শিক্ষার মাধ্যমে জীবনে পূর্ণতা

আমাদের নতুন সময় : 27/01/2019

ট্রিজা গমেজ

ল²ীবাজার পবিত্র ক্রুশ ধর্মপল্লীতে বসবাসকারী প্রায় প্রতিটি পরিবারে রয়েছে শিক্ষক-শিক্ষিকা। এত অল্পসংখ্যক জনসাধারণের মধ্যে এত অধিক সংখ্যক শিক্ষক-শিক্ষিকা খুব কম এলাকায়ই আছে বলে আমার মনে হয়। এই ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় আবার স্কুল-কলেজেরও কমতি নেই। এত কাছাকাছি স্কুল-কলেজ থাকায় শিক্ষার্থীরা যেন ভাবে তার বাড়িতেই স্কুল। স্কুলের ঘন্টা যেন তার বাড়ির দরজায় এসে বাজতে থাকে।
এখন কথা হল শিক্ষার্থীরা কি সঠিকভাবে শিক্ষা পাচ্ছে? শিক্ষক-শিক্ষিকাগণ কি অত্যন্ত মমতা ও আন্তরিকতার সঙ্গে শিক্ষা দিয়ে থাকেন? শিক্ষক-শিক্ষিকাগণ হলেন মানুষ গড়ার কারিগর। তাঁদের সুশিক্ষার মাধ্যমেই একজন শিক্ষার্থী আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠত পারবে।
শিক্ষা শব্দটির অর্থ বিদ্যাভ্যাস করা। এই বিদ্যাভ্যাস করতে একজন শিক্ষার্থীকে শিক্ষক সাহায্য করে থাকেন। প্রকৃত জ্ঞান আহরণ করে জীবনের মুখোমুখি হবার যোগ্যতা অর্জনে সাহায্য করে থাকেন। শিক্ষার মাধ্যমে জীবনের পূর্ণতা লাভ করা যায়। একজন নিবেদিত প্রাণ শিক্ষক তাঁর ভান্ডার হতে সবটুকু উজাড় করে দিয়ে শিক্ষার্থীদের মানুষের মত মানুষ করার চেষ্টা করেন। তাঁর শিক্ষাদানে কোন ফাঁক থাকে না। শিক্ষক তার শিক্ষার্থীদের নিজ পরিবার, সমাজ তথা দেশের প্রতি কর্তব্য ও দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে নিজের ও সমাজের অন্যান্যদের মঙ্গল সাধনে সাহায্য করেন।
শিক্ষা মানুষের প্রাণ শক্তি, জাতির মেরুদন্ড, উত্থান পতনের মানদন্ড, পরশমনি। শিক্ষা মানুষের আজীবন সাধনার ধন। শিক্ষকগণ যদি শিক্ষার্থীদের এসব স্পষ্টভাবে শিক্ষার্থীদের বুঝিয়ে দেন তবেই আমাদের ছাত্র-ছাত্রীরা বিবেকবান ব্যক্তি হিসেবে চিহ্নিত হবে। যার বিবেক মৃত সে যে কোন রকমের মন্দ কাজ করতে দ্বিধা করে না। বিবেকবান ব্যক্তি সামান্যতম মন্দ কাজ করতে গেলেও তার বিবেক তাকে বাধা দেয়। বুকভরা আশা নিয়ে যে যুবকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে এসেছিল পরবর্তী সময়ে সে জানোয়ার হয়ে বেরিয়ে এসেছে। মানুষ গড়ার কারখানায় আজ তৈরী হচ্ছে অমানুষ। বিবেক নামক অমূল্য রতœটি আজ তারা বিসর্জন দিয়ে মানবকে দানবে পরিণত করছে। একজন সুশিক্ষক শিশুর মধ্যে ঘুমন্ত বিবেককে জাগিয়ে তোলার