পাঠ্যপুস্তকে কিশোরীর ‘উপযুক্ত পোশাক’ বিষয়ে অধ্যাপক আমেনা মহসীন বললেন, রাষ্ট্র রক্ষণশীলতার দিকে যাচ্ছে

আমাদের নতুন সময় : 11/01/2019

দেবদুলাল মুন্না : ২০১৯ শিক্ষাবর্ষের জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের ষষ্ঠ শ্রেণীর গার্হস্থ্য বিজ্ঞান বইয়ের ‘কৈশোরকালীন পরিবর্তন ও নিজের নিরাপত্তা রক্ষা’ বিষয়ক সপ্তম অধ্যায়ে সাদা-কালো সালোয়ার-কামিজ আর সাদা ওড়না গায়ে এক কিশোরীর ছবি। ছবির নিচে লেখা, ‘উপযুক্ত পোশাকে কিশোরী’। এই ছবির পাশেই লেখা, ‘মেয়েরা তাদের দৈহিক পরিবর্তন অন্যরা দেখে বিরূপ মন্তব্য করতে পারে বলে ভয়ে ভয়ে থাকে। সেজন্য এমন পোশাক পরা আবশ্যক।’

এ ব্যাপারে অধ্যাপক আমেনা মহসীন বলেন, ‘একটা কিশোরী বা যে কেউ ছাত্র বা ছাত্রী কী পোশাক পরবে; সেটি ঠিক করে দিতে পারে নির্দিষ্ট  শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, যদি সেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ড্রেসকোড থাকে। এছাড়া ফ্যামিলি স্কুলিং-ই ঠিক করে দেয় কে কী রকম পোশাক পরবে। কিন্তু রাষ্ট্র শিক্ষার কারিকুলামে শিক্ষার্থীকে কী রকম পোশাক পরতে হবে সেটি বলা মানে এক ধরনের রক্ষণশীলতাই। গতবছর দেখেছি ও-তে ওড়না ঢোকানো হয়েছে। এবার হলো এটি। এরমানে রাষ্ট্র যে রক্ষণশীলতার দিকে যাচ্ছে সেটিই পরিষ্কার হচ্ছে।’

এ বিষয়ে গণস্বাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরী বলেন,  ‘উপযুক্ত পোশাক নির্ধারণ করা পাঠ্যপুস্তকের কাজ নয়। পাঠ্যপুস্তকে উপযুক্ত পোশাকের মতো বিষয় রাখার মানে হলো, শুরুতেই শিক্ষার্থীদের মনোজগতের মধ্যে বিষয়টি ঢুকিয়ে দিয়ে তাদের আত্মবিশ্বাস নষ্ট করা।’

কথাসাহিত্যিক শাহীন আখতার বলেন, ‘পুরুষ কীভাবে পোশাক পরবে সেটিতো পাঠ্যপুস্তকে লেখা থাকে না। তাহলে নারীর জন্য এরকম প্রস্তাবনা কেনো? কারণ কিছুই নয়, এই শিক্ষাব্যবস্থা যে পুরুষতান্ত্রিক এরই প্রমাণ মিললো এমন পোশাক প্রস্তাবনায়।’

সেভ দ্য ওম্যান এর নির্বাহী পরিচালক জাভেদ পীরজাদা বলেন, ‘বর্তমানে কিশোরীরা ফুটবল খেলছে। ক্রিকেট খেলছে। রাষ্ট্রীয়ভাবেই তা উৎসাহিত করা হচ্ছে। আর পাঠ্যপুস্তকে কিশোরীদের জন্য এমন কথা দুঃখজনক।’  সম্পাদনা : সালেহ্ বিপ্লব

 




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]