যৌতুক রোধে ইসলামের নির্দেশনা

আমাদের নতুন সময় : 25/01/2019

এসএম আরিফুল কাদের

 

যৌতুক প্রথা যুগ যুগ ধরে চলে আসা এক সামাজিক ব্যাধি। যৌতুকের দাবি প‚রণ করতে না পারায় ভেঙ্গে গেছে হাজারো বিয়ে, ঘর-সংসার, হারিয়ে গেছে অসংখ্য প্রাণ। এই প্রথার আবর্তে শুধু অসহায় মেয়েরাই বিপন্ন অবস্থার শিকার হয় তা নয়; কন্যা দায়গ্রস্থ পিতা-মাতারাও এই নির্মম অপসংস্কারের বলি হতে হয়।

ইসলাম নারীকে মর্যাদার আসন দিয়েছে। বিয়ের সময় স্ত্রীর কাছ থেকে যৌতুক নেওয়া নয় বরং স্ত্রীকে মোহর দেওয়ার জন্য বাধ্যবাধকতা আরোপ করেছে। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ করা হয়েছে ‘তোমরা নারীদের তাদের মোহর স্বতঃপ্রবৃত্ত হয়ে প্রদান করবে।’ (সূরা নিসা : ৪)

ইসলামের নীতিমালা অনুযায়ী অবৈধভাবে বা অনির্ধারিত পথে ধন-সম্পদ অর্জন করা চলবে না। অর্থনৈতিক লেনদেনের মৌলিক বিধান সম্পর্কে ধারণা দিতে গিয়ে মহান আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা নিজেদের মধ্যে একে অন্যের অর্থ-সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস করো না এবং মানুষের ধন-সম্পত্তির কিয়দংশ জেনেশুনে অন্যায়ভাবে গ্রাস করার উদ্দেশ্যে তা বিচারকদের কাছে পেশ করো না।’ (সূরা বাকারা : ১৮৮)। অন্য এক আয়াতে আছে, ‘হে মুমিনগণ! তোমরা একে অপরের সম্পত্তি অন্যায়ভাবে গ্রাস করো না।’ (সূরা নিসা : ২৯) অর্থাৎ যা তোমার নয় তা দাবি করা যাবে না, এটা অন্যায়।

মূলত বিবাহ হলো দ্বিপাক্ষিক চুক্তি। এতে খুশি হয়ে ও নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী উপহার প্রদান জায়েজ। তবে যৌতুক বা নিপীড়নমূলক দান জায়েজ নয়। প্রিয় নবী (সা.) তাঁর মেয়ে হজরত ফাতেমা (রা.)-এর বিয়েতে সংসারের জন্য একটি জাঁতা উপহার হিসেবে দিয়েছিলেন। অন্য বর্ণনায় আছে, তিনি (সা.) হজরত ফাতেমা (রা.)-কে একটি পশমে নির্মিত সাদা রঙের চাদর, একটি ইজখির ঘাস নির্মিত বালিশ এবং চর্ম নির্মিত পানির মশক দিয়েছিলেন। (আবু দাউদ ও ইবনে মাজাহ)

বিবাহের পর শ্বশুরালয় থেকে কোনো কিছু পাওয়ার আশা করাটা অন্যায় ও গোনাহের কাজ। যৌতুক নামক ওই পাওয়া থেকে বিরত থাকার নির্দেশও রয়েছে। হজরত ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) বলেন, ‘হে মুসলমান স¤প্রদায়! তোমরা বিয়েতে মোটা অঙ্কের মোহর, আড়ম্বরতা এবং যৌতুক দাবি করো না। কেননা, আল্লাহর কাছে এটার কোনো মর্যাদা বা মূল্য নেই। যদি থাকতো তাহলে রাসূল (সা.) তাঁর কন্যা ফাতেমার (রা.) বিয়েতে করতেন।’ (তিরমিজি)

যৌতুক ইসলামে নিষেধ বা হারাম। আর যেই বা এ নিষিদ্ধ কাজে লিপ্ত হয় তার জন্য রয়েছে মারাত্মক গোনাহ। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন- যদি কোনো ব্যক্তি ফেরত না দেওয়ার নিয়তে অর্থপ্রাপ্তির লোভে কোন নারীকে বিয়ে করে, তবে ওই ব্যক্তি একজন জিনাকারী। আর যে ব্যক্তি ফেরত না দেওয়ার নিয়তে কোনো ঋণ গ্রহণ করে, তবে ওই ব্যক্তি একজন চোর। (মিশকাতুল মাসাবিহ)

যৌতুক হারাম হওয়ার বিষয়ে কুরআন, হাদীসসহ ফতোয়ার কিতাবে উল্লেখ আছে। কোনো পক্ষ জেওরের শর্ত করা নিষেধ এবং ছেলের পক্ষ থেকে যৌতুক চাওয়া সম্পূর্ণ হারাম। (আহসানুল ফতোয়া)

উপরোক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে যৌতুক হারাম বা কবিরা গোনাহ হিসেবে পরিলক্ষিত হওয়ায় সে দাবানল থেকে নারী জাতিকে রক্ষা করা শুধুমাত্র সরকারই নয়; আলেমদেরও দায়িত্ব।

 

সমাজসহ সমাজের সকল শ্রেণির ব্যক্তিবর্গ সরকারের প্রদত্ত যৌতুক নিরোধ আইন ১৯৮০, ২০০০ ও ২০০৩ প্রয়োগ করে সরকারকে সহযোগতিার মাধ্যমে কনে লোভী বা আত্মসাৎকারী বরও বর পক্ষকে শাস্তির ব্যবস্থা করে সমাজে অবহেলিত নারীজাতিকে সঠিক মর্যাদার আসনে সমাসীন করে সমাজ ও দেশে শান্তি ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে সকলকে একযোগে কাজ করতে হবে।




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]