এতোই যদি দ্বিধা, তবে জন্মেছিলে কেনো?

আমাদের নতুন সময় : 14/03/2019

প্রভাষ আমিন : পটুয়াখালী থেকে আসা সাধারণ ছেলেটি কিভাবে ধাপে ধাপে ঢাকা বিশ্ববিদালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ-ডাকসুর ভিপি হয়ে গেলেন, সেটি শিক্ষণীয় হয়ে থাকবে। আমি বরাবরই কোটার পক্ষের মানুষ। তাই কোটা আন্দোলনের বিপক্ষে ছিলাম বরাবর। বিপক্ষে হলেও শিক্ষার্থীদের মতামতের প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা আছে। ডাকসুর নবনির্বাচিত ভিপি নুরুল হককে অভিনন্দন। তবে নির্বাচিত হয়ে যেন বেচারা বেশি বিপদে পড়েছে। মার তো খাচ্ছেই। দেখে মনে হচ্ছে সিদ্ধান্তও নিতে পারছে না। ১১ মার্চ, সোমবার দুপুরে রোকেয়া হলের সামনে হামলায় নুরুল হকের অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার পরই পাল্টে যায় পরিস্থিতি। রোকেয়া হলের মেয়েদের হালকা ধাক্কায় নাকি পানিশূন্যতায় নুরুল হক অজ্ঞান হয়েছেন, সেটা নিয়ে বিভ্রান্তি রয়েই গেছে। তবে এরপরই আসে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা।
তবে ভিপি পদে নিজের জয়ের খবর পেয়ে পরদিন হাসপাতাল থেকে ক্যাম্পাসে হাজির তরতাজা নুরুল হক। এসেই ধাওয়া খান। তবে নুরুল হক কোটা আন্দোলনের জয়ী দুই নেতা ছাড়া বাকি পদগুলোতে পুননির্বাচন দাবি করেন এবং অনির্দিষ্টকালের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাশ-পরীক্ষা বর্জনের কর্মসূচি ঘোষণা করেন। কিন্তু বিকালে ছাত্রলীগের সভাপতি ও পরাজিত ভিপি প্রার্থী রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন এসে নুরুল হককে বুকে জড়িয়ে ধরে অভিনন্দন জানালে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে ক্লাশ বর্জনের কর্মসূচি প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন। তবে সন্ধ্যায় বাম সংগঠনের নেতাদের সাথে বৈঠক করে আবার কঠোর অবস্থানে চলে যান নুরুল হক। এবার তিনি আংশিক নয়, পুরো নির্বাচন বাতিল করে পুননির্বাচন দাবি করেছেন। তাদের দাবি ৩১ মার্চের মধ্যে ডাকসু ও হল সংসদের নতুন নির্বাচন। ১৩ মার্চ, বুধবারও এ দাবিতে আন্দোলন হয়েছে। তবে নুরুল হক যেন আবার পেন্ডুলাম। শপথ নেবেন নাকি নেবেন না? তিনি কৌশলে বলছেন, শিক্ষার্থীরা চাইলে শপথ নেবেন, নইলে নয়। তার মানে আসলে তার শপথ নেয়ার ইচ্ছা আছে। এখন শিক্ষার্থীরা চাইলো কি চাইলো না, এটা কিভাবে বোঝা যাবে? তাহলে নুরুল হকের আসলে পুননির্বাচন না চেয়ে শপথ প্রশ্নে গণভোট দাবি করা উচিত।
নুরুল হকের দ্বিধাটা বোঝা যায়। শপথ নিলে তিনি বামদের সমর্থন হারাবেন। ক্ষুণœ হবে তার ভাবমূর্তিও। আর শপথ না নিলে এতো কষ্টে পাওয়া ভিপি পদটি হারাবেন। কারণ যতোই দাবি হোক, পুনঃনির্বাচনের সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। নুরুল হকের দ্বিধা দেখে আমার নির্মলেন্দু গুণের একটি কবিতা মনে এলো, ‘এতোই যদি দ্বিধা তবে জন্মেছিলে কেন’?
২. ‘নুরুল হক কখনো ছাত্রশিবির করতো কিনা বা এখনো করে কিনা জানি না। আনুষ্ঠানিকভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিবির করার সুযোগ এখনও নেই। তবে তিনি যে আন্দোলনকে পুঁজি করে ওঠে এসেছেন, সেই কোটা সংস্কার আন্দোলন অবশ্যই মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিরোধী আন্দোলন। এমন একটি স্বার্থপর আন্দোলন এতো জনপ্রিয়তা পেয়েছে, এটাই আমাদের জন্য লজ্জার’।
ডাকসু নির্বাচনের পরদিন ফেসবুকে এই স্ট্যাটাস দিয়েছিলাম। তাতে অনেকে ভিন্নমত পোষণ করেছেন। ভিন্নমতে আপত্তি নেই। ভিন্নমতকে আমি সবসময় স্বাগত জানাই। কিন্তু বেশিরভাগই গালাগাল করেছেন, যার কিছু আবার অশ্লীল। কোটা আন্দোলনের সমর্থকদের ভাষার এই হাল দেখে সত্যি লজ্জা পেয়েছি। অনেকে বলেছেন, এই কমেন্টস দেখলে নাকি আমি লেখালেখি ছেড়ে দেবো। তাদের আশ্বস্ত করতে চাই, লেখা ছাড়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। আপনাদের গালি আমাকে অনুপ্রাণিত করে, বুঝতে পারি আমি ঠিক জায়গায় আছি। আর আমি তো কাউকে গালি দেইনি, মতপ্রকাশ করেছি মাত্র। আর যারা দেশে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নেই বলে সারাক্ষণ চিৎকার করছে, তারাই গালি দিয়ে আমার কণ্ঠরোধ করতে চাইছে। কিন্তু কণ্ঠরোধ করা যাবে না। আমার কাছে যেটা ন্যায্য মনে হবে, সেটা আমি বলে যাবোই, এমনকি একা হলেও।
কোটা সংস্কার আন্দোলনের বিপক্ষে হলেও আমি সবসময় তাদের আন্দোলন করার অধিকারের প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা রেখেছি। তাদের ওপর হামলা, মামলার নিন্দা জানিয়েছি। কিন্তু ভিন্নমতের প্রতি আমাদের যে উগ্র অসহিষ্ণুতা, তা দেখে আবারো শঙ্কিত হয়েছি।
লেখক : হেড অব নিউজ, এটিএন নিউজ




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]