কিয়ামতের কয়েকটি আলামত

আমাদের নতুন সময় : 08/03/2019

জহিরুল ইসলাম

কুরআন কারীমের অসংখ্য আয়াতে এবং অগণিত হাদিসে কিয়ামত ও তার বিভীষিকাময় অবস্থা বর্ণনা করা হয়েছে। আল কুরআনে বর্ণিত হয়েছে- (শিঙ্গায় ফুঁৎকার দেওয়া হবে)। ফলে আল্লাহ যাদেরকে ইচ্ছা করেন তারা ছাড়া আসমানসমূহে যারা আছে এবং পৃথিবীতে যারা আছে সকলেই বেহুঁশ হয়ে পড়বে। তারপর আবার শিঙ্গায় ফুঁৎকার দেওয়া হবে। তখন তারা দাঁড়িয়ে তাকাতে থাকবে। (সূরা যুমার:৩৯/৬৮)
আরো ইরশাদ হয়েছে- (অতঃপর যখন শিঙ্গাঁয় ফুক দেওয়া হবে, একটি মাত্র ফুঁক । আর পর্বতমালাসহ পৃথিবী উৎক্ষিপ্ত হবে এবং মাত্র একটি আঘাতে এগুলো চ‚র্ণ-বিচ‚র্ণ হয়ে যাবে। ফলে সে দিন মহাঘটনা সংঘটিত হবে। আর বিদীর্ণ হয়ে যাবে। ফলে সেদিন তা হয়ে যাবে দুর্বল বিক্ষিপ্ত । (সূরা হা-ক্কা: ৬৯/১৩-১৬)
কিয়ামতের আলামত ও পূর্বাভাষ সর্ম্পকে আল-কুরআনে ইরশাদ হয়েছে-(সুতরাং তারা কি কেবল এই অপেক্ষা করেছে যে, কিয়ামত তাদের নিকট আকস্মিকভাবে এসে পড়–ক? অথচ কিয়ামতের আলামতসমূহ তো এসেই পড়েছে কেমন করে?(সূরা মুহাম্মদ:৪৭/১৮)
কুরআনুল কারীম ও অসংখ্য হাদীসে কিয়ামতের বিভিন্ন আলামত বা পূর্বাভাষ উল্লেখ করা হয়েছে। ওলামায়ে কেরাম সেগুলোকে দুই স্তরে ভাগ করেছেন। কিছু বিষয়কে তাঁরা আলামতে সুগরা বা ক্ষুদ্রতর আলামত অথবা সাধারণ আলামত এবং বিষয়কে ‘আলামতে কুবরা’ বা বৃহত্তর আলামত কিংবা বিশেষ আলামত বলে উল্লেখ করেছেন। আলামতে সুগরা:- কিয়ামতের আলামত কিংবা বিশেষ যে সকল পূর্বাভাসগুলো প্রকাশিত হয়ে পড়েছে। এ সকল পূর্বাভাসের মধ্যে অন্যতম হলো, রাসূলুল্লাহ (সা.) এর আগমন। হযরত সাহল ইবনু সাআদ আস -সায়িদি বলেন, রাসূল (সা.) ইরশাদ করেছেন-(রাসূল (সা) নিজের হাতের তর্জনী ও মধ্যমা আঙ্গুলী একত্রিত করে বলেছেন, আমি প্রেরিত হয়েছি কিয়ামতের সাথে এভাবে পাশাপাশি।”) (সহীহ বুখারী: হাদীস নং-৫৩০১)
আলামতে কুবরা:- হাদীস শরীফে এসেছে। হযরত হুযাইফা ইবনে আসীদ গিফারী (রা) হতে বর্ণিত । তিনি বলেন রাসূল (সা.) আরাফাহর মাঠে (বিদায়ী হজ্বের সময়) অবস্থান করছিলো। আমরা তাঁর থেকে একটু নীচু স্থানে অবস্থান করছিলাম। তিনি আমাদের দিকে তাকিয়ে বললেন, তোমরা কি নিয়ে আলোচনা করছ? আমরা বললাম, কিয়ামত সর্ম্পকে আলোচনা করছি। তখন তিনি বললেন-“দশটি নির্দশন বা আলামত সংঘটিত হওয়ার আগ পর্যন্ত কিয়ামত হবে না। ১) পূর্ব দিকে ভ‚মিধ্বস ২) পশ্চিম দিকে ভ‚মিধ্বস ৩) আরবের উপদ্বীপে ভ‚মিধ্বস। ৪) ধুম্র ৫)দাজ্জাল ৬) দাব্বাতুল আরছ বা ভ‚মির প্রাণী ৭) ইয়াজূজ- মাজুজে ৮)পশ্চিম দিক থেকে সূর্যোদয় ৯) আদর্ন (এডন) ভ‚গর্ভ হতে অগ্নি-যা নির্গত হয়ে মানুষদের তাড়িয়ে নিয়ে যাবে। ১০) ঈসা ইবনু মারইয়াম (আ.) এর অবতরন।”এই সর্ম্পকে আল্লাহ তায়াল্লা বলেন,(যেদিন এ পৃথিবী পরিবর্তিত হয়ে অন্য পৃথিবী হবে এবং আসমানসমূহ হও। আর সে দিন আপনি অপরাধীদের দেখবেন, তারা শিকলে বাঁধা । তাদের পোশাক হবে আলক। তরার এবং আগুন তাদের চেহারাসমূহে ঢেকে ফেলবে। এজন্য যে, আল্লাহ প্রত্যেককে তারা কৃর্তকমের ফল দেবেন। নিশ্চয় আল্লাহ দ্রæত হিসাব গ্রহণ কারী (সূরা ইব্রাহিম: ১৪/৪৮-৫১)




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]