• প্রচ্ছদ » » আমি যদি বইমেলার আয়োজনের দায়িত্ব পেতাম


আমি যদি বইমেলার আয়োজনের দায়িত্ব পেতাম

আমাদের নতুন সময় : 11/02/2019

আরিফ জেবতিক

১. আয়োজনটা হতো সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের স্বাধীনতা স্তম্ভ (কাচের তৈরি চমৎকার স্তম্ভটিকে) ঘিরে। এতো চমৎকার একটি স্তম্ভ, রাত হলে কাচ থেকে আলো বেরিয়ে পুরো এলাকা ঝলমল করে, অথচ এই স্তম্ভটিকে আমরা ভালোভাবে ব্যবহারই করতে পারলাম না এখনো। মাঝখানে স্তম্ভ আর তার লাগোয়া চত্বরটি পুরোটা উন্মুক্ত রেখে চারপাশে স্টল বসানো যেতো। অথবা স্তম্ভটিকে বইমেলার ভেতরে ঘিরে নিয়ে এসে একপাশে স্তম্ভ এবং তার চত্বরকে অ্যাক্টিভিটি জোন/আড্ডা জোন হিসেবে রেখে দিয়ে অন্য পাশে বইয়ের স্টলগুলো রাখতাম।
২. পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার জন্য প্রচুর কর্মী নিয়োগ করতাম। এখন মেলার আশপাশ দিয়ে হেঁটে আসতে উদ্যানের যে নোংরা আবর্জনার স্ত‚প থাকে, সেটি যাতে না থাকে সেটি নিশ্চিত করতাম। পুরো এলাকা ঝকঝকে তকতকে রাখতাম।
৩. বইমেলায় প্রবেশে টিকিট সিস্টেম থাকা দরকার। দশ টাকা দিয়ে প্রবেশ করবেন, তবে সেই টাকাও বৃথা যাবে না, এই টিকিটকে বই কেনার জন্য রিডিম করা যাবে। আপনি মেলায় যেকোনো বই কিনলে দশ টাকা হিসেবে এই টিকিটকে স্টলে দিতে পারবেন। প্রকাশকরা পরবর্তীতে এই টিকিট দেখিয়ে মেলা কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে টাকা ক্যাশ করে নিতে পারতেন। এতে করে বই বিক্রি বাড়তো, অন্যদিকে উটকো লোকদের প্রবেশও কমে আসতো।
৪. বইমেলা চলতো প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা। যেখানে অবকাঠামোর ফিক্সড কস্ট আছে, সেখানে মেলা বিকেলে শুরু করে সন্ধ্যায় শেষ করে দেয়ার কোনো মানে নেই। ম্যাক্সিমাম আউটপুটের জন্য ১২ ঘণ্টা মেলা চলতেই পারে। আজকাল অফিস ফেরত লোকের পক্ষে মেলায় যাওয়া অনেক চ্যালেঞ্জিং হয়ে গেছে, রাত ১০টা পর্যন্ত মেলা চললে তাদের একটা অংশ পাওয়া যেতো। এতে মেলায় সবসময় একটা শান্ত পরিবেশ থাকতো এবং একটা নির্দিষ্ট সময়ের ভিড়কে অনেকখানিই ছড়িয়ে দেয়া যেতো।
৫. বইমেলায় যে শব্দদূষণটি আমাদের বাংলা একাডেমির ঘোষকরা করেন, সেটি বন্ধ করে দিতাম। ‘ডেমরা প্রকাশনী থেকে বেরিয়েছে কুদ্দুস ভাইয়ের বই-আমি কেন তোমার না’ মূল্য-সত্তর টাকা- এ রকম ঘোষণা শুনে কেউ কোনোদিন বই কিনে না। আর এই চোঙা মাইক অনেক পুরনো প্রযুক্তি, কানের জন্য কষ্টকর। তাই ঘোষকদের আমি একমাসের জন্য ছুটি দিয়ে কক্সবাজার পাঠিয়ে দিতাম। মেলার সাউন্ড সিস্টেম হবে আধুনিক, বিভিন্ন পাশ থেকে ঘিরে আসবে সাউন্ড। যে প্রযুক্তিটা বেঙ্গল ক্লাসিকাল মিউজিক ফেস্টে ব্যবহার করা হয় এ রকম। সাউন্ড সিস্টেমে বাজবে পঞ্চকবির গান, লালন। বাজবে এজ্রাস, সেতার, বাঁশি। একটা আনন্দময় পরিবেশ।
৬. মেলা চত্বরে বার্গার আর চিকেন রোলের এসব বিদঘুটে সদৃশ বড় বড় রেস্তোরাঁ থাকবে না। তার চেয়ে বরং নির্দিষ্ট সংখ্যক হকারের স্টল থাকবে। (চা-শিঙাড়া-চপ) নানা জাতের পিঠা। হকারদের স্টল থাকবে, সামনে দুটো করে বেঞ্চ। বেঞ্চে বসে লোকজন আড্ডা মেরে মেরে চা খাবে। লেবু চা, আদা চা। সাথে পিঁয়াজু-ঘুঘনি-বেগুনি-ভাপা পিঠা-চিতই পিঠা।
৭. নতুন বইয়ের খবর জানানোর জন্য আধুনিক প্রযুক্তি থাকবে। বিভিন্ন স্থানে প্রতিদিন এই বইগুলোর ডিসপ্লে হতে থাকবে বড় বড় এলইডি স্ক্রিনে। বইমেলার অ্যাপস থাকবে। আপনি অ্যাপস ডাউনলোড করে রাখবেন, প্রতিদিন হরেক রকম খবর-সাক্ষাৎকার-তর্ক-বিতর্কের খবর লেগে থাকবে।
৮. সেমিনারে মধ্যযুগ আর্য যুগের প্রস্তর সাহিত্য-এ রকম জ্ঞান গম্ভীর বিষয় যেমন থাকবে, তেমন প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময় থাকবে সমকালীন বিষয় নিয়ে তর্ক-বিতর্কের আসর। মোহিত কামাল কীভাবে বাংলা একাডেমির পুরস্কার পাইতে পারেন কিংবা ডোনাল্ড ট্রাম্পের টুইটার ম্যানিয়াকে কী সাহিত্য বলা যাবে কিংবা বাংলাদেশে গাঁজাকে কী বৈধ করে দেয়া উচিত এসব সমকালীন বিষয়ে সেমিনার হবে। যাদের বয়স ৪০ এর ওপরে তারা সপ্তাহে মাত্র ১ দিন চান্স পাবেন, বাকি ৬ দিন তরুণদের খপ্পরে থাকবে এসব সেমিনার। এ বছরের প্রকাশিত বাছাই করা কবিতাগুলো আবৃত্তি করবে আবৃত্তি সংগঠনগুলো। কবিরা স্বরচিত কবিতা পড়ার আগে অডিশন দিয়ে নিজেদের উচ্চারণের বিষয়টি নিশ্চিত করতে না পারলে স্বরচিত কোনো কবিতা পাঠের আসর হবে না। ফেসবুক থেকে




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]