শীতকালে ইবাদতে চাই সচেতনতা

আমাদের নতুন সময় : 11/01/2019

নারগিস সুলতানা নাহিদা

 

শীতকাল মোমিনদের জন্য ইবাদতের বসন্তকাল। শীত এলে হজরত ইবনে মাসউদ (রা.) একে স্বাগত জানাতেন। বলতেন, ‘শীতের সময় বিশেষ বরকত নাজিল হয়। শীতের রাতগুলো বড়, দিনগুলো ছোট। কেন জানো? যেন রাতে আমরা তাহাজ্জুদ পড়তে পারি আর দিনের বেলা যেন রোজা রাখতে পারি।’

ইবাদতের এ বসন্তকালটিকে অধিক পরিমাণে কাজে লাগানোর জন্য আমরা কয়েকটি বিষয়ের প্রতি লক্ষ রাখতে পারি।

অজু : শীতকালে অজু করার সময় সচেতনতা ও সতর্কতা কাম্য। বিশেষত কনুই, গোড়ালি খেয়াল করে ধোয়া উচিত। অজু ধরে রাখার জন্য চাপাচাপি না করা চাই। হুজুর সা. বলেন, ‘আফসোস ওই গোড়ালিগুলোর জন্য, যেগুলোর ঠিকানা হবে জাহান্নাম (ভালোভাবে না ধোয়ার কারণে)।’ (মুসলিম : ৪৫৯)

চামড়ার মোজায় মাসেহ : মোজার ওপর মাসেহর বিধান মহান আল্লাহর একটি বড় অনুগ্রহ। আবু বকর, ওমর ও আলী (রা.) সহ বহু সাহাবি বর্ণনা করেন, রাসুলুল�াহ (সা.) বলেছেন, ‘মুকিম ব্যক্তি একদিন এক রাত এবং মুসাফির তিন দিন তিন রাত বিশেষ ধরনের চামড়ার মোজার ওপর মাসেহ করবে।’ (বোখারি : ১/৫৮)

নফল রোজা : নবীজি সা. বলেছেন, ‘শীত মৌসুমে রোজা হলো শীতল গনিমত।’ (মুসনাদে আহমদ)। শীতকালে দিন থাকে খুবই ছোট এবং ঠান্ডা। ফলে দীর্ঘ সময় না খেয়ে যেমন থাকতে হয় না, তেমনি তৃষ্ণার্ত হওয়ারও ভয় থাকে না। সুতরাং কারও যদি রমজানের কাজা রোজা বাকি থাকে, তবে এটাই হলো সেগুলো আদায় করে নেওয়ার মোক্ষম সুযোগ। তাছাড়া বেশি বেশি নফল রোজা রাখারও এটি সুবর্ণ সময়। রাসুল (সা.) বলেন, ‘আল�াহর ওয়াস্তে যে ব্যক্তি একদিন রোজা রাখল, আল্লাহ তায়ালা প্রতিদানস্বরূপ জাহান্নাম এবং ওই ব্যক্তির মাঝখানে ৭০ বছরের দূরত্ব সৃষ্টি করে দেবেন।’ (বোখারি : ২৮৪০; মুসলিম : ১১৫৩)

তাহাজ্জুদের নামাজ : যেহেতু রাত অনেক বড় তাই আট রাকাত কিংবা সময় না থাকলে অন্তত দুই রাকাত হলেও তাহাজ্জুদের নামাজ আদায়ের চেষ্টা করা উচিত। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘আর রাতের কিছু অংশে তুমি তাহাজ্জুদ পড়। আশা করা যায়, তোমার প্রতিপালক তোমাকে প্রশংসিত স্থানে উন্নীত করবেন।’ (সূরা বনি ইসরাইল)

শীতার্তদের পাশে দাঁড়ানো : আল্লাহ পাক বলেন, ‘আত্মীয়স্বজনকে তার হক দান কর এবং অভাবগ্রস্ত ও মুসাফিরকেও। এবং কিছুতেই অপব্যয় করো না।’ (সূরা বনি ইসরাইল : ২৬) রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে মোমিন অপর বিবস্ত্র মোমিনকে কাপড় পরিয়ে দিল, আল্লাহ তায়ালা ওই ব্যক্তিকে জান্নাতের সবুজ কাপড় পরিয়ে দেবেন।’ (তিরমিজি : ২৪৪৯; আহমাদ : ১১১১৬) কোনো কোনো বর্ণনায় এসেছে, ‘আল্লাহ তাকে জান্নাতি পোশাক পরিয়ে দেবেন।’ (আত তারগিব ওয়াত তারহিব : ২/৯২)

কৃতজ্ঞতা নিবেদন : শীত মৌসুমে আমরা আল্লাহ তায়ালার অসংখ্য নেয়ামত ভোগ করে থাকি। পিঠা, পায়েস, খেজুরের রস, গুড় এবং বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি, তরিতরকারি ও শীত নিবারণের বস্ত্রাদিÑ সবই মহান আল্লাহর দান। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘যদি তোমরা শুকরিয়া আদায় করো তাহলে তোমাদের প্রতি আমি আমার নিয়ামত আরও বাড়িয়ে দেব।’ (সূরা ইব্রাহিম)




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]