• প্রচ্ছদ » » ঢাবির শিক্ষার্থীরা কি তাদের স্বাধীন মতামত প্রয়োগ করতে পেরেছে?


ঢাবির শিক্ষার্থীরা কি তাদের স্বাধীন মতামত প্রয়োগ করতে পেরেছে?

আমাদের নতুন সময় : 15/03/2019

শঙ্কর মৈত্র

ডাকসুর নবনির্বাচিত ভিপি নুরুল হক নুরু ছাত্রলীগ নেতা ছিলেন। সম্ভবত কোনো হল কমিটিতেও ছিলেন। কোটা আন্দোলন করতে গিয়ে দলের বিপক্ষে তাকে অবস্থান নিতে হয়। কোটা আন্দোলন যৌক্তিক না অযৌক্তিক ছিলো সে প্রশ্নে যাবো না। তবে শিক্ষার্থীদের দাবি-দাওয়া নিয়ে একটা সফল আন্দোলন হয়েছিলো এবং সরকারের টনক নড়েছিলো বলেই সরকার কোটা পদ্ধতির সংস্কার আনে। একটা সফল আন্দোলনের নেতৃত্ব দিতে পেরেছিলেন নুরুল হক। মূলত ছাত্র সংগঠনগুলোর ছাত্রদের অধিকার নিয়েই আন্দোলন করার কথা। কিন্তু বাস্তবে তা হয় না। দলীয় গÐির বাইরে তারা বেরোতে পারে না। ফলে শিক্ষার্থীদের অভাব-অভিযোগ নিয়েও কথা বলার কেউ থাকে না। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আবাসন সমস্যা, ক্যান্টিনে খাবার সমস্যা, পরিবহন সমস্যা সমাধানের জন্য যেখানে সোচ্চার হওয়ার কথা ছাত্র সংগঠনগুলোর, সেখানে তা না করে নেতা বন্দনা, টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ে তারা। অথচ সাধারণ শিক্ষার্থীরা চায় তাদের অভাব-অভিযোগগুলো নিয়ে কেউ কথা বলুক। কোটা আন্দোলন এমনই একটা সাধারণ শিক্ষার্থীদের ইস্যু ছিলো। হাজার হাজার ছাত্রের মধ্যে একজন নুরুল হক এই আন্দোলন করে নেতৃত্ব ওঠে এসেছেন। ফলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা মনে করতেই পারেন, তাদের দাবি-দাওয়াগুলো নিয়ে নুরুল হকের নেতৃত্বে আন্দোলন করা সম্ভব, আদায় করা সম্ভব। এ কারণেই ভোট দিয়ে তাকে নেতা নির্বাচিত করেছে। ঢাবির শিক্ষার্থীরা তো ছাত্রলীগকে বর্জন করেনি, বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সঙ্গে বেঈমানি করেনি। ভিপি আর সম্পাদকের একটা পদ ছাড়া সবগুলোতে ছাত্রলীগের প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন। ২০টি হলের মধ্যে ১২টিতেই তারা জয়ী হয়েছেন। অন্য ৮টি হলে বিজয়ী হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। এমন তা নয় যে সেগুলোতে অন্য দলের প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন। বরং ছাত্রদল, বামপন্থি প্রার্থীরা প্রতিদ্ব›িদ্বতাই গড়ে তুলতে পারেনি। কাজেই নুরুল হক ভিপি হওয়া নিয়ে আতঙ্কের কিছু নেই। ঢাবির শিক্ষার্থীরা তাকে পছন্দ করেছে বলেই ভোট দিয়েছে। নুরুল হককে নিয়ে কতোজন কতো কথা বলছেন। কিন্তু আমি তার অযোগ্যতা খুঁজে পাচ্ছি না। সে বনেদি পরিবারের সন্তান কিনা জানি না, তার বাবা বিশাল রাজনীতিবিদ কিংবা বিশাল ব্যবসায়ী কিনা জানি না। তবে সেও মেধাবী এবং ভালো সাবজেক্টে মেধার ভিত্তিতেই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছে। তার ভিপি হতে কী অসুবিধা আমি জানি না। দেখছি অনেকেই তাকে তুচ্ছতাচ্ছল্য করছেন। কেন করছেন তাও জানি না। হয়তো মানসিক রোগ জেলাস থেকে এটা করছেন। তবে আমি মনে করি ঢাবির শিক্ষার্থীরা তাদের স্বাধীন মতামত প্রয়োগ করতে পেরেছেন। নুরুল হক ভিপি নির্বাচিত হওয়ার একদিন পর তার নিকটতম প্রতিদ্ব›দ্বী ছাত্রলীগ সভাপতি রেজওয়ানুল হক শোভন অভিনন্দন জানিয়ে যেভাবে বরণ করে নিলেন তা এককথায় অসাধারণ। অত্যন্ত বড় মন ও উঁচু রাজনীতির পরিচয় দিলেন শোভন ও ছাত্রলীগ। আমি মনে করি ভিপি নুরুল হক ও জিএস গোলাম রাব্বানীর নেতৃত্বে কার্যকর ডাকসু হোক। প্রস্ফুটিত হোক ছাত্র রাজনীতি। ছাত্র রাজনীতি প্রস্ফুটিত না হওয়ায় আমলা-কামলারা রাজনীতি দখল করে নিচ্ছে। মানুষের অধিকার নিয়ে কথা বলার কেউ থাকছে না। একইসঙ্গে দেশের অপরাপর বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ছাত্র সংসদ নির্বাচনের দাবি জানাই। ফেসবুক থেকে




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]