বেসিক না বাড়িয়েই মজুরি গেজেট : ফলাফল শ্রমিক অসন্তোষ

আমাদের নতুন সময় : 11/01/2019

স্বপ্না চক্রবর্তী : বেসিক না বাড়িয়ে ন্যূনতম মজুরির গেজেট প্রণয়ণের ফলে নতুন শ্রমিকের মোট মজুরি বা সর্বনি¤œ গ্রেডে বেতন বাড়লেও পুরোনোদের তার অর্ধেকও বাড়েনি। ২০১৩ সালে পোশাক শ্রমিকদের জন্য ইনক্রিমেন্ট প্রথা চালু হলেও এর উপর কোনো ধরনের পর্যালোচনা না করেই ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ করা হয়েছে বলেই এরকম শ্রমিক অসন্তেুাষ তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। তারা বলছেন, গত ৫ বছরে শ্রমিকের মূল মজুরি ৫ শতাংশ হারে বৃদ্ধির বিষয়টি আমলে নিয়ে মজুরির পুনঃনির্ধারণ করলে বর্তমান গেজেট অনুযায়ই মজুরি সমস্যার সমাধান করা যাবে। পোশাক মালিকরা উৎসকর সুবিধাসহ সরকারের বিভিন্ন কর প্রণোদনা পাচ্ছেন তার পরেও শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধিতে মালিকপক্ষের অনীহা আছে বলেও মনে করছেন তারা।

গত সপ্তাহেই পোশাক রপ্তানিতে উৎসে কর দশমিক ৬০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২৫ শতাংশ করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। গত অর্থবছর উৎসে কর ছিল দশমিক ৭০ শতাংশ। মজুরি বৃদ্ধির অজুহাতে উৎসে কর তিন ভাগের এক ভাগে নামিয়ে এনেছে মালিকপক্ষ বলেও অভিযোগ রয়েছে।

নতুন মজুরি কাঠামোর প্রেক্ষিতে দেখা যায়, নি¤œতম বা সপ্তম গ্রেডে মজুরি বেড়েছে ৫১ শতাংশ। তবে পোশাক কারখানায় ৩, ৪ ও ৫ নম্বর গ্রেডে বেশি শ্রমিক কাজ করেন। গ্রেড তিনটিতে মজুরি যথাক্রমে ৪১, ৪৪ ও ৪৬ দশমিক ৫৫ শতাংশ বেড়েছে। ২০১৩ সালের মজুরিকাঠামোতে এই তিন গ্রেডে মজুরি বেড়েছিল ৬১ থেকে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত। এদিকে আগের মজুরিকাঠামোতে তিন নম্বর গ্রেড বা সিনিয়র অপারেটর পদের মূল মজুরি ছিল ৪ হাজার ৭৫ টাকা। প্রতিবছর ৫ শতাংশ হারে ইনক্রিমেন্ট হওয়ায় গ্রেডটিতে কর্মরত পুরোনো শ্রমিকের মূল মজুরি বেড়ে চলতি বছর ৫ হাজার ২০৪ টাকা হতো। অথচ নতুন কাঠামোতে এই গ্রেডের মূল মজুরি করা হয়েছে ৫ হাজার ১৬০ টাকা। অর্থাৎ নতুন কাঠামোতে মজুরি কমে গেছে ৪৪ টাকা। একইভাবে চার নম্বর গ্রেড বা অপারেটর পদের মূল মজুরি বেড়েছে মাত্র ৭৯ টাকা ও পাঁচ নম্বর গ্রেডের বেড়েছে মাত্র ১৬৪ টাকা।

বিজিএমএই’র সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান বলেন, এটা মালিক পক্ষের একার কোনো সিদ্ধান্ত নয়। সরকার গঠিত একটি মজুরি বোর্ডের দীর্ঘদিন আলোচনা পর্যালোচনার পরেই এটি নির্ধারিত হয়েছে। আমাদের সাথে যেমন সরকারের প্রতিনিধি ছিলেন তেমনি ছিলেন শ্রমিকদের প্রতিনিধি। ছিলেন সুশীল সমাজের প্রতিনিধিও। তাই আমরা আগেও বলেছি এখনও বলছি মালিকপক্ষের সামর্থ্য না থাকার পরেও শুধুমাত্র শ্রমিকদের কল্যাণে আমরা এই মজুরি দিতে রাজি হয়েছি। কিন্তু একটি কুচক্রী মহলের উসকানিতে এই খাতটিতে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। যা আমাদের জন্য খুবই দুঃখজনক। তিনি বলেন, গত ২৫ নভেম্বর ঘোষিত পোশাকশিল্পের জন্য প্রজ্ঞাপন জারি হওয়া নতুন মজুরিতে শ্রমিকদের নি¤œতম মজুরি নির্ধারিত হয় ৮ হাজার টাকা। ডিসেম্বরে নতুন মজুরিকাঠামো কার্যকর হয়। চলতি মাস থেকে নতুন কাঠামো মেনে বাড়তি মজুরি পাচ্ছেন শ্রমিকরা। পূর্বের নিয়ম মেনেই মজুরি কাঠামো করা হয়েছে। তাই আন্দোলন-সংঘাত বন্ধ করে আমি শ্রমিকদের আহ্বান জানাচ্ছি আপনারা কাজে ফিরে যান।

সিপিডির সিনিয়র গবেষক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, গতবারের মজুরি কাঠামো কার্যকর হওয়ার পর থেকে প্রতিবছর ইনক্রিমেন্ট হিসেবে ৫ শতাংশ হারে মূল মজুরি বেড়েছে। এই ইনক্রিমেন্টের বিষয়টি ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণের সময় কেউই আলোচনায় আনেননি। ফলে চাকরির শুরুর দিকের গ্রেডগুলোতে যে বেতন বেড়েছে ওপরের গ্রেডগুলোতে তেমন বাড়েনি। আবার ওপরের ও নিচের গ্রেডের মজুরি পার্থক্য আগের চেয়ে কমে গেছে। তাই গত ২০১৩ সাল থেকে ৫ বছরে শ্রমিকদের মূল মজুরি যতটুকু বেড়েছে তা নতুন কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত করে দিলেই এই মজুরি কাঠামো ঠিক রেখেই মজুরি বৈষম্যের সমাধান করা যাবে বলে আমি মনে করছি।

শ্রমিক নেতা মোশারেফা মিশু জানান, ওপরের গ্রেডে মূল মজুরি বৃদ্ধি না পাওয়ায় শ্রমিকদের ওভারটাইমের টাকা বাড়বে না। এমনকি উৎসব ভাতাও বাড়বে না। ফলে একজন পুরাতন দক্ষ শ্রমিকরা এই মজুরি কাঠামোতে ক্ষতিগ্রস্থ হবে। যেমন একজন শ্রমিক যেখানে কয়েক বছর যাবত কাজ করে যে মজুরি পাবেন নতুন মজুরি কাঠামোতে তার চেয়ে মাত্র ৪০০ টাকা কম পাবেন সদ্য যোগ দেওয়া একজন হেলপার। এই পার্থক্যটার কারণেই সাধারণ শ্রমিকরা বিক্ষুব্ধ হয়েছে। তবে আন্দোলনের মাধ্যমে কোনো সমাধান আসে না। আমরা আলোচনা করছি। আলোচনার মাধ্যমে অবশ্যই একটা না একটা সমাধান বেরিয়ে আসবে। সম্পাদনা : প্রিয়াংকা আচার্য্য




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]