পিঁপড়ার কাছেও শেখার আছে অনেক কিছু  

আমাদের নতুন সময় : 25/01/2019

আমিনুল ইসলাম হুসাইনী

 

আল্লাহ রাব্বুল আলামিন তাঁর এই বিচিত্র সৃষ্টি সম্ভারে কোনো কিছুই অকারণে সৃষ্টি করেননি। দেখা অদেখা,স্পর্শ-অ স্পর্শ প্রত্যেকটি সৃষ্টিই মানুষের জন্য কল্যাণকর। এই যেমন পিঁপড়া। ক্ষুদ্র এই  প্রাণীটির থেকেও শেখার আছে অনেক কিছু।

ফর্মিসিডি গোত্রের অন্তর্গত সামাজিক এই পতঙ্গটি ১৫ কোটি বছররেও বেশি সময় ধরে বিচরণ করছে এই সবুজ পৃথিবীতে। ছয় পায়ে ভর করে হাঁটা পরিশ্রমী এই প্রাণীটি সাধারণত দুই থেকে পাঁচ মিলি গ্রাম ওজনের হয়ে থাকে। এই হিসাবে একটি পিঁপড়া একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের চেয়ে সোয়া এক কোটি গুণ ছোট। যদি এই কারণেই পিঁপড়াকে আপনি খুবই তুচ্ছ একটি প্রাণী ভাবেন, তাহলে তা হবে আপনার জন্য চরম বোকামি। কেন না এই ক্ষুদ্র  প্রাণীটিই তার শরীরের ওজনের চেয়েও বিশ গুণ বেশি ওজন বহন করতে সক্ষম। পিঁপড়া আকৃতিতে ক্ষুদ্র হলেও বয়সের বিচারে কিন্তু পৃথিবীর প্রাচীন। আর সংখার বিচারে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ কীট।

পিঁপড়া গবেষকরা বলেন, পৃথিবীতে মানুষের তুলনায় পিঁপড়ার সংখ্যা দশ লাখ গুণ বেশি। শুধুই কি তাই? পৃথিবীতে যত পিঁপড়া আছে, তাদের জৈববস্তু (বায়োমাস) পৃথিবীতে বসবাসকারী সাতশত কোটি মানুষের সমান। বিস্মিত হলেও এটাই সত্য যে, ক্ষুদ্র এই প্রাণীটিও মানুষের মতোই সংঘবদ্ধ হয়ে বসবাস করে। মানুষের মতো কথাও বলে। পিঁপড়ার কথা বলার  প্রমাণে পবিত্র কোরআনেও বলা হয়েছে,

‘যখন সুলাইমান (আ.) এবং তার বাহিনী পিঁপড়ার উপত্যকায় পৌঁছল তখন একটি নারী পিঁপড়া বলল, হে পিঁপড়েরা! তোমাদের গর্তে প্রবেশ কর। এমন যেন না হয়, সুলাইমান এবং তার সৈন্যরা তোমাদের পিষে ফেলবে তোমরা তা টেরও পাবে না। সুলাইমান তার কথায়  মৃদু হাসলেন।’ (সূরা নামল : ১৮)

পিঁপড়াবীদগণের দেয়া তথ্যমতে, কালো পিঁপড়ারা ১৫ বছর আর লাল পিঁপড়া ৪-১২ বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকে। একটি পিঁপড়ার দৈর্ঘ্য সাধারণত ০.৬৪ থেকে ২.৫ সে.মি. হলেও কিছু প্রজাতি ০.৫-০.৭ সে.মি. পর্যন্ত হয়ে থাকে। আর বড় প্রজাতির  পিঁপড়া ১০ থেকে ১২ সে.মি. পর্যন্ত হয়ে থাকে। অধিকাংশ পিঁপড়াই লাল ও কালো রঙের হয়ে থাকে। কিছু কিছু জায়গায় আবার সবুজ পিঁপড়ারও সন্ধান পাওয়া গেছে।

অধিকাংশ মানুষেরই ধারণা পিঁপড়া শুধুমাত্র ক্ষতিই করে থাকে। কিন্তু তারা এটা জানে না, পরিশ্রমী এ পতঙ্গটি উপকারী বন্ধুও বটে। চীনের বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, বায়ু ও জল প্রবাহ এবং জৈব পদার্থ বাড়ানোর মাধ্যমে মাটির উপকারিতা বাড়ায় পিঁপড়া। একই সঙ্গে মাটিতে বাসা বাঁধার সময় পতঙ্গটি আশপাশে যে স্তুপ বা ঢিবি বানায়, মাটির পানি ধরে রাখার ক্ষেত্রেও তা সহায়ক ভূমিকা রাখে। ( সায়েন্স ডেইলি)

লক্ষ্য করলে দেখা যায়, দুটি পিঁপড়া এক সাথে হলে, একটু সময়ের জন্য হলেও দাঁড়ায়। দুজন দুজনার খোঁখবর নেয়। এই গুণটি কিন্তু অনেক মানুষের মাঝেও নেই। ক্ষুদ্র পিঁপড়া থেকেও আমরা এই শিক্ষাটি নিতে পারি। পিঁপড়া যতোই ক্ষুদ্র হোক না কেন, পরিশ্রমী প্রাণী হিসাবে এর জুড়ি নেই। পোকামাকড়দের মধ্যে সবচেয়ে বড় মস্তিষ্কের অধিকারী হচ্ছে পিঁপড়া। অন্যান্য প্রাণীর তুলনায় পিঁপড়ার মস্তিষ্কে রয়েছে প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজারটিরও বেশি কোষ।

তাই অহেতুক এই সৃষ্টির প্রতি আমরা যেন কখনোই অবিচার না করি।  অপ্রয়োজনে তার বিনাশ না করি। হাদিসে আছে, একবার একটি গাছের নিচে একজন নবীকে পিঁপড়া কামড় দিলে তিনি গর্তসহ পিঁপড়ার দল পুড়িয়ে ফেলেন। তখন আল্লাহ তাকে ওহির মাধ্যমে জানালেন, ‘তোমাকে একটি পিঁপড়া কামড় দিল, তুমি এমন একটি জাতিকে পুড়িয়ে মারলে, যে (আমার) তসবিহ পাঠ করত? তুমি মারবেই যদি একটিই মারলে না কেন? যে তোমাকে কামড় দিয়েছিল।(মুসলিম : ২২৪১)

পিঁপড়া নিয়ে আমাদের মাঝে একটা কুসংস্কারও রয়েছে। বিশেষত গ্রামের মানুষের ধারণা, পিঁপড়া খেলে সাঁতার শেখা যায়। এটা বোকামি ছাড়া আর কিছুই নয়। সাঁতার শেখার উদ্দেশ্যে বা অন্য যে কোনো কারণে পিঁপড়া খাওয়া বৈধ নয়। কোনো খাদ্যের মধ্যে পিঁপড়া থাকলেও তা সম্পূর্ণভাবে বেছে বা ফেলে দিতে হবে। (আলমুহিতুল বুরহানি ৮/৪১৫, ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৫/৮৯, রদ্দুল মুহতার ৬/৩০৬)

 

 




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]