নদী রক্ষায় বর্তমান সরকার সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিচ্ছে, বললেন ড. মুজিবুর রহমান

আমাদের নতুন সময় : 14/03/2019

জুয়েল খান : বর্তমান সরকারের সবচেয়ে প্রাধান্যের বিষয় হচ্ছে বাংলাদেশের নদী রক্ষা। নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী কথা দিয়েছিলেন আওয়ামী লীগ আবার ক্ষমতায় আসলে বাংলাদেশের নদী, নালা, খাল, বিল রক্ষা করা হবে। নদী দখল করে কেউ যদি বিশতলা ভবন করে তাও ভেঙে দেয়া হবে এবং ইতোমধ্যে সেই কাজ শুরু হয়েছে বলে মনে করেন জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মুজিবুর রহমান।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন যে, উন্নয়নের অজুহাতে কাউকে নদ-নদী দখল করতে দেয়া হবে না। উন্নয়নের নামে খাল, বিল, নদী, জলাশয় বন্ধ করা যাবে না। এই বিষয়ে উচ্চ আদালত জাজমেন্ট দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নদীর বিষয়ে অনেক সংবেদনশীল। নদী নিয়ে তার একটা দর্শন, তিনি জাতির কাছে তুলে ধরেছেন। নদী হচ্ছে বাংলাদেশের মানুষের শিরা-উপশিরা। নদী বাংলাদেশের সভ্যতার অংশ। আমাদের বিকাশ এবং উন্নয়নের মূল চাবিকাঠি হচ্ছে নদী। নদী দখল করে যদি প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হয় তাহলে আমাদের টোটাল পানি ব্যবস্থাপনা, যোগাযোগ ব্যবস্থা, ব্যবসায় বাণিজ্য ব্যাহত হবে। একটা সময় বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় যোগাযোগ ছিলো নদীকেন্দ্রিক। নদী হচ্ছে বাংলাদেশের মা, কারণ মা যেমন সন্তানকে লালন-পালন করে বড় করে তেমনি নদী বাংলাদেশের মানুষ, পরিবেশ এবং ব্যবসা-বাণিজ্যকে লালন-পালন করে। এখন সেই নদী যদি দখলদারদের কারণে বিলীন হয়ে যায় তাহলে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জীবন ধারণ হুমকির মুখে পড়বে।
নদীর মালিকানা নদীর কাছেই থাকবে সরকার শুধু পাবলিক ট্রাস্টি হিসেবে রক্ষণাবেক্ষণ করবে এবং জেলা প্রশাসকের নামে থাকবে। এছাড়া যারা নদীর পাশে ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলছেন তাদের আমরা বোঝানোর চেষ্টা করছি যে নদীর জায়গা ছেড়ে দিয়ে বাইরের জায়গায় প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে এবং তারা অনেক ভালো সাড়া দিচ্ছেন। সদরঘাটের ওপাড়ে ৩৩টা ডকইয়াডের্র চরমিরের বাগে নদী সংশ্লিষ্ট সকলকে একসাথে নিয়ে আমরা গণশুনানি করেছি। একইসাথে ধলেশ্বরীতে জবরদখল করে পাওয়ার প্লান্ট করেছিলো আমরা সেটা তুলে দিতে সক্ষম হয়েছি। এটা নিয়ে হাইকোর্টে মামলা চলছে তবে আমরা পরিষ্কার করেছি যে (ডিজিএলআর)- এর ভুলক্রমে একটা সিদ্ধান্তে ওই অনুমোদনটা দেয়া হয়েছিলো এখন সেটা বাতিল করা হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, ঢাকার চারপাশে সার্কুলার ওয়াটার ওয়েজ তৈরি করে দেয়া হবে এতে মানুষের সড়কের ওপরে নির্ভরশীলতা কমবে এবং নদীর ওপরে বাড়বেÑএই কাজের জন্য মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সাথে সমন্বয় করা হচ্ছে। এছাড়া আমরা উচ্ছেদ অভিযান শুরু করেছি, ইতোমধ্যে চট্টগ্রামে শুরু হয়েছে। অতীতে বরাদ্দের অভাবে জেলা প্রশাসন উচ্ছেদ অভিযানে গড়িমসি করতেন, কিন্তু এই সরকার নতুন করে ক্ষমতায় আসার পরে আর্থিক কোনো সমস্যা নেই, যার ফলে উচ্ছেদ অভিযানে গতি পেয়েছে। এছাড়া উচ্ছেদ অভিযানে কোনো ধরনের রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ হচ্ছে না, কারণ প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, নদী দখলকারী যে দলের হোক আর যতো ক্ষমতাবান হোক কোনো ধরনের ছাড় দেয়া যাবে না। ফলে আমাদের কাজ করতে আর কোনো ধরনের বাধা পাচ্ছি না। নদীপাড়ের মানুষদের নদী রক্ষায় সচেতনতা তৈরি করার কাজ করছি এবং যখন কেউ নদী দখল করতে যাবে তখন নদীপাড়ের মানুষরা সামাজিকভাবে নদী দখলকারীদের প্রতিহত করবে। তবে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনেরও কিছু সীমাবদ্ধতা আছে যেমন : আমাদের নিজেদের কোনো অফিসের স্থান নেই, ভাড়া জায়গাতে কাজ করা হচ্ছে। এছাড়া আট বিভাগে একটা করে নদীরক্ষা কমিশন অফিস করতে হবে এবং প্রয়োজনীয় লোকবল নিয়োগের ব্যবস্থা করতে হবে। এতে তারা জেলা এবং উপজেলা নদীরক্ষা কমিটির সাথে সমন্বয় করে কাজ করতে পারবে। তবে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের হেড অফিসে কমপক্ষে পাঁচজনের একটা টিমকে সার্বক্ষণিকভাবে কাজ করতে হবে, এজন্য লোকবল প্রয়োজন। কিছু সমস্যা থাকলেও কোনোভাবেই নদী দখল হতে দেয়া হবে না।




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]