• প্রচ্ছদ » » পুরনো অনিয়ম কেন সবসময় নিয়ম হয়ে থাকবে?


পুরনো অনিয়ম কেন সবসময় নিয়ম হয়ে থাকবে?

আমাদের নতুন সময় : 14/03/2019

কামরুল হাসান মামুন

এ রকম একটি নির্বাচনের মধ্য দিয়ে যারা গেছে (অর্থাৎ আমাদের আগত প্রজন্মের ছাত্ররা) তারা কী শিখলো? আমাদের শিক্ষকরা কী শিখলো? এ রকম একটি নির্বাচনের মাধ্যমে গোটা দেশের মানুষের মধ্যে একটি ধারণা জন্মাতে বাধ্য যে, আমাদের নির্বাচন ব্যবস্থা সাত হাত মাটির নিচে কবর দেয়া হয়ে গেছে। এখন যেকোনো নির্বাচন হলে প্রথমেই মানুষের মধ্যে ধারণা জন্মাবে ক্ষমতাবানরা নানা কারসাজি করার চেষ্টা করবে আর দুর্বলরা নানা দাবিদাওয়া নিয়ে সোচ্চার হবে। আস্থা আর বিশ্বাসের এক চোরাবালি খনন করে ফেলেছি। মনে হচ্ছে এ থেকে মুক্তি নেই।
যারা জিতলো তারা কী খুব গর্ববোধ করতে পারবে? একটি সফল সুন্দর নির্বাচনে জিতলে মাথা শাল বৃক্ষের মতো উঁচু এবং সিনা টান হয়। মনে অহমবোধ জন্মায়। এগুলো একজন মানুষ কতোটুকু করতে পারবে আর কতোটুকু পারবে না তার এক ধরনের সীমানা নির্ধারণ করে দেয়। এরা তখন যা ইচ্ছে তা করতে পারে না। এছাড়া এই জেতা মানুষের ভালোবাসা পাওয়ার কাঙাল বানিয়ে ফেলে। এরা টাকা হারানোর চেয়ে ভালোবাসা হারানোকে বেশি ক্ষতি ভাবে। কিন্তু নির্বাচন পদ্ধতি যখন নষ্ট হয়ে যায় তখন এই অহমবোধটুকু জন্মায় না। বরং এরা মনে করে ভোটার নয় বরং কলকব্জা যাদের হাতে তারা জিতিয়েছে। ফলে এদের মধ্যে হীন্যমন্যতা ভর করে। এসবই এই দেশের বাস্তবতা ফলে আমরা এখন নেতা দেখি না, কারণ নেতা তৈরির মেকানিজমটাই আমরা একদম নষ্ট করে ফেলেছি। শুধু তাই নয় নষ্ট যে হচ্ছে এ কথাগুলো বলার মানুষ শূন্যের কোটায় পৌঁছেছে। কিন্তু এর মধ্যেও একজন মানুষ আছে যাকে আমি অনেক আগে থেকেই শ্রদ্ধা করি। আমি আমার স্ত্রীকে আমার কয়েকজন সহকর্মীকে নিয়ে গর্ববোধের কথা প্রায়ই বলি। এদের মধ্যে অন্যতম হলেন অধ্যাপক সৈয়দ মঞ্জুরুল ইসলাম।
তিনি আজ লিখেছেন, যখন এই নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা এবং কর্মপদ্ধতি ঠিক করা হয়, তখন থেকেই শুধু ছাত্রলীগ ছাড়া বাকি সবাই তাতে পরিবর্তন আনার দাবি করেছে। একটি দাবি ছিলো ভোট প্রক্রিয়াকে গ্রহণযোগ্য করার জন্য ভোটকেন্দ্র হলগুলোর বাইরে একাডেমিক ভবনে স্থাপন করা। কারণ হলগুলোতে ছাত্রলীগের একাধিপত্য। আমি একজন শিক্ষক হিসেবে জানি হলগুলোতে ভিন্নমতের শিক্ষার্থীদের জন্য পরিসরটা খুব সংকুচিত। গণরুম আর গেস্টরুম সংস্কৃতির কথাও আমরা জানি। ফলে দাবিটি ন্যায্য ছিলো। অথচ এই দাবি মানা হলো না।
আজকে গণমাধ্যমে এসেছে যে, শিক্ষার্থীরা নির্ভয়ে ভোট দিতে হলে প্রবেশ করতে পারছেন না। বিশেষ করে যারা ভিন্নমতের অনুসারী। কয়েকজন তো ভোট দিতেই পারেননি। আর ব্যালট বাক্স নিয়ে যা হলো আগে থেকেই ব্যালট ভর্তি বস্তা পাওয়া গেলো। এই গুরুতর অনিয়মের ঘটনায় একজন প্রভোস্টকে অপসারণ করার ঘটনাও ঘটলো।-সৈয়দ মঞ্জুরুল ইসলাম
তিনি আরো বলেন, কিছুদিন আগে বিএনপি-জামায়াতপন্থি সাদা দলের শিক্ষকরা সাংবাদিক সম্মেলন করে অভিযোগ করলেন যে, নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কোনো কাজে বা কমিটিতে তাদের সম্পৃক্ত করা হয়নি। বিএনপি-জামায়াত আমলেও আওয়ামী লীগপন্থি কোনো শিক্ষককে হলের প্রভোস্টের দায়িত্ব দেয়া হতো না। কিন্তু একটি পুরনো অনিয়ম কেন সবসময় অনিয়ম হয়ে থাকবে? যদি সাদা দলের শিক্ষকদের কমিটিগুলোতে রাখা হতো তাহলে অভিযোগটা এতো তীব্র হতো না।
এছাড়া তিনি বলেন, আমাদের চোখে ধরা পড়লো যে, বিনা প্রতিদ্ব›িদ্বতায় অনেক প্রার্থী জয়ী হলেন। এটা রাজনীতির চেতনার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। আর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে এটি হওয়া উচিতই নয়। তাহলে প্রশ্ন আসবে আমরা কোন মডেলের নির্বাচন ভবিষ্যতের জন্য উপহার দিচ্ছি। তাছাড়া নির্বাচনের আগেই যে ব্যালট বাক্স ভর্তি হলো হয়তো বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বলবে, মাত্র দু’এক জায়গায় এ রকম হয়েছে। কিন্তু নির্বাচনটা হচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের, যারা জাতিকে ভবিষ্যতে পথ দেখাবেন। এটি কী পথ দেখাবার উপায় হলো?’
তাছাড়া সবচেয়ে সুন্দর যেই কথাটি বলেন সেটি হলো, এই ডাকসু নির্বাচন আমাদের শিক্ষক রাজনীতির অন্ধকার একটি দিক তুলে ধরলো। একজন শিক্ষকের কাছে সব শিক্ষার্থীই সমান। তার দলীয় পরিচয় যা-ই হোক না কেন। এই নির্বাচনে শিক্ষকরা সেটি দেখাতে ব্যর্থ হলেন। এর ফলে তাদের ওপর শিক্ষার্থীদের আস্থা কমবে। শিক্ষক হিসেবে আমাদের সামাজিক মর্যাদা একটুখানি হলেও হারাবো।’
এ কথাগুলোই আমি ক’দিন যাবৎ নানাভাবে নানা ভাষায় বলে আসছি। গর্ববোধ করছি এই বিশ্ববিদ্যালয়ে এখনো এরকম চিন্তার মানুষজন আছেন যিনি সাদাকে সাদা এবং কালোকে কালো বলতে কোনো রকম দ্বিধা বা ভাষার মারপ্যাঁচে ফেলেন না। ফেসবুক থেকে




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]