ব্রেক্সিট সংকট সমাধানে দরকার মধ্যপন্থা

আমাদের নতুন সময় : 14/03/2019

মোহাম্মদ জমির : অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে ব্রেক্সিট সম্পন্নই হচ্ছে। যদি একতরফা কোন আইন প্রণয়ন না হয়, তাহলে আগামী ২৯ মার্চ ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে যাবে ব্রিটেন। যদি ব্রিটেন তাদের ব্রেক্সিট বিষয়ক আর্টিকেল ৫০ বাতিল না করে, তাহলে ওই শুক্রবার রাতেই যুক্তরাজ্যের সদস্যপদ স্থগিত করবে ইইউ। আর্টিকেল ৫০-এর মেয়াদ বাড়ানো যায় কিন্তু সেখানে অনেক জটিলতা আছে। তবে এরই মাঝে ইইউভুক্ত বিভিন্ন সংস্থা যেভাবে তাদের আপত্তি তুলে ধরছে তাতে যুক্তরাজ্যের ফিরে আসার পথ কঠিন বলেই মনে হচ্ছে। ফলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন ইইউয়ের পক্ষে যুক্তরাজ্যকে আনুকুল্য দেখানোও কঠিন। অবশ্য কেউ কেউ আশার আলো দেখছেন যে পলিটিক্যাল ডিক্লারেশানের মাধ্যমে এখনো সংশোধনের সুযোগ রয়েছে। এব্যাপারে যে বিষয়গুলো তারা সামনে আনছেন তা হলো, গত ১৩ ডিসেম্বরের ইউরোপীয় কাউন্সিলের ঘোষণা, গত ১৪ জানুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে’র সাথে প্রেসিডেন্ট টুস্ক ও জাঙ্কারের পত্র বিনিময়, গত ১৫ জানুয়ারি হাউজ অব কমনস-এ উইথড্রাল অ্যাগ্রিমেন্ট বাতিল চেয়ে ভোট, ২৯ জানুয়ারির আইরিশ দূর্গকে প্রাধান্য দিয়ে ব্রাডি খসড়ার ওপর ভোট, ৩০ জানুয়ারি ইউরোপীয় পার্লামেন্টের বিতর্ক, জেরেমি করবিন ও প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক পত্রালাপ, ৭ ফেব্রুয়ারি ব্রাসেলস মিটিংয়ের পর থেরেসা মে ও মি. বাঙ্কারের যৌথ বিবৃতি, সর্বশেষ ১২ ফেব্রুয়ারি কমনস-এ বিতর্ক। তাদের মতে একমাত্র বাধা আর্টিকেল ৫০, আর তা ইইউ থেকে ইউকের সরে যাওয়া বিষয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। ব্রেক্সিটকে ব্যাখ্যা করাই এটার উদ্দেশ্য। তাই এটাকে আইন নয়, বরং কমিশনের প্রাথমিক পরামর্শ হিসেবেই দেখতে হবে।
এদিকে, বিরোধী দলীয় নেতা জেরিমি করবিন প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মের কাছে বেশ কিছু পরামর্শ তুলে ধরেছেন। সেগুলো হলো : ক) ইইউ’র রাজস্ব কোডের আদলে ইউকে ভিত্তিক সমন্বিত ও স্থায়ী রাজস্ব ইউনিয়ন গঠন, খ) অংশীদারিত্ব নীতির মাধ্যমে একক বাজার, গ) ইউভুক্ত সংস্থা ও কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্তির ব্যাপারে স্বচ্ছ অঙ্গীকার এবং ঘ) নিরাপত্তার ব্যাপারে ঐক্যমতের প্রতিশ্রুতি। লেবার নেতার এসব প্রস্তাবের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, এটা ভালো যে নিয়ম মেনে ইইউ থেকে বের হয়ে যেতে সবাই সম্মত হয়েছেন। আমাদের একটা সিদ্ধান্তে পৌছাতে হবে যে কিভাবে উত্তর আয়ারল্যান্ডের মানুষের প্রতি আমাদের অঙ্গীকার অটুট থাকে। আর ইইউ’র সাথে সমঝোতায় আমাদের গণভোটের দরকার হবে না।
সারাবিশ্বের উন্নত, উন্নয়নশীল কিংবা স্বল্পোন্নত দেশগুলো ব্রেক্সিট ইস্যুর প্রতিটা ধাপ গভীর মনোযোগ ও উদ্বেগের সাথে পর্যবেক্ষণ করছে। বাংলাদেশ বিশ্বাস করে যে পরিবর্তনই আসুক তা আরো সুসংহত হবে।
ফ্যাবিয়ান জুলিগ বেশ কিছু বাস্তব পরামর্শ তুলে ধরেছেন যা সীমান্ত ব্যবস্থাপনাকে মসৃণ করবে। যেমন: ক) ইউকে এবং ইইউ’র মধ্যে একই কাস্টমস এলাকা গঠন, খ) যুক্তরাজ্যের নিজস্ব সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, গ) ওইসব এলাকার নিরাপত্তা জোরদারে তল�াশি বাড়ানো, প্রয়োজনে প্রযুক্তির ব্যবহার, ঘ) যুক্তরাজ্যভিত্তিক একক বাজার নীতির বাস্তবায়ন, ঙ) ইইউ কে কোনভাবেই অস্থির না করা এবং ইইউ’র একাগ্রতা স্বীকার করা, চ) আয়ারল্যান্ড দ্বীপের কৃষিকে সংহত করতে কৃষি নীতির সংষ্কার, ছ) সীমান্তে ক্ষুদ ব্যবসা/সেবা কার্যক্রম চালু রাখা, জ) উত্তর আয়ারল্যান্ড/আয়ারল্যান্ডে মানুষের যাতায়াত অবাধ রাখা অর্থাৎ কমন ট্রাভেল এরিয়া নিশ্চিত করা। এর অর্থ বৃটিশ পার্লামেন্টের এই মধ্যপন্থা নীতির জন্য উভয় দলকেই চড়া মূল্য দিতে হবে।
উভয়পক্ষকে মনে রাখতে হবে যে, সমন্বিত মুক্ত বাণিজ্য, রাজস্ব ব্যবস্থপনা, তদারকি ব্যবস্থার মতো বিষয়গুলো অ্যাসোসিয়েশন অ্যাগ্রিমেন্টে থাকতে হবে। কর্মসংস্থান ও সামাজিক উন্নয়নের ওপর ভিত্তি করে যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে উভয় দলকেই একসাথে কাজ করতে হবে।
লেখক : সাবেক রাষ্ট্রদূত




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]