• প্রচ্ছদ » গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ » একাত্তরের এদিনে ইয়াহিয়া খান ঢাকা আসেন শেখ মুজিবের সাথে দেখা করতে, বাঙালিরা পাকিস্তানের দেয়া খেতাব বর্জন শুরু করে


একাত্তরের এদিনে ইয়াহিয়া খান ঢাকা আসেন শেখ মুজিবের সাথে দেখা করতে, বাঙালিরা পাকিস্তানের দেয়া খেতাব বর্জন শুরু করে

আমাদের নতুন সময় : 15/03/2019

দেবদুলাল মুন্না : আজ ১৫ মার্চ। একাত্তরের এইদিনের বর্ণনা দেন শহীদ জননী জাহানারা ইমাম তার বই ‘একাত্তরের দিনগুলি’তে নি¤œরূপ : ‘খেতাব বর্জন শুরু হয়ে গেছে। শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন তার ‘হেলালে ইমতিয়াজ’ খেতাব বর্জন করেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যক্ষ মুনীর চৌধুরী ‘সিতারা-ই-ইমতিয়াজ’ খেতাব বর্জন করেছেন। নাটোর হতে নির্বাচিত জাতীয় পরিষদ সদস্য ডা. শেখ মোবারক হোসেন ‘তমঘা-এ পাকিস্তান’, ফরিদপুরের প্রাদেশিক পরিষদ সদস্য শেখ মোশারফ হোসেন ‘তঘমা-এ কায়েদে আযম’ খেতাব বর্জন করেছেন। দৈনিক পাকিস্তান সম্পাদক আবুল কালাম শামসুদ্দিনও তার ‘সিতারা-ই খিদমত’ এবং ‘সিতারা-ই ইমতিয়াজ’ খেতাব বর্জন করেছেন। আরো কে কে যেন খেতাব বর্জন করেছেন, নামগুলো মনে করতে পারছি না। সমস্ত দেশ স্বাধীনতা আন্দোলনের জোয়ারে টালমাটাল। প্রতিবাদে ঝড় বয়ে যাচ্ছে সর্বত্র। ব্যাপার-স্যাপার দেখে বিদেশীরাও ভয় পেতে শুরু করেছে। পশ্চিম জার্মানি আর যুক্তরাজ্য সরকার তাদের কিছু কিছু নাগরিককে বাংলাদেশ থেকে সরিয়ে নিতে শুরু করেছে। রুমী জার্মান কালচারাল সেন্টারে জার্মান ভাষা শিখত। সেই সুবাদে তার এক জার্মান টিচারের বাড়িতে যাওয়া-আসা ছিল। সেই ম্যাডামের কাছ থেকেই জানা গেল তারা চলে যাচ্ছেন। যাওয়ার আগে ম্যাডাম রুমীকে চা খেতে ডেকেছিলেন তার বাড়িতে। রুমী ফিরে এসে বলল, “ওঁরা আপাতত ব্যাঙ্ককে যাচ্ছেন। তারপর কি হবে, এখনো জানেন না।’ ’আমি বললাম, “তাহলে আমাদের গুলশানের বাড়ির ভাড়াটেরাও যাবে নিশ্চয়ই। ‘৬৫ সালের পাক-ভারত যুদ্ধের সময় তো সবাই ব্যাঙ্ককে চলে গিয়েছিল।” আমাদের ভাড়াটে একজন আমেরিকান। তার বউকে ফোন করলাম। তিনি বললেন, “যুক্তরাষ্ট্র সরকার এখনো তাদের নাগরিকদের সরাবার কথা চিন্তা করেনি। আমরা আপাতত কোথাও যাচ্ছি না। ঢাকাতেই আছি। ও হ্যাঁ, জাতিসংঘের কর্মচারীদেরও কিন্তু এখনো ঢাকা থেকে সরাবার কোন প্ল্যান হয়নি। সুতরাং নিশ্চিত থাকতে পার।” আমি মনে মনে বললাম, আমাদের আর দুশ্চিন্তার কি আছে? আমরা তো মাটিতেই বসে আছি। আছাড় খাবার ভয় আমাদের নেই। যত ভয় তোমাদেরই। ‘৬৫ সালের পাক- ভারত যুদ্ধের সময় কিভাবে ব্যাঙ্কক পালিয়েছিলে, তা কি আর মনে নেই? আজিম ভাই কিছুতেই প্লেনের টিকিট পাচ্ছেন না। বেচারা লন্ডন থেকে দেশে বেড়াতে এসেছিলেন মাত্র তিন সপ্তাহের ছুটি নিয়ে। প্লেনের টিকিট না পেয়ে ছুটি এখন চার সপ্তাহ পেরিয়ে যাচ্ছে। দুটো টেলিগ্রাম করেছেন, তারপর ট্রাঙ্কল করেছেন। টেলিফোনে বসের গলার স্বরে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন-আর বুঝি চাকরি থাকে না। অথচ পিআইএ’র ফ্লাইটে নাকি রোজই শয়ে শয়ে অবাঙালি পশ্চিম পাকিস্তান যাচ্ছে। খবর কাগজেও এ নিয়ে সংবাদ বেরিয়েছে : কোন বাঙালি প্লেনের টিকিট পাচ্ছে না, অথচ বিপুলসংখ্যক অবাঙালি রোজই প্লেনে করে বাংলাদেশ ছেড়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে ব্যবসায়ীরা। এরা এদের বউ ছেলেমেয়েদের সেই ফেব্রুয়ারি মাস থেকেই পাঠিয়ে দিতে শুরু করেছিল। এখন নিজেরা পালাচ্ছে। আজ বিকেলের প্লেনে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থায় প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া ঢাকা এসে নেমেছেন।’
বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার দাবিতে অটল থেকেই সাদা রঙ্গের গাড়িতে কালো পতাকা লাগিয়ে ইয়াহিয়া খানের সাথে দেখা করতে যান। সারা বাংলা উত্তপ্ত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে জেনারেল ইয়াহিয়া খানের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
এদিকে একাত্তরের ১৫ মার্চ সামরিক বাহিনীর নয়াবিধি জারির প্রতিবাদে স্বাধীন বাংলা কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ আহূত সমাবেশে বক্তারা ‘বাংলাদেশ আজ স্বাধীন’ বলে ঘোষণা দেন। আসম আবদুর রব বলেন, বাংলাদেশ স্বাধীন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের নির্দেশেই সবকিছু চলবে। পাকিস্তান সরকারের সামরিক ফরমান আমরা আর মেনে চলব না। এছাড়া একাত্তরের এদিনে অধ্যাপক আবুল ফজলের সভাপতিত্বে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক আনিসুজ্জামান, অধ্যাপক সৈয়দ আলী আহসান, সাংবাদিক নূর ইসলাম প্রমুখ। বুদ্ধিজীবীদের পাশাপাশি টেলিভিশন নাট্যশিল্পী সংসদ এদিন স্বাধীনতা সংগ্রামের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন। তাদের সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন আবদুল মজিদ। বক্তব্য রাখেন সৈয়দ হাসান ইমাম, ফরিদ আলী, শওকত আকবর, আলতাফ হোসেন, রওশন জামিল, আলেয়া ফেরদৌস প্রমুখ। সম্পাদনা : আলমগীর




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]