আত্মোপলব্ধি প্রবারণা পূর্ণিমার মূলবাণী

আমাদের নতুন সময় : 23/01/2019

ভাগ্যধন বড়ুয়া

“অহং ভন্তে/আবুসো, আয়স্মন্তং পবারেমি দিট্ঠেন বা সুতেন বা পরিসঙ্কায় বা বদতু মং আয়স্মা অনুকম্পং উপাদায় পস্সন্তো পটিকরিস্সামি।” বাংলা- ‘ভন্তে/বন্ধু, আমি আপনাকে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। (আমার কোনো দোষ-ত্রæটি) দেখে থাকলে, শুনে থাকলে অথবা সন্দেহ পোষণ করে থাকলে অনুকম্পাপূর্বক আমাকে খুলে বলুন। আসলেই যদি আমার কোনো দোষ হয়ে থাকে তাহলে আমি অবশ্যই এর সংশোধন করব।’
বাংলা বর্ষপঞ্জীতে আশ্বিনীপূর্ণিমা বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের কাছে প্রবারণা পূর্ণিমা নামে পরিচিত। প্রবারণা বলতে বুঝায় ‘আমন্ত্রণ’। খুব খোলামেলা মন নিয়ে অন্যকে নিজের ভুল ধরিয়ে দেওয়ার জন্য আহŸান জানানো এবং আসলেই ভুল বলে মনে হলে সংশোধনের প্রত্যয় ব্যক্ত করা, এটাই বৌদ্ধ প্রবারণার মূল বাণী। বুদ্ধ প্রবারণার মতো এমন একটি নিয়ম সংঘের মধ্যে চালু করার প্রয়োজনীয়তা বোধ করেছিলেন এই কারণে যে, বৌদ্ধভিক্ষুরা সাধারণত একেকটি বিহারে বা সংঘারামে সংঘবদ্ধভাবে বসবাস করেন। খুব স্বাভাবিকভাবেই একজনের কাছে অন্যজনের ভালো-মন্দ, ভুল ও দোষ-গুণ ধরা পড়ে। অনেক সময় বিভিন্ন কারণে সেগুলো বলার বা তুলে ধরার সুযোগ হয়ে ওঠে না। অতএব একসঙ্গে তিন মাস ধরে অবস্থান করার পর ধর্মপ্রচারের জন্য ভ্রমণে বের হওয়ার আগে বুদ্ধ ভিক্ষুসংঘকে পারস্পরিক প্রবারণা তথা আমন্ত্রণকর্ম করার নির্দেশ দিয়েছিলেন।
প্রবারণার এ আবেদন বৌদ্ধ ভিক্ষু জীবনে অধিক গুরুত্ব ছাড়াও বৌদ্ধ নর-নারী, উপাসক-উপাসিকাদের জীবনেও এর গুরুত্ব কম নয়। শুধু ধ্যানের দিক থেকে নয়, আত্মশুদ্ধিতা, রিপু সংযম এবং আত্মোপলব্ধিতে এর অর্থবহ দিক আমাদের পূর্ণ মনুষ্যত্ব বিকাশে অনেক অবদান রাখে। বৌদ্ধ প্রবারণা উদযাপনকে বলা হয়, পাপ ও অশুভকর্ম থেকে মুক্ত থাকার জন্যই সৎ এ ব্রতকর্মের সাধনা। সুন্দর জীবন গঠনের ক্ষেত্রে এবং সত্যনিষ্ঠ ধ্যান সমাধির ক্ষেত্রে এর কোনো বিকল্প নেই। অতএব শীল, সমাধি ও প্রজ্ঞাসাধনার পাশাপাশি আত্মসংযম ও ত্যাগশিক্ষা বৌদ্ধ প্রবারণার একটি অপরিহার্য বিধান বলে বিবেচিত হয়েছে। প্রবারণা দিবসে বৌদ্ধরা সব ভেদাভেদ ভুলে পরস্পর পরস্পরের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। পারস্পরিক একতা, মৈত্রী, ভালোবাসা ও বন্ধুত্বের ভাব নিয়ে একে অপরের সঙ্গে আলিঙ্গন করেন। হৃদয়কে অনেক বড় করে, চিত্তকে বিলিয়ে দেন। এর মাধ্যমে মনের মলিনতা দূর হয়, ধর্মীয় অনুভূতি জাগ্রত হয়। এতে চিত্তের সংকীর্ণতাও দূরীভূত হয়।




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]