• প্রচ্ছদ » » ‘হে মুহাম্মদ ! আপনার উম্মতের মধ্যে যদি কেউ কারো ভেঙে যাওয়া মন জোড়া লাগিয়ে দেয় আমি তাকে বিনা হিসেবে জান্নাতে পৌঁছে দেবো’


‘হে মুহাম্মদ ! আপনার উম্মতের মধ্যে যদি কেউ কারো ভেঙে যাওয়া মন জোড়া লাগিয়ে দেয় আমি তাকে বিনা হিসেবে জান্নাতে পৌঁছে দেবো’

আমাদের নতুন সময় : 11/01/2019

একদিন হযরত মুহাম্মাদ (সা.) বিবি আয়েশাকে (রা.) ডেকে জিজ্ঞেস করলেন, হে আয়েশা! আজকে আমি অনেক খুশি, তুমি আমার কাছে যা চাইবে তাই দেবো। বলো তুমি কি চাও? হযরত আয়েশা (রা.) চিন্তায় পড়ে গেলেন। হঠাৎ করে তিনি এমনকি চাইবেন। আর যা মন চায় তা তো চাইতে পারেন না! যদি কোনো ভুল কিছু চেয়ে বসেন, নবীজী যদি কষ্ট পেয়ে যান? এমন অনেক প্রশ্নই মনে জাগতে লাগলো! আয়েশা (রা.) নবীজীকে বললেন, আমি কী আব্বুর কাছ থেকে কিছু পরামর্শ নিতে পারি? নবীজী বললেন, ঠিক আছে, তুমি পরামর্শ নিয়েই আমার কাছে চাও।
আয়েশা (রা.) তার আব্বু হযরত আবুবকরের (রা.) কাছে পরামর্শ চাইলেন। সব শুনে আবুবকর (রা.) বললেন, যখন কিছু চাইবেই, তাহলে তুমি মুহাম্মাদের (সা.) কাছে মিরাজের রাতে আল্লাহপাক রাব্বুল আ’লামীনের সাথে হয়েছে এমন কোনো গোপন কথা জানতে চাও। আর কথা দাও, নবীজী যা বলবেন তা সর্বপ্রথম আমাকে জানাবে। আয়েশা (রা.) নবীজীর (সা.) কাছে গিয়ে মিরাজের রাতের কোনো এক গোপন কথা জানতে চাইলেন, যা এখনো কাউকে বলেননি। মুহাম্মাদ (সা.) মুচকি হেসে দিলেন। বললেন, বলে দিলে আর ‘গোপন’ থাকে কী করে! একমাত্র আবুবকরই পারেন এমন বিচক্ষণ প্রশ্ন করতে। মুহাম্মাদ (সা.) বলতে লাগলেন, হে আয়েশা! আল্লাহ আমাকে মিরাজের রাতে বলেছেন, ‘হে মুহাম্মদ ! আপনার উম্মতের মধ্যে যদি কেউ কারো ভেঙে যাওয়া মন জোড়া লাগিয়ে দেয় তাহলে আমি তাকে বিনা হিসেবে জান্নাতে পৌঁছে দেবো। সুবাহানাল্লাহ!
প্রতিশ্রুতিমতো আয়েশা (রা.) তার বাবা হযরত আবুবকরের (রা.) কাছে এসে নবীজীর বলে দেয়া এই কথাগুলো জানালেন। শুনে আবুবকর (রা.) অঝোরে কাঁদতে শুরু করলেন। আয়েশা (রা.) আশ্চর্য হয়ে জিজ্ঞেস করলেন, আব্বু! আপনি তো কতো ভেঙে যাওয়া মন জোড়া লাগিয়েছেন, আপনার তো বিনা হিসেবে সোজা জান্নাতে চলে যাওয়ার কথা। আপনি কাঁদছেন কেন? আবুবকর (রা.) বললেন, আয়েশা! এই কথাটার উল্টা চিন্তা করে দেখো, কারো ভেঙে যাওয়া মন জোড়া লাগালে যেমন আল্লাহ সোজা জান্নাতে দিবেন, কারো মন ভাঙলেও আল্লাহ যদি সোজা জাহান্নামে দিয়ে দেন! আমি না জানি নিজের অজান্তে কতোজনের মন ভেঙেছি। আল্লাহ যদি আমাকে জাহান্নামে দিয়ে দেন, সেই চিন্তায় আমি কাঁদছি। সুবাহানাল্লাহ। এই হলো আমাদের ইসলাম। দুনিয়ায় থেকে জান্নাতের সুসংবাদ পাওয়ার পরেও এইভাবে চিন্তা করেন। এইভাবে ইসলাম আমাদের শিক্ষা দেয়, কাউকে কষ্ট না দিতে। মানুষের কষ্টে পাশে দাঁড়াতে। মুহাম্মাদ (সা.) আরো বলেছেন, যদি তুমি গোশত রান্না করতে চাও, তাহলে এক গ্লাস পানি বেশি দিয়ে দাও, যাতে তোমার গরিব প্রতিবেশীকে একটু শেয়ার দিতে পারো। আর যদি না দিতে চাও, তাহলে এমন সময় রান্না করবে, যখন প্রতিবেশীর বাচ্চা ঘুমিয়ে থাকে। গোশতের ঘ্রাণ পেয়ে বাবা-মাকে গোশত খাওয়ার কথা না বলে। গরিব বাবা-মা, গোশত কিনে খাওয়াতে পারবে না, মনে অনেক কষ্ট পাবে।
এভাবে ইসলাম আমাদের শিক্ষা দিয়েছে। মুহাম্মাদ (সা.) আমাদের শিক্ষা দিয়ে গেছেন। মানুষের মন না ভাঙতে, মানুষকে কষ্ট না দিতে। আল্লাহপাক রাব্বুল আ’লামীন আমাদের মানুষের কষ্টে পাশে দাঁড়ানোর, মানুষকে কষ্ট দেয়া থেকে বিরত থাকার, মানুষের ভেঙে যাওয়া মন জোড়া লাগানোর, অন্যের কষ্ট শেয়ার করার তাওফিক দান করুন। আমীন। (হাদিসে বুখারী শরীফ)
-ফেসবুক থেকে




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]