আকাশ পৃথিবীর সুরক্ষিত ছাদ

আমাদের নতুন সময় : 08/03/2019

আমিনুল ইসলাম হুসাইনী

আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকতে ভালো লাগে না কার? সে দিনের আকাশে মেঘের উড়ে চলাই হোক কিংবা অগণন তারা ভরা রাতের আকাশই হোক। আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকার মুগ্ধতাই যে আলাদা। মানবজীবনের যত দুঃখ, কষ্ট, জরাজীর্ণতাই থাকুক না কেন আকাশের দিকে এক পলক তাকালে অধরা ওই আকাশই সব দুঃখকে নিজের বুকে টেনে নিয়ে উজাড় করে দেয় তার পরম মমতা। মায়াময় অদৃশ্য হাতে যেন মুছে দেয় সব কষ্টের গøানি। তাই সুদূরবিস্তৃত ত এ আকাশদ্বীপের হাতছানি উপেক্ষা করা সাধ্যবহির্ভূত।
মাথার উপর এই নিলাভ আকাশের দিকে দু’চোখ মেলে তাকালে মনের গহিনে প্রথমেই যে প্রশ্নটা উঁকি দেয়, তা হচ্ছে, ‘কে সেই স্রষ্টা? যিনি এ খুঁটিহীন বিশাল আকাশ সৃজেছেন আপন কুদরতে।’ আকাশ পানে দুই চোখ মেলে বান্দা যখন এমন ভাবনায় অস্থির, ঠিক তখনই মনের গহিনে অদৃশ্য শব্দেরা ঘোষণা করে, ‘এ সুনিপুণ আকাশ; সে তো মহান আল্লাহরই সৃজন।’
এ প্রসঙ্গে পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করেছেন, ‘আর আমি নির্মাণ করেছি তোমাদের ওপর মজবুত সপ্ত আকাশ।’ (সূরা নাবা : ১২) অপর আয়াতে বলা হয়েছে ‘আর আমি আকাশকে করেছি সুরক্ষিত ছাদ’…। (সূরা আম্বিয়া : ৩২)
আকাশ যেন এক রহস্যপুরী। এ নিখিল জাহানে আল্লাহ তায়ালা যত রহস্য সৃষ্টি করেছেন, আকাশ হচ্ছে সেসব রহস্যের জননী। এর রহস্যের শেষ কোথায়, তা শুধু আল্লাহ তায়ালাই ভালো জানেন। তবে সম্প্রতি বিজ্ঞানীরা এ সপ্তস্তর বা সাত আকাশের পুরত্ব ও দূরত্ব নিয়ে কিঞ্চিৎ ব্যাখ্যা করেছেন। তাদের ধারণা, এ সপ্তাকাশের প্রথম স্তরের পুরুত্ব আনুমানিক ৬.৫ ট্রিলিয়ন কিলোমিটার। দ্বিতীয় আকাশের ব্যাস হলো ১৩০ হাজার আলোকবর্ষ। তৃতীয় স্তরের বিস্তার ২ মিলিয়ন আলোকবর্ষ। চতুর্থ স্তরের ব্যাস ১০০ মিলিয়ন আলোকবর্ষ। পঞ্চম স্তরটি ১ বিলিয়ন আলোকবর্ষের দূরত্বে। ষষ্ঠ স্তরটি অবস্থিত ২০ বিলিয়ন আলোকবর্ষের দূরত্বে। আর সপ্তম স্তরটি বিস্তৃত হয়ে আছে অসীম দূরত্ব পযর্ন্ত।
আকাশ কিন্তু শুধু রহস্য দিয়েই ছাওয়া নয়, আকাশের রয়েছে অনন্য সৌন্দর্য। যে সৌন্দর্য বিমুগ্ধতায় আচ্ছন্ন করে উদাসী চিত্তকে। আকাশ মানেই মেঘেদের অবাধ বিচরণ। শুধু মেঘ আর মেঘ। পালতোলা নৌকার মতো আকাশ দাপিয়ে বেড়ানো এ মেঘমালা মনে এনে দেয় প্রশান্তির আবেশ।
আকাশের এ রূপ-রহস্য শুধু উদাস মনের ভালোলাগাই নয়, এ যে চিন্তাশীলদের মনের খোরাক। বিশাল এ আকাশের নান্দনিকতা, নিপুণতা, সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনা নিয়ে চিন্তাভাবনা করলে মনের পর্দায় ভেসে ওঠে আল্লাহর অসীম কুদরতের অসংখ্য নিদর্শন। এতে ঈমানদারের ঈমান হয় দৃঢ় ও সতেজ। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করেছেন, ‘নিশ্চয়ই নভোমন্ডল ও ভূমন্ডল সৃজনে এবং দিন-রাতের পরিবর্তনে সুস্পষ্ট নিদর্শন রয়েছে জ্ঞানীদের জন্য। যারা দাঁড়িয়ে, বসে, শুয়ে আল্লাহর জিকির করে এবং নভোমন্ডল ও ভূমন্ডল সৃজন নিয়ে চিন্তাভাবনা করে। (তারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে স্বীকার করতে বাধ্য হয়) হে আমার প্রতিপালক! আপনি এগুলো বৃথা সৃষ্টি করেননি। আপনি (বৃথা সৃষ্টি করার দোষ থেকে) পবিত্রতম।’ (সূরা আলে ইমরান : ১৯০-১৯২)
তাই আমাদেরও উচিত এ নভোন্ডল ও ভূমন্ডলের সৃষ্টিগুলোকে নিয়ে চিন্তাভাবনা করা। মহাকাশ আবিষ্কার ও বিজ্ঞান চর্চা ইবাদত বটে। এসব অপরুপ সৃষ্টি দেখে মহান রবের কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করা। উচিত গভীর রজনীতে উঠে মনের আকুতি জানিয়ে সেই ‘আকাশের ঠিকানা’য় প্রভুর কাছে পত্র লেখা। যে আকাশে প্রত্যেক রাতের শেষ তৃতীয়াংশে তিনি হাজির হন বান্দাদের ডাকে সাড়া দিতে। যেমনটি বর্ণিত হয়েছে বোখারির হাদিসে।




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]