শিশুর গলায় তাবিজ পরার বিধান

আমাদের নতুন সময় : 11/01/2019

সাইদুর রহমান

 

সাধারণত তাবীজ কয়েক প্রকারে হয়ে থাকে। ক. এমন তাবীয যা কুরআনী আয়াত সম্বলিত।খ. এমন তাবীয যা অর্থবিহীন শব্দ দ্বারা তৈরি।গ. এমন তাবীয যা কুফুরী কালাম সম্বলিত।এর মধ্যে শুধু মাত্র প্রথম প্রকার তাবীয পরিধান করা বা করানো জায়েয। কেননা, বর্ণিত আছে যে, সাহাবায়ে কেরাম শিশু-কিশোরদের গলায় কুরআনের আয়াত লিখে ঝুলিয়ে দিতেন। আর প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম স্বয়ং জ্বর ও বদ নযরের জন্য তাবীয লেখার অনুমতি প্রদান করেছেন। -মুসলিম, মিশকাত

এ বিষয়ে প্রসিদ্ধ মুহাদ্দিস ও ফকীহ আল্লামা তুরপশতী রহ. লিখেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যে ঝাড়-ফুঁক ও তাবীয ব্যবহার করতে নিষেধ করেছেন, তা হলো মুশরিকদের ঝাড়-ফুঁক ও তাবীয। সে যুগে মুসলিম রমণীরাও মুশরিকদের থেকে তাবীয সংগ্রহ করত। তখন মুসলমানগণ ঝাড়-ফুঁক থেকে বিরত থাকলো। অতপর রাসূল সা. ওই সমস্ত তাবীযের অনুমতি দিলেন, যেগুলোতে শিরক সম্বলতি শব্দ ছিল না। এবং যার মধ্যে কুরআনের আয়াত ইত্যাদি আরোগ্য লাভের জন্য পাঠ করা হতো। যেমন প্রিয় নবী সা. অসুস্থ সাহাবী আবু হুরায়রা রা.-কে বলেছিলেন ‘আমি কি তোমাকে ফুঁ দিয়ে দিব?’ –মিরকাতুল মাফাতীহ ৮/৩৪৮

শতাব্দীর পর শতাব্দী, যুগের পর যুগ থেকে যুগ শ্রেষ্ঠ উলামা, ফুকহা এবং মুহাদ্দিসিনদের পক্ষ থেকে কুরআনী আয়াত সম্বলিত তাবীযের বিরোধিতা পাওয়া যায় না। বিধায়, ফুকাহাগণ এর অনুমতি প্রদান করেছেন। তবে স্মরণ রাখতে হবে, তাবীযের কোন প্রভাব বা ক্ষমতা নেই।

সমস্ত ক্ষমতা আল্লাহ তাআলার। অবশ্য এটা দুআ। আর দুআ কবুল হলেই তার ক্ষমতা বা আসর প্রকাশ পাবে। তাবীযের বিশেষ ক্ষমতা বা ভিন্ন প্রভাব রয়েছে, যদি কেউ এমন মনে করে, তা হলে তা হবে শিরক এবং এরূপ বিশ্বাস রাখা হারাম।




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]