জন্য প্রয়োজনীয় শিক্ষা দান করে থাকেন। তাই আমাদের বর্তমান শিক্ষা হবে বিবেক বর্জিত শিক্ষা নয় প্রকৃত জ্ঞানদানই হচ্ছে বর্তমান শিক্ষার শ্লোগান। আর এই গুরুদায়িত্ব গ্রহণ করতে হবে শিক্ষক সমাজকে। যে ছাত্ররা ভবিষ্যতের কর্ণধার তাদের জীবন থেকে বিবেকহীন শিক্ষার বীজটি সম‚লে তুলে ফেলতে হবে। ‘ঝঃঁফবহঃং ধৎব ঃযব ভঁঃঁৎব ড়ভ ঃযব হধঃরড়হ’ কথাটা প্রত্যেক শিক্ষকে মনে রেখে পাঠদান করতে হবে। শিক্ষকগণ সমাজে সর্বাপেক্ষা সম্মানিত ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব। শিক্ষার্থীরা পিতামাতার চেয়ে তাদের শিক্ষকদের উপর বেশি নির্ভরশীল। তাই শিক্ষক মÐলীর উপর আদর্শ সমাজ গঠন নির্ভর করে।
আদর্শ শিক্ষকদের মধ্যে কিছু মৌলিক গুণাবলী থাকা প্রয়োজন। সময়ের মূল্য দিয়ে শিক্ষক প্রতিদিনের কাজ সময়মত করবেন। শিক্ষককে হতে হবে স্নেহ পরায়ণ। দরিদ্র ও পড়াশুনায় দূর্বল শিক্ষার্থীদের আদর- স্নেহ-ভালবাসা দিয়ে কাছে এনে তার সমস্যার কথা শুনে তা সমাধান করবেন। শ্রেণীকক্ষে শিক্ষককে প্রতিটি ছাত্র-ছাত্রীর উপর তীক্ষèদৃষ্টি রাখতে হবে। অমনযোগী-চঞ্চল শিক্ষার্থীদের শ্রেণীকক্ষে সামনের দিকে বসিয়ে তাদের মনযোগ আকর্ষণ করতে হবে। শ্রেণীকক্ষে শিক্ষক এমনভাবে পাঠদান করবেন যাতে প্রতিটি শিক্ষার্থী তাঁর কন্ঠস্বর শুনতে পারে ও বুঝতে পারে। শিক্ষকের পোশাক হতে হবে মার্জিত ও রুচিসম্মত। প্রয়োজনে শিক্ষক দরিদ্র শিক্ষার্থীদের বই-খাতা, কলম-পেন্সিলেরও ব্যবস্থা করতে পারেন।
মোট কথা একজন শিক্ষককে চোখ-কান খোলা রেখে ছাত্র-ছাত্রীদের পড়াশুনার পাশাপাশি সব দিক দিয়ে সাহায্য করতে হবে। তাহলে আমাদের প্রত্যেকটি পরিবার ও সমাজের উন্নতি হবে। আমরা একে অন্যের বিপদে-আপদে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে পারব। আমাদের সমাজে থাকবে না কোন হিংসা-বিদ্বেষ। আর শিক্ষকদের মাধ্যমেই দেশে তৈরী হবে আদর্শ নাগরিক। আদর্শ নাগরিক মানেই একটি সুশৃঙ্খল শান্তিপূর্ণ দেশ। হিংসাত্মক কার্যকলাপ বাদ দিয়ে হাতে হাত রেখে দেশের উন্নতির জন্য কাজ করবে এবং এই দেশ মাতৃকাকে সত্যিকারের সোনার বাংলা গড়ে তুলবে আমাদের এই ছাত্রসমাজ। যার পিছনে শিক্ষকদের ভ‚মিকাই প্রধান।
লেখক : অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষিকা, সেন্ট ফ্রান্সিস জেভিয়ারর্স গালর্স হাই স্কুল, ল²ীবাজার, ঢাকা




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]