• প্রচ্ছদ » প্রথম পাতা » মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, মানবাধিকার প্রতিবেদনে বাংলাদেশে নির্বাচনের সমালোচনা করেছে


মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, মানবাধিকার প্রতিবেদনে বাংলাদেশে নির্বাচনের সমালোচনা করেছে

আমাদের নতুন সময় : 15/03/2019

আসিফুজ্জামান পৃথিল : বাংলাদেশের বহুল আলোচিত সাম্প্রতিক জাতীয় নির্বাচনের প্রবল সমালোচনা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ছিলো পক্ষপাতদুষ্ট। বুধবার দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও এই প্রতিবেদন প্রকাশ করেন। এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে কাগজে কলমে সংসদীয় গণতন্ত্র থাকলেও অধিকাংশ ক্ষমতা প্রধানমন্ত্রীর জন্য বরাদ্দ। তারা বলেছে শেখ হাসিনা সরকারের অধিনে অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষ হয়নি। তাদের মতে এই নির্বঅচনে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়াও ব্যালট বাক্স ভরে রাখা, অনিয়মকান্ত্রিক গ্রেফতার, প্রতিপক্ষের পোলিং এজেন্টদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের বিশ^াসযোগ্য অভিযোগ রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র বলছে, বাংলাদেশের এই নির্বাচনে বিরোধীদলীয় সমর্থকরা ঠিকমতো প্রচারণা চালাতে পারেনি। নির্বাচন পর্যবেক্ষণে ইচ্ছুক বিদেশী পর্যবেক্ষকদের ভিসা প্রদান করা হয়নি। তাই তারা আসতে পারেননি। ২২টি ইলেকশন ওয়ার্কিং গ্রুপ এনজিও’র মধ্যে মাত্র ৭টিকে কাজ করতে দেওয়া হয়েছে। বেসামরিক কর্তৃপক্ষ সামরিক বাহিনীর উপর পরিপূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছে। কিন্তু একইসঙ্গে তাদের দেওয়া হয়েছে ব্যাপক মাত্রার দায়মুক্তি। নিরাপত্তা বাহিনীর ক্ষমতার অপব্যবহার ও তাদের দ্বারা সংগঠিত হত্যাকা-ের অভিযোগের তদন্ত ও দায়িদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার ক্ষেত্রে সরকার খুব কম পদক্ষেপই গ্রহণ করেছে। প্রতিবেদনে বাংলাদেশের শ্রম ও কর্ম পরিবেশ সম্পর্কে বলা হয়েছে, তৎপরতা বাড়ানোর ফল হিসেবে তৈরি পোশাক শিল্প খাতের কিছু প্রতিষ্ঠানে কর্মপরিবেশ উন্নতিতে অগ্রগতি হয়েছে। তবে এখনও ‘কমপ্লায়েন্স’ মেনে চলার ক্ষেত্রে পরিদর্শনসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ অপ্রতুল। যথাযথ শাস্তির ব্যবস্থা না থাকায় বিধি ভঙ্গের প্রবণতা হ্রাস পাচ্ছে না। ‘সরকার নূন্যতম মজুরি, কর্মঘন্টা নির্ধারণ, কর্মস্থলে নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সেবার মতো বিষয়গুলো কার্যকরভাবে নিশ্চিত করতে পারেনি।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয় বাংলাদেশে বিচারবহির্ভুত হত্যাকা-, নির্যাতন এবং গুমের উদাহরণ দিয়েছে। তারা বলছে এর বাইরে বাংলাদেশীদের রাজনৈতিক কারাদ-, ব্যাক্তিগত তথ্য ছাঁস, সেন্সরশিপ, ওয়েবসাইট ব্লকিং, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ কর্মসূচির অধিকার খর্বসহ নানান মানবাধিকার সমস্যার মোকাবেলা করতে হচ্ছে। বিশ্বজুড়ে মানবাধিকার পরিস্থিতির খুব একটা উন্নতি হয়নি উল্লেখ করে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও বিশেষভাবে চীন ও ইরানের নাম উল্লেখ করেন। চীনের উইঘুর নিপীড়ন প্রসঙ্গে বলেন, মানবাধিকার লঙ্ঘনে চীন অন্য যে কারওর চেয়ে এগিয়ে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে ১৯৩০ সালের পর থেকে চীনে সংখ্যালঘু নির্যাতন পরিস্থিতি সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় রয়েছে। আর ইরানের মানবাধিকার পরিস্থিতিকে ‘চরম খারাপ’ আখ্যা দেয়া হয়েছে প্রতিবেদনে। পম্পেও আরও বলেন, মানবাধিকার পরিস্থিতি যেমনই হোক না কেন, যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ নিশ্চিতে সব সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখার নীতিতে মেনে চলছে মার্কিন প্রশাসন।

যুক্তরাষ্ট্রে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রতি বছর মার্কিন কংগ্রেসের কাছে বৈশ্বিক মানবাধিকার পরিস্থিতির ওপর এই প্রতিবেদন উপস্থাপন করে, যাতে বিশ্বজুড়ে প্রায় ২০০ দেশ ও অঞ্চলের মানবাধিকার পরিস্থিতি ও শ্রম অধিকার সংক্রান্ত তথ্য তুলে ধরা হয়। বার্ষিক প্রতিবেদনটি প্রস্তুতের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আইনে বাধ্যবাধকতা রয়েছে এবং এতে উপস্থাপিত তথ্য মার্কিন কংগ্রেস, প্রশাসন ও বিচার বিভাগ প্রামাণিক হিসেবে গ্রহণ করে। কোনও দেশকে সহায়তা দেয়া না দেয়া থেকে শুরু করে রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন মঞ্জুর করা না করার মতো বিভিন্ন বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে এ প্রতিবেদনে উপস্থাপিত তথ্য বিবেচনায় নেয়া হয়। সম্পাদনা : ইকবাল খান

 

 




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]