বৌদ্ধ ধর্মই দুঃখ মুক্তির একমাত্র পথ

আমাদের নতুন সময় : 23/01/2019

চৌধুরী বাবুল বড়ুয়া

মহাকারুণিক তথাগত সম্যক সম্বুদ্ধ যে ধর্ম দেশনা করে গেছেন, তা কেমন ধর্ম? বৌদ্ধ ধর্ম অকালিকো ধর্ম। অকালিকো অর্থ এই ধর্মটি এমন এক ধর্ম পৃথিবীর সব জায়গায়, সব দেশে, সব স্থানে একই রকম। সব রকম মানুষের কাছে, সে ধনী বা গরিব, ছেলে বা মেয়ে সবার কাছে একই রকম।
শুধু মানুষ নয় সব রকম প্রাণীর কাছে একই রকম। স্থান-কাল-পাত্র ভেদে এর কোন পরিবর্তন নেই। হাজার হাজার বছর আগে এই ধর্ম যেরকম ফল দিয়েছে, এখনও দিচ্ছে, ভবিষ্যতেও দেবে। পরিবর্তনহীন একই রকমের যে গুণ একে বলা হয় সত্য। বৌদ্ধ ধর্ম প্রকৃতপক্ষে সত্য ধর্ম।
আমরা ভগবান বুদ্ধ কেন বলি? ঃ ভগবান বুদ্ধ বলি কারণ যিনি কল্প-কল্পান্তর পারমী পূরণ করার পর অর্থাৎ জন্ম-জন্মান্তর দশটা পারমী, দশটা উপ-পারমী, দশটা পরমার্থ পারমী পূরণ করার পর জগৎবাসীকে দুঃখ থেকে মুক্ত করার জন্য এই ধরণীতে জন্ম নিয়েছিলেন। নিজস্ব প্রজ্ঞার আলোকে (গুরুবিহীন) চতুরার্য সত্যকে দর্শন করে, অরহত্ত¡ মার্গফলে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিলেন এবং ছয়টি গুণ সম্পন্ন ধর্মকে একত্রিশটি লোকভূমির সকল মনুষ্য-দেব-ব্র²ার মুক্তির জন্য মৈত্রীপূর্ণ চিত্তে বিতরণ করে গেছেন, শিক্ষা দিয়ে গেছেন। তিনি অরহং প্রভৃতি নয়টি গুণ সহ অসংখ্য গুণের অধিকারী, মনুষ্য-দেব- ব্র²ার গুরু মুক্তিদাতা তাই তিনি বুদ্ধ ভগবান।
ধর্ম কাকে বলে? ঃ ভগবান বুদ্ধ তার সাধনা লব্ধ সত্য প্রচার করে গেছেন। আমাদের প্রাত্যাহিক ভাষায় একে বলা হয় ধর্ম। ধর্ম কেন বলা হয়? ভগবান বুদ্ধের যে সকল আদেশ, অনুশাসন বা শিক্ষা যথাযথভাবে আচরণ ও প্রতিপালন করলে, চারটি অপায় তির্যক লোক, প্রেত লোক, অসুর লোক, নরক লোক থেকে সত্ত¡গণ মুক্তি পেতে পারে, এমন ক্ষমতা, এমন গুণ, যে শিক্ষায় বর্তমান এমন সত্য শিক্ষাকে ধর্ম বলে।
অপায়মুক্ত করে কে? ঃ যিনি এই ধর্মকে আচরণ করবেন, এই সত্য (ধর্মের গুণ) তাকে রক্ষা করবে।
রক্ষা কর্তা কে? ঃ রক্ষা করে ধর্ম। কাকে করে? যিনি আচরণ করেন। অর্থাৎ যিনি ধর্ম আচরণ করেন ধর্মও তাকে রক্ষা করে।
যদি আমরা মিথ্যা কথা বলি, মিথ্যা কথা বলার ফল আমাদের ভোগ করতে হবে, তেমনি যদি সত্য কথা বলি সত্য কথা বলার সুফল আমরা ভোগ করব। এভাবে যারা সত্য আচরণ করে, তারা কখনও দুর্গতিতে যাবে না। সত্যই তাদের রক্ষাকারী। আর যারা মিথ্যা আচরণ করবে তাদের দুর্গতি হবেই। যেমন কর্ম তেমন ফল। ইহা জাগতিক প্রকৃতির নিয়ম।
