গোপালগঞ্জের শ্রীধাম ওড়াকান্দি তীর্থপীঠ

আমাদের নতুন সময় : 30/03/2019

নৃপেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

 

গোপালগঞ্জ জেলার সদর থেকে প্রায় ২৭ কিলোমিটার উওর-পশ্চিমে অবস্থিত শ্রীধাম ওড়াকান্দি যা সারা দেশের হিন্দু স¤প্রদায় তথা মতুয়া স¤প্রদায়ের হিন্দুদের কাছে এক মহাতীর্থ। প্রায় ২০৭ বছর আগে দলিত, নিপীড়িত ও অবহেলিত মানুষের মুক্তির দূত হিসেবে মানব অবতার আধ্যাত্মিক পুরুষ হরিচাঁদ ঠাকুর ১২১৮ বঙ্গাব্দের ফালগুন মাসের মধু কৃষ ত্রয়োদশী তিথির ব্রম্ম মূহুর্তে কাশীয়ানী উপজেলার শাফলীডাঙ্গা গ্রামে জম্ম গ্রহন করেন। মাত্র ৬৬বছর বয়সে তিনি ১২৮৪ সালে জম্মের একই তিথিতে মানবলীলা সম্বরণ করেন। পরম পুুরুষ হরিচাঁদ ঠাকুরের জম্মের জন্য শাফলীডাঙ্গা গ্রাম ধন্য। এর পাশ্ববর্তী গ্রাম ওড়াকান্দি হরিচাঁদ ঠাকুরের অলৌকিকত্ব ও লীলার জন্য বিখ্যাত হয়ে ওঠে। হরিচাঁদ ঠাকুরের বাল্যনাম “হরি” হলেও ভক্তরা তাকে হরিচাদবলে ডাকতেন। বাবা যশোবস্ত ঠাকুরের  ৫ ছেলের মধ্যে তিনি ছিলেন দ্বিতীয়। হরিচাঁদ ঠাকুর  শিক্ষা-দীক্ষা ও জ্ঞান বিজ্ঞানের আলো জ্বালিয়ে দলিত শ্রেনীর মানুষকে জাগিয়ে তোলেন। তার মতার্শে মানুষ জাগ্রত হয়। আস্তে আস্তে হরিচাঁদ ঠাকুরের নাম ছড়িয়ে  পড়ে সারা দেশে । ২০৭ বছরের ঐতিহ্য ধারন করে শ্রীধাম ওড়াকান্দি এখনো মতুয়া স¤প্রদায়ের মানুষের কাছে প্রানাধিক পবিত্র স্থান। হরিচাঁদ ঠাকুরের মতাদর্শ  অনুসারীদের বলা হয়  মতুয়া । প্রতি বছর ঠাকুরের  জম্ম ও মৃত্যুতিথি মহা বারুনীর দিনে ওড়াকান্দি শ্রীধামে বিরাট স্নানোৎসব অনুষ্ঠিত হয়। পূণ্য লাভের আশায় অন্তত ১০ লাখ পূর্ন্যার্থী এ  স্নানোৎসবে অংশ নেন । মানুষের পদভারে শ্রীধাম হয়ে ওঠে মুখরিত । ৩ এপ্রিল এ বছরও অন্যান্য  বছরের ন্যায় শ্রীশ্রী হরি চাদঁ ঠাকুরের জম্ম ও মৃত্যু তিথিতে শ্রীধাম ওড়াকান্দিতে বিশাল মেলা বসবে । পালিত হবে মহাধুম ধামে ঠাকুরের ২০৭ তম জম্মোৎসব । তার  জম্মোৎসব গোপলগঞ্জের ওড়াকান্দিতে ৩দিন ব্যাপী মহাবারুনীর মেলায় লাখ লাখ  মানুষের সমাবেশ হবে। দেশ ও দেশের বাইরের  বিভিণœ স্থান থেকে পদব্রজে ঢাক ঢোল বাজাতে বাজাতে লাল নিশাণ উড়িয়ে হরিবোল হরিবোল  ধ্বনিতে আকাশ কাপিয়ে মিছিল করতে করতে  ভক্তরা মেলায় আসেন । সমবেত হন মন্দিরের সামনে । অংশগ্রহন করবেন পূন্য স্নানে । শ্রীধাম ওড়াকান্দি ঠাকুরবাড়ির এ স্নানোৎসবে ভক্তদের স্নানের জন্য  কামনা সাগর ও শান্তি সাগর নামে দুটি পুকুর রয়েছে । ঠাকুরের জম্মতিথির শুভ মুহুর্তে গদিতে আসীন মতুয়াচার্য পদ্ম্নাভ ঠাকুর কামনা সরোবরে স্নান করে স্নানোৎসবের উদ্বোধন করবেন । এর পর চলবে অবিরাম ভক্তদের স্নান । চলবে  পরের দিন সূর্যোদয় পর্যন্ত  । ভক্তরা স্নান সেরে টাকা পয়সা কিংবা ধানের ছড়া ও মানতের দ্রব্য সামগ্রী ঠাকুরের মন্দিরে দিয়ে প্রনাম সেরে  যে যার ঘরে চলে যান । স্নানকে কেন্দ্র করে ৩দিন ব্যাপী  আয়োজন করা হয় মহা বারুনীর মেলা  । মহা বারুনীর এ মেলায় ধর্মীয় আবহ যেমন রয়েছে তেমনি রয়েছে লোকজ ঐতিহ্য । এ মেলা জেলার ঐতিহ্যের  ধারক   বাহক । ধর্ম ,বর্ণ, গোত্র,নির্বিশেষে এলাকার সব মানুষের মিলন মেলা। এ মেলায় লোকজ  ঐতিহ্যে তথা বেত , বাঁশ, নাগর দোলা, মৃৎ, ব্রোঞ্জ,পুতুল নাচ , সার্কাস ও কুটির শিল্পের ব্যাপক সমাবেশ ঘটে ।বিদেশী পর্যটকদেরও আগমন ঘটে এ মেলায়। কোনো কোনো বছর মন্ত্রী  সাংসদ এমন কি  বিদেশী  রাষ্ট্রদূতরাও আসেন এ মেলায়। ভারতের পশ্চিম বাংলা ও আসাম থেকে  মতুয়া প্রতিনিধিরা এ মেলায় অংশ নেন।




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : i[email protected]