• প্রচ্ছদ » প্রথম পাতা » মিয়ানমারের ষড়যন্ত্র ব্যর্থ, সেন্টমার্টিন দ্বীপ ধাপে ধাপে হলো বাংলাদেশের


মিয়ানমারের ষড়যন্ত্র ব্যর্থ, সেন্টমার্টিন দ্বীপ ধাপে ধাপে হলো বাংলাদেশের

আমাদের নতুন সময় : 15/03/2019

দেবদুলাল মুন্না : সেন্টমার্টিন হচ্ছে পর্যটকদের কাছে বাংলাদেশের সবচেয়ে আকর্ষণীয় স্থানগুলোর মধ্যে অন্যতম। কক্সবাজারের টেকনাফ থেকে নয় কিলোমিটার দক্ষিণে নাফ নদীর মোহনায় এ দ্বীপটি অবস্থিত। গত বছর মিয়ানমার সরকার তাদের একটি জনসংখ্যাবিষয়ক মানচিত্রে সেন্ট মার্টিন দ্বীপের কিছু অংশকে সেই দেশের অংশ দেখানোর প্রেক্ষাপটে ঢাকায় নিযুক্ত মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত উ লুইন ও-কে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করা হয়। এ সময় মিয়ানমার রাষ্ট্রদূতের হাতে সেন্টমার্টিন দ্বীপ নিয়ে মালিকানার দাবির বিষয়ে প্রতিবাদ জানিয়ে একটি কূটনৈতিকপত্র দেয়া হয়। সেসময় বাংলাদেশের তীব্র  প্রতিবাদের পর রাতারাতি মিয়ানমার তাদের নতুন মানচিত্রের আংশিক সংশোধন করে বলে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই তথ্য জানায়। সেসময়  পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মেরিটাইম অ্যাফেয়ার্স ইউনিটের প্রধান রিয়ার অ্যাডমিরাল (অব.) মো. খুরশেদ আলম বলেছিলেন, ‘মিয়ানমার মানচিত্রের রং অপরিবর্তিত রেখেছে। কিন্তু সেন্টমার্টিনের জনসংখ্যা সংক্রান্ত তথ্য মুছে দিয়েছে। কম্পিউটার বাটনে টিপ দিয়ে আগে যে কেউ রাখাইন রাজ্যের পাশাপাশি সেন্টমার্টিনের জনসংখ্যা সংক্রান্ত তথ্য দেখতে পেতেন। কিন্তু এখন তা নেই।’

এদিকে একাধিক কুটনীতিক জানান, ‘১৯৪৭ সালে পাকিস্তান ও ভারতের বিভক্তির সময় সেন্টমার্টিন অন্তর্ভুক্ত হয় পাকিস্তানে। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর থেকে এটি বাংলাদেশের অন্তর্গত। ১৯৭৪ সালে সেন্টমার্টিনের ওপর বাংলাদেশের অধিকার স্বীকার করে নিয়েই বাংলাদেশের সঙ্গে সমুদ্রসীমা চুক্তি করে মিয়ানমার। ২০১২ সালে সমুদ্র আইনবিষয়ক আন্তর্জাতিক  ট্রাইব্যুনাল এক রায়ে সেন্টমার্টিনকে বাংলাদেশের মানচিত্রে দেখিয়েছে। এরপর মিয়নমারের সেন্টমার্টিনের কিছু অংশকে তাদের দাবি করা আহাম্মকি।’

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক শেখ বখতিয়ার উদ্দিন এবং অধ্যাপক মোস্তফা কামাল পাশা সেন্টমার্টিন দ্বীপ নিয়ে গবেষণা করেছেন। অধ্যাপক বখতিয়ার এ বিষয়ে বলেন, ‘প্রায় ৫০০০ বছর আগে টেকনাফের মূল ভূমির অংশ ছিল জায়গাটি। কিন্তু ধীরে ধীরে এটি সমুদ্রের নিচে চলে যায়। এরপর প্রায় ৪৫০ বছর আগে বর্তমান সেন্টমার্টিন দ্বীপের দক্ষিণ পাড়া জেগে উঠে। এর ১০০ বছর উত্তর পাড়া এবং পরবর্তী ১০০ বছরের মধ্যে বাকি অংশ জেগে উঠে। ব্রিটিশ শাসনামলে ১৯০০ সালে ভূমি জরিপের সময় এ দ্বীপটিকে অখ- ভারতের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। অতএব সেসময় থেকেই এটি ইতিহাসগতভাবে বাংলাদেশের।’

গবেষক মোস্তফা কামাল পাশা বলেন, ‘ দ্বীপটি জেগে ওঠার পর ২৫০ বছর আগে আরব বণিকদের নজরে আসে এ দ্বীপটি। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সাথে বাণিজ্যের সময় আরব বণিকরা। এ দ্বীপটিতে আরব বণিকরা বিশ্রাম নিতো। তখন তারা এ দ্বীপের নামকরণ করেছিল ‘জাজিরা’। পরবর্তীতে যেটি নারিকেল জিঞ্জিরা নামে পরিচিত হয়।’

বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে,‘ খ্রিস্টান সাধু মার্টিনের নাম অনুসারে দ্বীপটির নামকরণ করা হয়। ১৮৯০ সালে কিছু মৎস্যজীবী এ দ্বীপে বসতি স্থাপন করে। এদের মধ্যে কিছু বাঙালি এবং কিছু রাখাইন সম্প্রদায়ের লোক ছিল। ধীরে-ধীরে এটি বাঙালি অধ্যুষিত এলাকা হয়ে উঠে।’

এ ব্যাপারে অধ্যাপক বখতিয়ার বলেন, ‘অখ- ভারতের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পর চট্টগ্রামের একজন জেলা প্রশাসক ছিলেন মার্টিন নামের একজন ইংরেজ। তার নাম অনুসারে দ্বীপটির নামকরণ করা হয়। সম্পাদনা : আলমগীর

 




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]