• প্রচ্ছদ » » প্রতিদিনের গণপরিবহন এবং আমাদের মেয়েরা


প্রতিদিনের গণপরিবহন এবং আমাদের মেয়েরা

আমাদের নতুন সময় : 15/03/2019

স্বপ্না দে

অনেক দিন থেকেই ভাবছিলাম সত্য কথাটা উচ্চারণ করার কথা, কিন্তু সেই যে কামিনী রায়ের কবিতার লাইনের মতোই স্বভাব আমার। ‘করিতে পারি না কাজ সদা ভয় সদা লাজ, সম্মুখে চরণ নাহি চলে, পাছে লোকে কিছু বলে।’ জগৎ সংসারে আইনের ছড়াছড়ি, সামাজিক আইন, রাষ্ট্রীয় আইন এবং ধর্মীয় আইনও রয়েছে। এতো আইনের বেড়িবাঁধ ভেঙেও হরহামেশা মানুষের চোখের সামনেই অন্যায় ঘটেই চলছে। কেউ বুঝতেই পারছে না এটা কতো বড় অন্যায়। প্রতিটি সংসদ অধিবেশনেই কোনো না কোনো আইন তৈরি হচ্ছে বা কোনো পরিবর্তন, পরিবর্ধন বা পরিমার্জন হয়ে আইনকে প্রতিনিয়ত যুগোপযোগী করা হচ্ছে। নাগরিক অধিকার সংরক্ষণ করার জন্যই আইন। আবার আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করাও সুনাগরিকের অবশ্য কর্তব্য। আইন ভঙ্গকারীর জন্য রয়েছে শাস্তির বিধান। আইন প্রয়োগের জন্যও রয়েছেন বিশাল কর্মীবাহিনী। আইন অনুযায়ী প্রতিটা গণপরিবহনে নারী, শিশু ও প্রতিবন্ধীদের জন্য নির্দিষ্ট সংখ্যক আসন সংরক্ষণের ব্যবস্থাও আইন দ্বারা স্বীকৃত রয়েছে। প্রায়শই রাস্তায় রাস্তায় গাড়ি থামিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য কর্তৃক গাড়ি তল্লাশির ব্যবস্থাও আছে। উনারা গাড়িতে অবৈধভাবে কোনো কিছু পরিবহন করা হচ্ছে কিনা তা চেক করে থাকেন। কোথাও কোথাও গাড়ির লাইসেন্স, ড্রাইভিং লাইসেন্স ইত্যাদিও চেক করা হয়। আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই বলতে চাই গাড়িটি সঠিক আইন অনুযায়ী সকল রকম নিয়ম মেনে চালিত হচ্ছে কিনা তা কী কখনো চেক করা হয়? যদি তাই হয়ে থাকে তবে মহিলা, শিশু ও প্রতিবন্ধীদের জন্য সংরক্ষিত সেই সিটগুলো কেন গাড়ির ইঞ্জিনের ওপরে গনগনে গরমের মধ্যেই রাখা হয়। সেখানে এতো গাদাগাদি করে মেয়েদের গর্তে কলা পাকানোর পদ্ধতির প্রয়োগ করে অত্যন্ত কষ্ট সহ্য করে যাতায়াতে বাধ্য করা হয় কেন। সুদূর অতীত থেকে অদ্যাবধি ক্রমাগতভাবে এক জঘন্য অন্যায় মানুষের চোখের সামনে ঘটেই চলেছে। বহুলভাবে সংঘটিত হতে হতে বিষয়টি এখন অন্যায় বলে কারো কাছে মনেই হয় না।
আরো একটি বিষয় হচ্ছে বাসে হেলপার, কন্ডাক্টর কাম সুপারভাইজারদের মেয়েদের পিঠে হাত দিয়ে ধাক্কা দিয়ে বাসে উঠানো বা নামার সময় পিঠে হাত রাখা। এ অন্যায়টি এতো ব্যাপকহারে ব্যবহৃত হয় যে প্রতিবাদ করতে গেলে উল্টা প্রতিবাদকারীকেই জনরোষে পড়তে হয়। কিন্তু তাই বলে কী অন্যায়ের প্রতিবাদ করবো না। আমি অন্তত এই অন্যায়টিকে প্রশ্রয় দিতে রাজি নই। তাই বাসে উঠার আগে সুপারভাইজারকে প্রথমেই সরে দাঁড়াতে বলে দেই এবং নামার সময়ও এই কথাটি মনে করিয়ে দিতে ভুল করি না। যার ফলশ্রæতিতে গত তিন-চার বছর ধরে একই রুটে অধিক যাতায়াত করি বলে প্রায় প্রতিটা লোকাল বাসেই আমাকে যাতায়াত করতে হচ্ছে বিধায় আজকাল আমাকে দেখলে সুপারভাইজাররা সরে দাঁড়ায়। আমি জানি না অন্যদের বেলা কী ঘটনা ঘটছে। তবে রুট পরিবর্তন করে যদি অন্য কোথাও যেতে হয় আমি প্রথমেই সতর্ক করে দেই আমি উঠতে পারবো আপনি সরে দাঁড়ান।
আমার মনে হয় কাজের তাগিদে, নিত্যদিন হাজারো প্রয়োজনে আমদের বাইরে বের হতেই হবে এবং সেখানে যাতায়াতে গণপরিবহন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। যেখানে নারী মাত্রই প্রতিদিন কোনো না কোনোভাবে হেনস্তার স্বীকার হয়ে থাকেন, যার অন্যতম কারণ প্রতিবাদহীনতা। আমরা তাৎক্ষণিক কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে কোনো প্রতিবাদ করতে পারি না। কেউ কেউ লোকলজ্জার ভয়ে কখনোই ঘটে যাওয়া অন্যায়ের প্রতিবাদ করেন না।
এ বিষয়ে বলতে চাই অন্যায় যে করে এবং যে অন্যায় প্রত্যক্ষ করেও প্রতিবাদ করে না, দু’জনই সমান অপরাধী। কেননা নীরবতা সম্মতির লক্ষণ। প্রতিবাদহীনতা অন্যায়কারীকে অন্যায়ে উৎসাহিত করে। তাই আসুন আমাদের পারিবারিক জীবনে তথা সমাজের প্রতিদিনের ব্যক্তিজীবনে গুড টাচ ব্যাড টাচ সম্পর্কে সম্যক জ্ঞানার্জন করি এবং অন্যকে অবহিত করি। এ কাজটি শিশুকাল থেকেই শিক্ষা দিতে হবে, তাহলে হয়তো আগামী প্রজন্ম এই ভয়াবহ অসভ্যতা থেকে পরিত্রাণ পেতে পারে। ফেসবুক থেকে




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]