ইসলামে নারীর সম্মান অতুলনীয়

আমাদের নতুন সময় : 08/03/2019

আহমদ আবদুল্লাহ

মানব জীবনে দুঃখ কষ্ট,পরিশ্রম ও সাধনার মাঝে একটু সুখের অনুভ‚তি, একটু খানি হাসির ঝিলিক, হালকা আনন্দ স্ফুর্তি, একটু সুখ ও সৌন্দর্য উপভোগ করতে হয়, এই তো বিনোদন। আর এর প্রয়োজনীয়তা অনেক বেশী। রাসুল (সা.) মাঝে মাঝে হাস্য রসিকতার মাধ্যমে চিত্ত বিনোদন করতেন যা অনেক হাদিস দ্বারা প্রমানিত। তবে তা সত্য হতো। মিথ্যের লেশ মাত্র থাকত না। কিন্তু বর্তমানে চিত্ত বিনোদনের নামে চলছে অশ্লীলতার সমাহার। মক্ষিরানীদের মাতাল করা প্রলয় নৃত্য, নারী সম্প‚র্ণ রুগ্ন, অর্ধনগ্ন অবস্থায় ছিনেমায়, টিভি, বিজ্ঞাপন চিত্রে। সর্বত্র চলছে বিনোদনের নামে বস্ত্র হরণের মহড়া। বিনোদন আর নগ্ন নারী আজ সমর্থক শব্দে পরিণত হয়েছে। যত কিছু আনন্দ দেয় সবটাই কি চিত্ত বিনোদন বলে গণ্য হবে ?
মহানবী (সা.) নারীর মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে ঘোষণা দেন,’সাবধান! তোমরা মেয়েদের প্রতি সদ্ব্যবহার করো, কেননা তারা তোমাদের তত্ত¡াবধানে রয়েছেন সাবধান! তোমাদের স্ত্রীদের উপর তোমাদের অধিকার যেমন অধিকার রয়েছে তেমনি তোমাদের উপরও রয়েছে তাদের অনুরূপ অধিকার। পুরুষ তার পরিবার-পরিজনের রক্ষক এবং স্ত্রী তার স্বামীর ঘরের এবং সন্তানদের রক্ষণাবেক্ষণকারী।’ (রিয়াদুস সালেহিন: ২৭৬)
মানব সভ্যতা ও ধর্মের ইতিহাসে এ প্রথম নারী ন্যায্য সম্পত্তি পাওয়ার এবং রক্ষণাবেক্ষণের অধিকার পেলো। মহানবী (সা.) নারীদেরকে তাদের পছন্দ স্বামী গ্রহণের প‚র্ণ স্বাধীনতা দিয়েছেন। কন্যা সন্তান হত্যা নিষিদ্ধ করে দেন। উপরন্তু কন্যা, মেয়ে, বোন লালন-পালনকারীদের জান্নাত লাভের সুসংবাদ দেন। পারিবারিক শান্তি ও সামাজিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য ঘোষণা দেন। ‘মা তোমাদের জন্য জান্নাত স্বরূপ’। পবিত্র কোরআন ও হাদিসে বহু বিখ্যাত নারীর উল্লে রয়েছে, তাঁরা নিজ নিজ অবস্থানে সেরা ছিলেন। যেমন: হজরত মা হাওয়া (আ.), আদমকন্যা আকলিমা, ইব্রাহিম (আ.)-এর পতœী সারা, ইসমাইল (আ.)-এর মাতা হাজেরা, মিসরপতির স্ত্রী জুলায়খা, সুলাইমানের পতœী সাবার রানি বিলকিস, ফেরাউনের স্ত্রী বিবি আছিয়া, আইয়ুব (আ.)-এর স্ত্রী বিবি রহিমা, ইমরানের স্ত্রী হান্না, ঈসা (আ.)-এর মাতা বিবি মরিয়ম, নবী করিম হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর মাতা আমেনা ও দুধমাতা হালিমা সাদিয়া; উম্মুল মুমিনিন খাদিজা (রা.), হাফসা (রা.), আয়িশা (রা.), মারিয়া (রা.)সহ নবী পতœীগণ; নবীনন্দিনী রুকাইয়া, জয়নব, কুলসুম ও ফাতিমা (রা.); আবু বকরের কন্যা আসমা, শহিদা সুমাইয়া ও নবীজির দুধবোন সায়েমা। নারীর মানবতার মুক্তি এবং তাদের সবচেয়ে ম‚ল্যবান সম্পদ সতীত্ব রক্ষায় সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার বিধান এক মাত্র ইসলামেই রাখা হয়েছে। সতীত্ব রক্ষার প্রয়োজনেই বালেগা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বিবাহের স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে মাতৃজাতিকে। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেন, একবার এক লোক মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর দরবারে এসে জিজ্ঞেস করলেন, আমার সদ্ব্যবহার পাওয়ার বেশি অধিকারী কে? নবীজি (সা.) বললেন, ‘তোমার মা’। ওই লোক জিজ্ঞেস করলেন, তারপর কে? তিনি উত্তর দিলেন ‘তোমার মা’। ওই লোক আবারও জিজ্ঞেস করলেন, তারপর কে? এবারও তিনি উত্তর দিলেন ‘তোমার মা’। (বোখারি)
এত মর্যাদা দেওয়া হয়েছে যে তার গায়ে হাত উঠানো তো দ‚রের কথা তার প্রতি পর পুরুষ চোখ তুলে যদি তাকায় তাহলে সে পুরুষের জন্যেও ইসলামে শাস্তির বিধান রয়েছে। ইসলামের দৃষ্টিতে নারী-পুরুষ একে অন্যের পরিপ‚রক। এ প্রসঙ্গে পবিত্র কোরআনে রয়েছে, ‘তারা তোমাদের আবরণস্বরূপ আর তোমরা তাদের আবরণ।’ (স‚রা: বাকারা১৮৭)। স্ত্রীর গুরুত্ব সম্পর্কে মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘উত্তম স্ত্রী সৌভাগ্যের পরিচায়ক।’ (মুসলিম শরিফ)। তিনি আরও বলেন, ‘তোমাদের মধ্যে সে–ই উত্তম, যে তার স্ত্রীর কাছে উত্তম।’ (তিরমিজি)




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]