বন্দনা বা পূজা করি কেন? ঃ বৌদ্ধরা বুদ্ধগুণ শরণ করার জন্য বুদ্ধ মূর্তি পূজা করে থাকেন। ধর্মের ও বুদ্ধের শিক্ষা মানবো, আচরণ করবো, এভাবে নির্বাণকে সন্ধান করবো। প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়ে সত্যকে অন্তরে ধারণ করার জন্য শ্রদ্ধা জানাই। সত্যকে সম্মান করি। নমষ্কার করি।
ভিক্ষু সংঘকে বন্দনা করি কেন? আমরা অনেক সময় বলে থাকি, চীবরকে সম্মান করে ভিক্ষুদের বন্দনা করি। আসলে এটা সঠিক নয়। ভগবান বুদ্ধের অবর্তমানে ভগবান বুদ্ধের এই ধর্মকে, বহু ত্যাগ তিতিক্ষা করে রক্ষা করেছিলেন, এখনো করছেন, ভগবান বুদ্ধের সেই শ্রাবকগণ, বুদ্ধ পুত্র ভিক্ষুগণ। ভগবান বুদ্ধের পরিনির্বাণের সাথে সাথে ত্রিপিটক অক্ষরে লিপিবদ্ধ হয়নি। আরো ২০০ বৎসর পরে লিপিবদ্ধ হয়েছিলো। এই দুইশত বৎসর ভিক্ষু সংঘগণ কণ্ঠস্থ করে রেখেছিলেন ৮৪ হাজার ধর্মষ্কন্ধকে। তাদের এ মহান ত্যাগ তিতিক্ষার কথা চিন্তা করে তাদের সে বীর্য, তাদের সে মহান আত্মোৎসর্গের কারণে তাদের সেই গুণকে আমরা শরণ করি। সংঘং শরণং গচ্ছামি বলি। তাছাড়া ভিক্ষু সংঘের প্রকৃত ৯টি গুণ আছে। যথাঃ সুপ্পটিপন্নো ভগবতো সাবক সংঘো, ওজুপ্পটিপন্নো ভগবতো সাবক সংঘো, ঞায়প্পটিপন্নো ভগবতো সাবক সংঘো, সামীচিপ্পটিপ্পন্নো ভগবতো সাবক সংঘো, য়দিদং চত্তারি পুরিসয়ুগানি এস ভগবতো সাবক সংঘো, আহুনেয়্যো, পাহুনেয়্যো, দাক্খিনেয়্যো, অঞ্জলি করণীয়্যো অনুত্তর পুঞ্ঞকখেত্তং লোকস্সা’তি। তারাই সেই ব্যক্তি যাঁরা ধর্মকে এখনো রক্ষা করে চলেছেন এবং অতুলনীয় ৯টি গুণের অধিকারী।
বৌদ্ধ ধর্ম এমন এক ধর্ম যা ভয় থেকে সৃষ্ট ধর্ম নয়। শাস্তি পাওয়ার ভয়ে, পুরষ্কার পাওয়ার লোভে সত্য পালন করার ধর্ম নয়। আমাদের ধর্ম বিশ্বাস করে, আমি যা করবো, আমি তার ফল পাবো। ভগবান বুদ্ধকে মানি না বলে, ছোয়াইং দিই না বলে, পূজা করি না বলে ভগবান বুদ্ধ রাগ করে কষ্ট বা শাস্তি কোনদিন দেন না। বুদ্ধ বলেছেন ‘আমাকে বন্দনা বা পূজা করে না বলে আমি উদ্ধার করবো না এমন নয়। বলা হয়েছে বুদ্ধ, ধর্ম, সংঘ (ত্রিরতœ) শরণ, বন্দনা বা পূজা করলে সর্ব প্রকারের দুঃখ হতে মুক্তি পাওয়া যায়। তাই বুদ্ধ বলেছেন যে ধর্মকে মানবে, সে ভগবান বুদ্ধকে মানবে, যে ধর্মকে দেখবে সে ভগবান বুদ্ধকে দেখবে।




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]