বর্বর বিষয়গুলো টেক্সট বই থেকে ঝেঁটিয়ে বিদায় করুন

আমাদের নতুন সময় : 11/01/2019

কামরুল হাসান মামুন

 

২০১৯ শিক্ষাবর্ষের জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের ষষ্ঠ শ্রেণির গার্হস্থ্যবিজ্ঞান বইয়ের ‘কৈশোরকালীন পরিবর্তন ও নিজের নিরাপত্তা রক্ষা’ বিষয়ক সপ্তম অধ্যায়ে কিশোরীদের দৈহিক পরিবর্তন নিয়ে সংকোচ দূর করতে উপযুক্ত পোশাক পরিধানের সুপারিশ করা হয়েছে। ওই অধ্যায়ে উপযুক্ত পোশাকের চিত্রসহ উদাহরণ হিসাবে সাদা-কালো সালোয়ার-কামিজ আর সাদা ওড়না গায়ে এক কিশোরীর ছবি দেয়া হয়েছে আর ছবির নিচে লেখা রয়েছে, ‘উপযুক্ত পোশাকে কিশোরী’। আবার তার পাশেই লেখা, ‘মেয়েরা তাদের দৈহিক পরিবর্তন অন্যরা দেখে বিরূপ মন্তব্য করতে পারে বলে ভয়ে ভয়ে থাকে। দেহের পরিবর্তন বেশি চোখে পড়ে বলে মেয়েরা অনেক সময় সামনে ঝুঁকে হাঁটে। উপযুক্ত পোশাক পরিধান করলে এ সংকোচ দূর করা যায়।’ এটা যেন একটি চটি বই। এইটা কোন স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের পাঠ্য বইয়ে কিভাবে থাকে?

ওই বয়সে মেয়েদের দৈহিক পরিবর্তন কেবল তখন শুরু। এর চেয়ে বলে দিলেই পারে মেয়েরা যেন ঘর থেকে বের না হয়। তাহলেইতো ‘ল্যাটা চুকে’ যায়। কেউ আর তাদের দেখবেও না, আর তাই বিরূপ মন্তব্য করার সুযোগও পাবে না। কি মধ্যযুগীয় বর্বর চিন্তাভাবনা। এইসব বই কাদের চিন্তাধারাকে ধারণ করছে? আমিতো তেতুল হুজুরের চিন্তা চেতনার প্রতিফলন দেখতে পাচ্ছি। যিনি বলেন মেয়েরা ঘরের বের হলে আর এই বিয়ের ভাষায় ‘উপযুক্ত পোশাকে’ না থাকলে ছেলেদেরতো ‘লালা’ পরবেই। আমরা কি ছেলেদের ‘লালা’ পড়া বন্ধ করবো নাকি মেয়েদের ঘরে বন্দি করবো? বাংলাদেশের নারীরা বিপুল বিভিন্ন সেক্টরে কাজ করে বলেই দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। যাদের নিয়ে একদিকে আমাদের গর্ব হয় আর অন্যদিকে নীরবে এইরকম চেতনা তাদের ঢুকিয়ে দিচ্ছি।

আশা করি নতুন শিক্ষামন্ত্রী কর্মস্থল ঝাড়– দিয়ে স্টান্টবাজি বাদ দিয়ে এইসব বর্বর বিষয়গুলো টেক্সট বই থেকে ঝেঁটিয়ে বিদায় করবে।




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]