মহীয়সী নারী হযরত রাবেয়া বসরী (রহ.)

আমাদের নতুন সময় : 01/03/2019

নকীবুল হক

 

ইরাকের আকাশে যখন মেঘ ছিলনা, বাতাসে ছিলনা আদ্রতা, জঠর-জ্বালায় মানুষ নিজের সৎ-স্বভাব পর্যন্ত বিসর্জন দিয়ে দিত, এমনি এক কঠিন সময়ে ৭১৭ খ্রিষ্টাব্দে সম্ভ্রান্ত দরিদ্র মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন আধ্যাতিক সাধিকা হযরত রাবেয়া বসরী (রহ.)। তাঁর পিতার চার মেয়ের মধ্যে তিনি ছিলেন সর্বকনিষ্ঠা। তাঁর পিতামাতা দরিদ্র হলেও ছিলেন সৎ এবং অত্যন্ত ধার্মিক প্রকৃতির। শৈশবে মার মুখে আল্লাহর কথা শুনে বাবেয়ার মনে তীব্র ভালোবাসা জন্ম নেয়। আর তখন থেকেই রাবেয়া সময় পেলে আল্লাহর ইবাদাতে মশগুল হয়ে যেত। ছোট বেলা থেকেই রাবেয়া ছিল শান্ত ও নিবিড় প্রকৃতির। তাই এক সাধক রাবেয়াকে দেখে বলেছিলেন, রাবেয়া বড় হয়ে বিশ্বজোড়া পরিচিতি ও স্বনামধন্য মহীয়সী রমনীর আসন দখল করবেন। পরবর্তীতে সেই সাধকের কথা সত্য হয়েছিল। রাবেয়ার বয়স যখন সবে মাত্র আট বছর তখন তিনি তাঁর বাবাকে হারান।

আবার সেই শোক কাটতে না কাটতেই মা-কেও হারালেন। এই অপ্রত্যাশিত বিয়োগ বেদনায় চার বোন হয়ে পড়লেন দিশেহারা। পরিবারে নেমে আসল প্রচÐ দারিদ্র্যতা। ফলে এই দারিদ্র্যতার কারণে রাবেয়ার প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা লাভ হয়নি। একদিন রাবেয়া এক অসৎ লোকের খপ্পরে পড়ে এবং সেই অসৎ লোকটি রাবেয়াকে এক ধনী লোকের কাছে বিক্রি করে দেয়। ফলে রাবেয়া হয়ে যায় ক্রীতদাসী। রাবেয়ার গৃহস্বামী ছিল বড়ই নিষ্ঠুর। সে রাবেয়াকে দুবেলা পেট পুরে খাবার খেতেও দিত না। সারাদিন রাবেয়াকে অনেক কষ্ট সহ্য করতে হতো। তরপরও রাবেয়া কখনো কোনো অভিযোগ করতেন না। রাবেয়ার মনে বদ্ধমূল ছিল যে, একদিন না একদিন তাঁর এই কষ্টের অবসান ঘটবে। সে সারাদিন কাজ করে রাতে আল্লাহর ইবাদাতে মশগুল হতেন। এমনো হতো যে, সে আল্লাহর ইবাদাত করতে করতে ভোরের আলো ফুটে উঠত। কিন্তু তাঁর এই সাধনার কথা কেউ জানত না। একদিন গভীর রাতে রাবেয়ার গৃহস্বামীর ঘুম ভেঙ্গে যায় এবং সে বাহিরে আসে। বাহিরে এসে দেখতে পায় রাবেয়ার কুঠিরের উপর আকাশ থেকে এক নূর পড়ছে আর রাবেয়া আল্লাহর কুদরতি পায়ে সেজদা করছে। রাবেয়া আল্লাহর ইবাদাতে এতটাই মগ্ন ছিলেন যে, তাঁর কুঠিরে যে নূরের বন্যা বয়ে যাচ্ছে তার প্রতি রাবেয়ার কোনো খেয়ালই ছিল না।

রাবেয়ার গৃহস্বামী এই অবস্থা দেখে ভয়ে কাঁপতে থাকে। তিনি বুঝতে পারেন যে রাবেয়া কোনো সাধারণ রমনী নয়। গৃহস্বামী নিজেকে মনে মনে অপরাধী ভাবতে থাকে। তিনি ভাবতে থাকেন রাবেয়াকে মুক্ত করে দেবেন। এই ভেবে গৃহস্বামী নিজ ঘরে ফিরে গেলেন। কিন্তু বাকি রাত তার ঘুম হয়নি।




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]