইবুনালের করতে হবে। এর জন্য একটা ট্রাইবুনালে হবে না। আমাদের আগে দুইটা ট্রাইবুনাল ছিলো। দ্বিতীয় ট্রাইবুনালটি আবার পুনঃস্থাপন করতে হবে। তারপর ব্যক্তির পাশাপাশি সংগঠনগুলোর বিচারও দ্রুত শেষ করতে হবে।
দুই নম্বর ট্রাইবুনালটা বিচারপতি সুরেন্দ্রকুমার সিনহা দায়িত্ব নেওয়ার পর বন্ধ করে দিয়েছিলেন। চার বছর আগেই আমরা বলেছিলাম দ্বিতীয় ট্রাইবুনাল বন্ধ করা ঠিক হয়নি। কারণ প্রচুর বিচার কাজ জমে গেছে। শত শত বিচার করতে হবে। এটা একটা ট্রাইবুনালে সম্ভব না। সেজন্য আমরা চার বছর ধরেই বলছি যখন থেকে দ্বিতীয় ট্রাইবুনাল বন্ধ হয়েছে সেটা পুনরায় চালু করতে হবে। এখন যেহেতু সংগঠনের বিচার করার প্রশ্নটি এসেছে সেহেতু আমরা পুনরায় দ্বিতীয় ট্রাইবুনাল চালু করে সেখানে বিচার কাজ চালুর দাবি জানাচ্ছি। প্রথম ট্রাইবুনালে অনেক বিচার কাজ চলছে যেগুলো ঝুলে আছে ।
জামায়াত নিষিদ্ধ না করলে বাংলাদেশে মৌলবাদ, সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ এগুলো বন্ধ হবে না। একাত্তরের ত্রিশ লক্ষ শহীদের পরিবার, যারা ভিকটিম, এখনো যারা বিচারকর্যের জন্য অপেক্ষা করছেন, অনেকেই বিচারকাজ না দেখে মারা গেছেন। শহীদদের একান্ত আপনজন। কারো পিতা, কারো স্বামী, কারো সন্তান। এরাতো বিচার না দেখেই মারা গেছেন। এদেরকে বিচার বঞ্চিত করবার অধিকার কারো নেই। ত্রিশ লক্ষ শহীদের রক্তের মূল্যে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে। শহীদ পরিবার বিচার পাবে না! তাদের একান্ত আপনজন হত্যার বিচার দেখবে না! যারা তাদের আপনজন হত্যা করেছে, তাদের বিচার হবে না। এটা কোনো সভ্য দেশে হতে পারে না। জিয়াউর রহমান এ বিচার বন্ধ করে দিয়েছেন রাজনৈতিক কারণে। তিনি বাংলাদেশকে পাকিস্তান বানাতে চেয়েছিলেন। সেটার কথা আলাদা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারতো মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সরকার । তারা বিচার শুরু করেছেন ২০১০ সালে, এতোদিন ব্যক্তির বিচার হয়েছে কিন্তু কোনো সংগঠনের বিচার হয়নি। সংগঠনের বিচারতো করতে হবে। কারণ অনেক ভিকটিম আছে যারা ব্যক্তির নাম বলতে পারে না কিন্তু সংগঠনের নাম বলতে পারেন। জামাতের লোকেরা ধরে নিয়ে গেছেন, আলবদরের লোকেরা ধরে নিয়ে গেছেন এটা বলতে পারেন। তাই বিচারটা করতে হবে আলবদর, জামায়াত এসব সংগঠনের। আর ব্যক্তি যারা এসব অপরাধগুলো করেছে তারা সংগঠনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এসব কাজ করেছে। ব্যক্তিগত স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য একাত্তরে তারা কাউকে হত্যা করেনি। জামায়াত সিদ্ধান্ত নিয়েছিলো গণহত্যা করবে, মানবতা বিরোধী অপরাধ করবে। সে সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছিলো যুদ্ধাপরাধীরা। এখন মূল সংগঠরে বিচার না করে শুধু ব্যক্তিদের বিচার করলে গ্রহণযোগ্য হবে না। সেজন্য সংগঠনের বিচারও করতে হবে।




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]