কক্সবাজার ভূমি অধিগ্রহণ শাখা দালালের দখলে, ৪ জনকে সাজা

আমাদের নতুন সময় : 14/03/2019

ছৈয়দ আলম : কক্সবাজার ভূমি অধিগ্রহণ শাখা (এলএ) কেন্দ্রিক চিহ্নিত দালালদের বিরুদ্ধে অভিযানে নেমেছে জেলা প্রশাসন। প্রাথমিকভাবে ৩২ দালালের একটি তালিকা প্রশাসনের হাতে পৌঁছেছে। গত মঙ্গলবার ওই তালিকার চিহ্নিত ৪ দালালকে আটক করে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা প্রদান করেছে জেলা প্রশাসন। মহেশখালীর কালারমারছড়ার ঝাপুয়া মারাক্কাঘোনা এলাকার মৃত নজির আহমদের ছেলে খোরশেদ আলম ও হোয়ানক হাবিরছড়া এলাকার ছব্বির আহমদের ছেলে মো. ইব্রাহিমকে ২০ দিন করে, কালারমারছড়ার নুনাছড়ির এলাকার মকবুল আহমদের ছেলে লকিয়ত উল্লাহ ও মাতারবাড়ির মাইজপাড়া এলাকার মৃত জাকের আহমদের ছেলে আবদুল কাইয়ুমকে  ১০ দিন করে সাজা দেয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে এ সাজা প্রদান করেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সেলিম শেখ। এর আগে এই চার দালালকে জেলা আদালত ভবন সংলগ্ন এলএ অফিস থেকে আটক করা হয়। এসময় হামিদ, দিদারসহ আরো ৫ জন দালাল পালিয়ে গেছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছে।

এ প্রসঙ্গে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহাম্মদ আশরাফুল আফসার বলেন, ক্ষতিগ্রস্তদের টাকা নিয়ে বিভিন্ন দালালালের বিরুদ্ধে অভিযোগ দীর্ঘদিনের। অধিগ্রহণ শাখাকে দালাল ও সুভিধাভোগিমুক্ত করতে প্রশাসন অভিযান শুরু করেছে। তিনি বলেন, দন্ডবিধি ১৮৬০ সালের আইনের ১৯৬ ধারা অনুযায়ী সরকারি কর্মচারীকে সরকারি কর্ম সম্পাদনে বাধা প্রদান করায় ৪ দালাল আটক করে সাজা দেওয়া হয় জানিয়ে মোহাম্মদ আশরাফুল আফসার বলেন, জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের এলএ শাখায় দালাল বা ফড়িয়াদের উৎপিড়ন বেড়ে যাওয়ায় কিছুদিন আগে জেলা প্রশাসক মহোদয়ের নির্দেশে তাদের তালিকা করা হয়। এতে কিছুদিন দালালদের উৎপাত কমে গিয়েছিল।

কিন্তু ইদানিং দালালের উৎপাত আবারো বেড়ে গেছে।

খোঁজখবর নিয়ে জানা গেছে, দালাল, প্রতারক, ঠকবাজচক্রের হাতে জিম্মি হয়ে পড়েছে কক্সবাজার ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তার (এলও) কার্যালয়। এলও অফিসকেন্দ্রীক গড়ে ওঠেছে শক্তিশালী সিন্ডিকেট। আদালতপাড়ার আশপাশে গড়ে ওঠেছে দশটিরও বেশী দালাল অফিস। ওখান থেকে নিয়ন্ত্রণ হয় দালালিপনা। অগ্রিম ৩০% টাকা কমিশন দিলেই মেলে ক্ষতিপূরণের চেক। আর এই কমিশন বাণিজ্যে জড়িয়ে পড়েছেন এলও অফিসের পিয়নসহ কর্মরত কয়েকজন। সেই তালিকায় কানুনগো-সার্ভেয়ারও রয়েছে। তাদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে জমির মূল মালিকরা। অন্যথায় আটকিয়ে রাখা হয় ক্ষতিপূরণের চেক। মাতারবাড়ীতে কয়লা বিদ্যুত প্রকল্প বাস্তবায়নে এসব লঙ্কাকান্ড চলছে। রেল লাইনের ক্ষতিপূরণের টাকা নিয়েও একই অভিযোগ। হয়রানী থেকে রেহায় চেয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদনের স্তুপ পড়েছে ভুক্তভোগীদের। দালালরা কখনো এলও অফিসের স্টাফ, আবার কখনো এডিসি রেভিনিউর আস্থাভাজন লোক পরিচয় দেয়। সুযোগ বোঝে সরকারী দলের পরিচয় দিয়েও চলে। সম্পাদনা : আজাদুল ইসলাম

 




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]