যুদ্ধের নামে দাঙ্গা-ফ্যাসাদের অনুমতি দেয়নি ইসলাম

আমাদের নতুন সময় : 08/03/2019

মোস্তফা কামাল গাজী

ইসলাম মানবতার ধর্ম। পশুত্বকে বিলিন করে মনুষ্যত্ব শিখানো ইসলামের অনুপম আদর্শ। দাঙ্গা-ফাসাদ, সন্ত্রাসবাদকে ইসলাম কখনোই সমর্থন দেয়নি। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘তোমরা জমিনে ফিতনা-ফাসাদ সৃষ্টি করো না।’ (সুরা কসসঃ ৭৭)
যুদ্ধ আসলে ভালো কাজ নয়। যুদ্ধ-বিগ্রহ দাংগা-হাংগামা মানুষের ক্ষতি ছাড়া কোন কল্যাণ বয়ে আনে না। মুসলমানদের ভূখন্ড অথবা জনগোষ্ঠি যদি কাফের-মুশরিক কর্তৃক আক্রান্ত হয়, তাহলে তার জন্য রয়েছে সম্মিলিত জিহাদের বিধান। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘তোমাদেরকে জিহাদের হুকুম দেয়া হয়েছে, অথচ তা তোমাদের কাছে অপছন্দনীয়। হতে পারে তোমরা এমন কিছুকে অপছন্দ কর যা আসলে তোমাদের জন্য কল্যাণকর। আবার এমনও হতে পারে কোন জিনিসকে তোমরা পছন্দ করো, অথচ তা তোমাদের জন্য অকল্যাণকর। আল্লাহ সবকিছু জানেন, কিন্তু তোমরা জানো না।’ (সুরা বাকারা, ২১৬)
যখন যুদ্ধ ছাড়া সমাজকে শান্তিপূর্ণ রাখার আর কোন পথ অবশিষ্ট্য থাকেনা তখনই বাধ্য হয়ে জিহাদের অনুমতি দেয়া হয়। ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, নবি করিম (সা.) এর জীবদ্দশায় যতগুলো যুদ্ধ হয়েছে, তন্মধ্যে দু-একটি ছাড়া সবগুলোই ছিলো প্রতিহতমূলক। আক্রমনাত্মক যুদ্ধ খুব কমই হয়েছে। যুদ্ধের ময়দানেও নবি করিম (সা.) ছিলেন অত্যন্ত উদার? যুদ্ধে আগত সৈনিক ছাড়া বেসামরিক মানুষদের তিনি দিয়েছেন পরিপূর্ণ নিরাপত্তা। অমুসলিম নরী, শিশু আর বৃদ্ধদের হত্যা করার ব্যাপারেও সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। এর দ্বারাই বুঝা যায় ইসলামে দাঙ্গা-ফাসাদ কতটা অপ্রিয়।
ফকিহদের মতে নিম্নের কয়েকটি অবস্থায় জিহাদ ফরজ হয়।
প্রথমত : যখন মুসলিম ও অমুসলিম সৈন্যবাহিনী পরস্পর মুখোমুখি হয় এবং যুদ্ধ ছাড়া আর কোন শান্তিপূর্ণ পথ খোলা থাকে না তখন উপস্থিত ব্যক্তিদের সেখান থেকে পলায়ন করা বৈধ নয়। তখন প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য আবশ্যক হয়ে যায় দৃঢ়পদ ও অবিচল থাকা। দ্বিতীয়ত : যখন শত্রæবাহিনী কোন মুসলিম সম্প্রদায়ের উপর আকস্মিক আক্রমণ করে তখন নারী পুরুষ নির্বিশেষে সকলের উপর আবশ্যক হয়ে যাবে তাদের গতিরোধ করা। তারা যদি সক্ষম না হয় তাহলে, তাদের পার্শ্ববর্তী লোকদের উপর পর্যায়ক্রমে জিহাদ ফরজ হবে।
তৃতীয়ত : রাষ্ট্রপ্রধান যখন কোন সম্প্রদায়কে জিহাদে যাওয়ার জন্য নির্দেশ দেন তখন জিহাদ ফরজ হবে।
চতুর্থত: দ্বীন, জীবন, পরিবার-পরিজন ও ধন-সম্পদ রক্ষায় যুদ্ধ করা বৈধ। রাস্তায় সন্ত্রাসী আক্রমণ প্রহিহত করাও এ প্রকারের অন্তর্ভুক্ত। বর্তমানে জিহাদের ফতোয়া কেবল জ্ঞানসম্পন্ন ফকিহরাই দিতে পারেন। আর তার বাস্তবায়ন করবেন রাষ্ট্রপ্রধান। কোন সাধারণ মানুষের সামান্যতম অধিকার নেই কাউকে জিহাদে যাওয়ার অর্ডার দিবে কিংবা জিহাদের ডাক দিবে।
ইসলাম যুদ্ধের নামে এমন নির্বিচারে সাধারণ মানুষ হত্যা করাকে কখনোই সমর্থন করে না। হোক না সে অমুসলিম। যুদ্ধের নামে তথাকথিত সকল প্রহসন অশান্তি ছাড়া কখনো শান্তি বয়ে আনেনি। তাই যুদ্ধ থেকে যতটুকু সম্ভব বেঁচে থাকা যায় ততই দেশ ও জনগণের জন্য উত্তম।




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]