হিউম্যান রাইটস ওয়াচের দৃষ্টিতে খালেদা জিয়ার কারাজীবনের এক বছর

আমাদের নতুন সময় : 10/02/2019

লিহান লিমা : এক বছর আগে, বাংলাদেশের প্রধান বিরোধী দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির প্রধান খালেদা জিয়াকে জেলে পাঠানো হয়। ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে জাতীয় নির্বাচনের আগে খালেদা জিয়াকে অভিযুক্ত করে শাস্তি দেয়া হয়েছে। ওই সময় আদালত তার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের মামলাগুলোতে ব্যবস্থা নিয়েছে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ

এইচআরডব্লিউর এশিয়া বিষয়ক পরিচালক ব্র্যাড অ্যাডামসের এই লেখায় বলা হয়, মামলাগুলোর অন্তর্নিহিত যোগ্যতার বিষয়ে কোনো অবস্থান নেয় নি হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। খালেদা জিয়ার সমর্থকরা দাবি করেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ২০০৭-২০০৮ সালে সেনাসমর্থিত সরকার যে দুর্নীতির মামলা করেছিল, তারাই খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলাগুলো করে। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে সব মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে।

ব্র্যাড অ্যাডামস লেখেন, ২০১৮ সালের নির্বাচনকে সামনে রেখে বিরোধী দলীয় সদস্য ও সরকারের সমালোচকদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে গ্রেপ্তার একটি সাধারণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছিল। সরকারি ফলাফলে দেখা যায়, নির্বাচনে শতকরা ৯৫ ভাগেরও বেশি আসনে জয়ী হয়ে টানা তৃতীয় দফায় ক্ষমতায় এসেছেন শেখ হাসিনা।

কয়েকদিন আগে এইচআরডব্লিউ বিরোধী দলের ওপর আওয়ামী লীগ সরকারের প্রচ- আক্রমণাত্মক অবস্থান নিয়ে ‘ক্রিয়েটিং প্যানিক: বাংলাদেশ ইলেকশন ক্র্যাকডাউন অন পলিটিক্যাল অপোনেন্টস অ্যান্ড ক্রিটিকস’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

বিএনপি বলেছে, তাদের দলের সদস্য ও সমর্থকদের বিরুদ্ধে তিন লাখেরও বেশি ফৌজদারি মামলা দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। গ্রেফতারর করেছে কয়েক হাজারকে। ঐক্যফ্রন্ট রিপোর্ট করেছে, তাদের ৮ হাজার ২’শতাধিক সদস্য ও সমর্থককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অনেক মামলায় যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা ভিত্তিহীন। এমন অনেক মামলাকে ‘ভৌতিক মামলা’ বলে অভিহিত করা হয়েছে। এসব মামলায় অপরাধ সংঘটনের সময়ে অভিযুক্তদের কেউ কেউ মৃত, বিদেশে অথবা হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। উদাহরণ হিসেবে বলা যায় এক সময় বিএনপির সঙ্গে যুক্ত থাকা আবু তাহেরের কথা। ২০১০ সালে তিনি মারা গেছেন ক্যান্সারে। কিন্তু ২০১৮ সালের ১২ ডিসেম্বর তার বিরুদ্ধে বেআইনিভাবে সমাবেশ করেছেন এবং আওয়ামী লীগের যুব শাখা যুবলীগের একজন সদস্যকে হত্যার ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়।

মানবাধিকার সংস্থাটি জানায়, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বড় দুই দলের নেতাকর্মীরাই সহিংসতায় যুক্ত ছিলেন। কিন্তু পুলিশ গ্রেপ্তার ও আটক করেছে বিরোধী দলের সদস্যদের। নিরাপত্তারক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য এবং ক্ষমতাসীন দলের সমর্থক, যারা বিরোধী দলীয় প্রার্থী ও সদস্যদের টার্গেট করেছিল, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার ঘটনা বিরল। নির্বাচনী অনিয়মের অভিযোগ তদন্তের পরিবর্তে, কর্তৃপক্ষ নির্বাচনে জালিয়াতির রিপোর্টিংয়ের জন্য সাংবাদিকদের গ্রেপ্তার করেছে। গুরুতর অভিযোগগুলোকে দ্রুততার সঙ্গে প্রত্যাখ্যান করেছে সরকার ও নির্বাচন কমিশন। তারা নির্বাচনকে অবাধ ও সুষ্ঠু বলে অভিহিত করেছে। ২০১৮ সালের নির্বাচনে যেসব গুরুত্বর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে তার নিরপেক্ষ ও পক্ষপাতিত্বহীন তদন্তের সুপারিশ করেছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ও অন্যরা। এসব সুপারিশ গ্রহণ করা উচিত নির্বাচন কমিশন ও সরকারের। সম্পাদনা : ইকবাল খান

 




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]