ডাকসু নির্বাচন কি বাতিলের সুযোগ আছে?

আমাদের নতুন সময় : 15/03/2019

প্রভাষ আমিন : ১১ মার্চ অনুষ্ঠিত ডাকসু নির্বাচন বাতিলের দাবিতে আন্দোলন করছে ছাত্রলীগ ছাড়া ক্যাম্পাসে সক্রিয় বেশিরভাগ ছাত্র সংগঠন। রাজু ভাস্কর্য ও রোকেয়া হলের গেটে আমরণ অনশন করছে পরাজিত প্রার্থীদের কয়েকজন। তারা প্রশাসনকে তিনদিনের আলটিমেটাম দিয়েছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়ে দিয়েছে পুননির্বাচনের কোনো সুযোগ নেই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. আখতারুজ্জামান শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফেরার আহবান জানিয়ে বলেছেন, ২৫ হাজার শিক্ষার্থী যে রায় দিয়েছে, তার প্রতি তিনি অশ্রদ্ধা জানাতে পারবেন না। ডাকসু নির্বাচনে অনিয়ম হয়েছে, এটা সবাই বলছেন। কিন্তু বাস্তবতা হলো যতোটা অনিয়ম প্রমাণিত, তার ওপর ভিত্তি করে কি নির্বাচন বাতিল করা সম্ভব? অপ্রমাণিত অভিযোগের ওপর ভিত্তি করে তো আর কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নেবে না। আর নির্বাচন বাতিলের আন্দোলনকেও তারা এমন পর্যায়ে নিতে পারেনি, যে কর্তৃপক্ষ নির্বাচন বাতিল করতে বাধ্য হবে। নবনির্বাচিত ভিপি নুরুল হক দাবি করেছেন, তাদের কাছে অনিয়মের প্রমাণ আছে। তবে যথাযথ কর্তৃপক্ষ বা আদালত ছাড়া তিনি সে প্রমাণ দেখাবেন না। তবে ডাকসু নির্বাচনের মতো নির্বাচন বাতিলের সিদ্ধান্তও আদালতে হবে?
যারা বাতিলের দাবিতে আন্দোলন করছেন, সে আন্দোলন করার পূর্ণ অধিকার তাদের আছে। তবে বাস্তবতা হলো, ফলাফল ঘোষণা হয়ে যাওয়া একটি নির্বাচন বাতিলের আইনগত সুযোগ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নাই। হারলেই নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ আনা আমাদের পুরোনো সংস্কৃতি। এমনকি ছাত্রলীগও ভিপি পদে পরাজয়ের ঘোষণার প্রতিবাদে নির্বাচন বাতিলের দাবি করেছিলো। সমাধান কিভাবে হবে জানি না। বিশেষ করে আমরণ অনশনে নামা শিক্ষার্থীদের হলে ফেরানোর উপায় কী জানি না। তবে আমি চাই, প্রায় ২৯ বছর পর অনুষ্ঠিত এ নির্বাচনে গঠিত ডাকসুর নেতৃত্বে যেন ক্যাম্পাসে স্থিতিশীলতা বজায় থাকে। শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো যেন নতুন নেতৃত্ব হৃদয় দিয়ে অনুভব করে এবং পূরণ করে।
২. পুননির্বাচনের আন্দোলন গতি হারায় নির্বাচনের পরদিন বিকেলে পরাজিত ভিপি প্রার্থী ও ছাত্রলীগ সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন টিএসসিতে গিয়ে নির্বাচিত ভিপি নুরুল হককে স্বাগত জানিয়ে বুকে টেনে নেয়ার পর। টিএসসি অডিটরিয়ামের মঞ্চ থেকে নেমে আসার সময় শোভন কুশল বিনিময় করেন পরাজিত স্বতন্ত্র ভিপি প্রার্থী অরণী সেমন্তী খান। তখন কয়েকজন দুজনের ছবি তুলতে চাইলে অরণী আপত্তি করেন। তিনি বলতে থাকেন, ইনি কাল রোকেয়া হলে আমাদের হুমকি দিয়েছেন। শোভন চলে আসার সময় অরণী বলতে থাকেন, কোনো সন্ত্রাসীর সাথে ছবি তুলি না। অরণীর সাহস, স্পিরিট ও আবেগের প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা রেখেও বলছি, তার অ্যাটিচুডটি আমার ভালো লাগেনি। একজন পরাজিত প্রার্থী ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে এগিয়ে এসেছেন, তাকে সম্মান দেখালে ভালো হতো। নুরুল হক তো শোভনের সাথে কোলাকুলির পরও আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে এরপর যেটা হয়েছে, সেটা আরো নিন্দনীয়। ছাত্রলীগের ছেলেরা রীতিমতো সংঘবদ্ধভাবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অরণীকে অশ্লীল ভাষায় আক্রমণ করছে। তাকে সামাজিকভাবে হেয় করছে। আমি এই সাইবার আক্রমণের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। নুরুল হককে স্বাগত জানাতে গিয়ে ছাত্রলীগ সভাপতি শোভন বলেছেন, ছাত্রলীগ অনেক উদার। সবাইকে ধারণ করেই তারা এগুতে চান। কিন্তু এটা মুখে বললেই হবে না। কাজে প্রমাণ দিতে হবে। ছাত্রলীগের যারা অরণীকে আক্রমণ করছে, তাদের নিবৃত করার দায়িত্বও ছাত্রলীগ সভাপতিকেই নিতে হবে। সবার মধ্যে শুভবুদ্ধির উদয় হোক।
লেখক : হেড অব নিউজ, এটিএন নিউজ




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]