অন্যান্য দানের চেয়ে কঠিন চীবর দানের পার্থক্য

আমাদের নতুন সময় : 23/01/2019

এস.জ্ঞানমিত্র ভিক্ষু

অপরাপর দানের চেয়ে কঠিন চীবর দানের অনেক পার্থক্য বিদ্যমান। অন্য যে কোনো দান বছরে যে কোনো সময় করা যায়। কিন্তু কঠিন চীবর দান শুধু আশ্বিনীপূর্ণিমা হতে কার্তিকীপূর্ণিমা এই এক মাসেই করা যাবে। আষাঢ়ীপূর্ণিমা হতে আশ্বিনীপূর্ণিমা পর্যন্ত ১ম বর্ষাবাস সমাপনকারী ভিক্ষুই কঠিন চীবর লাভ করতে পারে। শ্রাবণীপূর্ণিমা হতে কার্তিকীপূর্ণিমা পর্যন্ত ২য় বর্ষবাস সমাপনকারী ভিক্ষু কঠিন চীবর লাভ করতে পারেন না। একজন ভিক্ষু বছরে একটি মাত্র কঠিন চীবর লাভ করতে পারে। যে বিহারে ভিক্ষু বর্ষাবাস করে সে বিহার ব্যতীত অন্যস্থানে এ দান করা যায় না এবং একটি বিহারে একবার মাত্র এ দান করা যাবে।
চীবর ‘কঠিন’ হওয়ার কারণ: ভিক্ষু পাঁচ প্রকার ফল লাভ করার সামর্থ্যে স্থির থাকায় ‘কঠিন’ বিশেষণ দিয়ে চীবরকে কঠিন চীবর নামে আখ্যায়িত করা হয়। এছাড়া এটি বিনয়ান্তুর্গত বলে। বছরে একবার একবিহারে একজন ভিক্ষুকে দান করা যায় বলে, আশ্বিনীপূর্ণিমা হতে কার্তিকীপূর্ণিমার বাইরের সময়ে দান করা যায় না বলে, ১ম বর্ষাবাস ব্যতীত ২য় বর্ষাবাসকারী এবং বর্ষবাস অধিষ্ঠান বিহীন ভিক্ষু কঠিন চীবর লাভ করতে পারে না বলে, সংঘের অনুমোদন লাগে বলে ইত্যাদি কারণে ‘কঠিন’ চীবর বলা হয়।
কঠিন চীবর দানের গুরুত্ব সম্পর্কে ধারণা লাভের জন্য শুধু মাত্র তিনটি উপদেশ এখানে উল্লেখ করছি –
(১) ছোট বড় যত প্রকারের দান আছে একখানা কঠিন চীবর দানের ফলের তুলনায় ঐ দান ষোল ভাগের এক ভাগও হয় না।
(২) ভিক্ষু সঙ্ঘের যাবতীয় ব্যবহার্য বস্তু সর্বদা সঙ্ঘকে দান করলেও একখানা কঠিন চীবর দানের পুণ্যের ষোলভাগের একভাগ হয় না। (৩) সুমেরুপর্বত প্রমাণ রাশি করে সঙ্ঘমধ্যে ত্রি-চীবর দান করলেও একখানা কঠিন চীবর দানের পুণ্যের ষোল ভাগের একভাগও হয় না। যারা পÐিত, যুক্তিবাদী, ভবিতব্য সচেতন, প্রাজ্ঞজন ও ধর্মপরায়ণ হিসেবে সমাজে পরিচিত তাদের উচিত এই মহান দানোত্তম কঠিন চীবর দানের ফলের কথা ও গুণের কথা চিন্তা করে এই মহত্তর দান কার্য সম্পাদন করা এবং সমাজের অপরাপর জনগণকে উৎসাহিত করা, যাতে তারাও এরকম উৎকৃষ্ট দান কর্ম সম্পাদনের দ্বারা ইহ এবং পরজীবনে সুখ ও সমৃদ্ধি অর্জন করতে পারেন।
লেখক : বি.এস. এস অনার্স, এম.এস.এস (রাষ্ট্রবিজ্ঞান)




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]