আদালতে সাক্ষীর জবানবন্দি বাংলায় আর রায় হচ্ছে ইংরেজিতে এটা কোনোভাবেই ঠিক নয়, বললেন গোলাম আরিফ টিপু

আমাদের নতুন সময় : 10/02/2019

দেবদুলাল মুন্না : একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুন্যালের চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট গোলাম আরিফ টিপু এবার একুশে পদক পেয়েছেন ভাষা আন্দোলনে ভূমিকার জন্য। তিনি বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের অন্যতম সৈনিক, আইনজীবী ও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক। ১৯৩১ সালের ২৮ আগস্ট চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার কমলাকান্তপুরে এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে তার জন্ম।

সর্বক্ষেত্রে বাংলা ভাষার চর্চা হচ্ছে কি-না, এ প্রশ্নের জবাবে গোলাম আরিফ টিপু বলেন, ‘সর্বক্ষেত্রে বাংলা ভাষা আদৌ প্রতিষ্ঠিত হয়নি, এটা হওয়া দরকার। আদালতে সাক্ষীর জবানবন্দি হচ্ছে বাংলায় আর রায় হচ্ছে ইংরেজিতে, এটা কোনোভাবেই হওয়া উচিত নয়।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের রাষ্ট্রভাষা কী হবে সেটি ১৯৪৭ সাল থেকে আলোচনা শুরু হয়। দেশভাগের পর  পাকিস্তানের জন্ম হয় বেলুচ, পাঞ্জাব, পেশোয়ার আর আমাদের পূর্ব পাকিস্তান নিয়ে। তখন রাষ্ট্রপ্রধান ছিলেন মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ। তখন বুদ্ধিজীবী ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহসহ বেশ কয়েকজন, যারা শুরুতেই বলেছিলেন পূর্ব পাকিস্তানের জনসংখ্যার নিরিখে বাংলা ভাষা অন্যতম হওয়া উচিত। এর ধারাবাহিকতায় ১৯৪৮ সালে আন্দোলন একটু দানা বাঁধতে থাকলো। কিন্তু তীব্রভাবে শুরু হয় ১৯৫২ সালে। তখন আমি ডিগ্রি (বিএ) পাস করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এলাম, তখন ছাত্র ইউনিয়নের জন্ম হল। আমাকে করা হলো সাধারণ সম্পাদক আর সভাপতি করা হল আবদুল মতিনকে। আমাদের বন্ধু গাজীউল হক, তাজউদ্দীনসহ অন্যরা বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষার দাবি তুললাম। এরই মধ্যে জিন্নাহ সাহেব এলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলে উনি বললেন, উর্দুই হবে রাষ্ট্রভাষা। তখন আবদুল মতিন সঙ্গে সঙ্গে নো নো বলে চিৎকার করে উঠলেন। সঙ্গে সঙ্গে অন্য ছাত্ররা নো নো বলে চিৎকার করে ওঠে এবং দাঁড়িয়ে স্লোগান শুরু করে। পরিস্থিতি খারাপ দেখে জিন্নাহ সাহেব তাড়াতাড়ি বক্তৃতা শেষ করে সিকিউরিটি নিয়ে দ্রুত চলে যান। আজ আবদুল মতিন জীবিত নেই। তার ওই ‘নো নো’ বলে প্রতিবাদ করাটা এখনও চোখে ভাসে। এভাবে ভাষা আন্দোলন দানা বাঁধতে শুরু করে। আগাগোড়া বঙ্গবন্ধুও এ আন্দোলনে ছিলেন।’

একুশের পদকপ্রাপ্তিতে তিনি বলেন, ‘৪৮ সালে রাজশাহী কলেজ থেকে ভাষা আন্দোলনের মিছিল শুরু করি। রাজশাহী কলেজ থেকে মেডিকেল কলেজ পর্যন্ত এই আন্দোলনের বিস্তৃতি ঘটেছিলো। তারপর বহুদিন অতিবাহিত হলো। ঢাকায় আসি। তখনও আন্দোলন করি ভাষার জন্য। অতএব এ স্বীকৃতি পাওয়ার কথা ছিল আরও আগে। দেরিতে পেলাম, এতে আমিও আনন্দিত।’ সম্পাদনা : রেজাউল আহসান

 




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]