হায় পরীক্ষা

আমাদের নতুন সময় : 11/01/2019

শামী আরা শিউলী

ক্লাস থ্রি পর্যন্ত আমার জীবন ছিল বড়ই আনন্দময় ও পরীক্ষায় ফেল করতাম না, তবে মেধাতালিকার ২০-এর মধ্যেও ছিলাম না ও কখনো কখনো পড়া ভুল করার জন্য শিক্ষকদের মার খেয়েছি ও বনে-জঙ্গলে, বাসার ছাদে, রোদে পুড়ে খেলে বেড়াতাম ও আমার শৈশবের সাদাকালো ফটোতে আমাকে খুঁজে প্ওায়া যায় না ও তারপর আসল সেই মাহেন্দ্রক্ষণ ও তখন ল্যান্ডফোনের দিন ও কোনো এক উচ্চপদস্থ আমলা নাম কাইয়ুম ঠাকুর ফোন করেছিল আমার আব্বাকে ও দুর্ভাগা এই আমিই ফোনটা ধরেছিলাম ও কী বলেছিলাম আমার মনে নাই ও আমার আব্বার কাছে শুনেছি উনি বলেছিলেন তোমার মেয়েটি মেধাবী যতœ নিও ও এরপরের কাহিনি ইতিহাস ও উনার কথা ছিল আমার আব্বার কাছে ওহির মতো ও যতœ কাহাকে বলে! আমার লেখাপড়া নিয়ে আমার পিতামাতা প্রবল আগ্রহী হয়ে উঠলেন ও আর স্কুলে মেধাতালিয়ায় থাকার জন্য আমার প্রায়জীবন দিয়ে দেওয়ার মতো অবস্থা ও খেলাধুলা, আত্বীয়স্বজনের বাড়িতে বেড়াতে য্ওায়া সব কমে গেল ও দ্বিতীয় হলে প্রশ্ন প্রথম হইনি কেন? প্রথম হলে প্রশ্ন নম্বর কম কেন? আব্বা আম্মাকে খুশি করতে গিয়ে আমার নিজের জীবন থেকে সবচেয়ে মূল্যবান উপাদান ‘স্বস্তি’ চিরদিনের জন্য হারিয়ে গেছে ও ভুক্তভোগী ছাড়া কেউ বুঝবে না ও কী ভয়ংকর সে চাপ ও পরীক্ষার আগে কিছু খেতে পারি না, উদ্বেগের কারণে বমি করে ফেলি, রাতে ঘুমাতে পারি না ও বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়ার পূর্বেও ঘুমের মধ্যে পরীক্ষা আর রেজাল্ট আমাকে তাড়া করেছে ও আজ এত বছর পরেও সেই চাপ থেকে বের হয়ে আসতে পারি না ও আমার সহপাঠীরা যখন মজা করে, আমি পরীক্ষার দুশ্চিন্তা করি ও সবচেয়ে হাস্যকর, এখনো আমার আব্বার সঙ্গে কথা বললে প্রথম যে প্রশ্নটা তিনি করেন তা হলো, তোমরা আর কোন পরীক্ষা হয়েছে? রেজাল্ট কী! অথচ এখানে কেউ রেজাল্ট নিয়ে মাথা ঘামায়, কেবল এশীয়রা ছাড়া ও দেশে গর্বিত বাবা-মায়েরা যখন ফেসবুকে ছেলেমেয়ের ভালো রেজাল্ট শেয়ার করে, আমি তাদের বাচ্চাদের কথা চিন্তা করি ও আহারে বড় হয়ে হয়তো আমার মতো উদ্বেগময় জীবন পাবে! ফেসবুক থেকে




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]