শিক্ষার সংজ্ঞা প্রসঙ্গে ঠাকুর অনুকুলচন্দ্রের অভিমত

আমাদের নতুন সময় : 30/03/2019

প্রভাস দাশ

 

শ্রী শ্রী ঠাকুর অনুকুলচন্দ্র জীবনভর চেষ্টা করেছেন প্রতিটি মানুষের অন্তরে শ্রদ্ধার চাষ বাড়াতে। ঠাকুর বলেছেন, “শিক্ষার প্রথম উপকরণই হচ্ছে আদর্শ। আদর্শে আছে অনুভূতি আর শ্রদ্ধা। সেবা, ব্যবহার, উপাসনার দ্বারা আদর্শ হতে তার অনুভূতির প্রকাশ পেয়ে, তা অনুভব করে চরিত্রে তা প্রতিফলিত করাই হচ্ছে সম্যক শিক্ষা”।

(চলার সাথী-৮৫)

পথ না জানলে যেমন ঠিক পথে চলা যায় না, তেমনই আদর্শকে বাদ দিয়ে প্রকৃত শিক্ষা লাভ করা সম্ভব নয়। কারণ জীবনে সার্থকতা লাভ করার উপায়গুলি হাতে-কলমে করার যে প্রচেষ্টা তার নামই শিক্ষা। তাই শিক্ষার মূল ভিত্তি হচ্ছে-আদর্শের প্রতি শ্রদ্ধা। আদর্শে শ্রদ্ধা ছাড়া কোনো জিনিস আয়ত্বে আনা সম্ভব নয়। শ্রদ্ধাই জ্ঞানকে আহরণ করে। শ্রদ্ধাবান লভতে জ্ঞানম-গীতা। শ্রদ্ধাই ব্যক্তি জীবন, দাম্পত্য জীবন, কর্ম জীবন, শিক্ষা জীবন, সমাজ জীবন ও রাষ্ট্রীয় জীবনের একমাত্র হাতিয়ার।

কিন্তু শ্রদ্ধা আসবে কেমন করে? প্রতিটি ছেলে-মেয়ের শ্রদ্ধা আসে মা-বাবা ও আচার্য্য দেবের প্রতি ভক্তি শ্রদ্ধা থেকে। যে ছেলেমেয়ে প্রতিদিন সকাল ও সন্ধ্যায় পিতা-মাতা ও আচার্য্য দেবকে ভক্তি সহকারে প্রণাম করে, তাঁদের বন্দনা ও সেবা করে, সে ছেলেমেয়ে নিশ্চয়ই শ্রদ্ধাশীল হবে। তাই পরম পুরুষ শ্রী শ্রী ঠাকুর অনুকুলচন্দ্রের প্রতিটি সৎসঙ্গের পরিবারকে বিশেষ ভাবে শিক্ষা দেওয়া হয়। প্রতিদিন সকালে স্ত্রী তাঁর স্বামীকে, পুত্রকন্যারা পিতা মাতাকে ভক্তি ভরে প্রণাম করে আচার্য্যদেবকে শ্রদ্ধা নিবেদন করবে।

এইরূপ অভ্যাসের ফলে তাদের মনে শ্রদ্ধা ও ভক্তির উন্মেষ ঘটবেই। এই ছেলে মেয়েগুলিও বিদ্যালয়ে তাদের শিক্ষক শিক্ষিকার প্রতি শ্রদ্ধাশীল হবেই। এই শ্রদ্ধা ও ভক্তির চাষেই তাদের মধ্যে জ্ঞানবৃক্ষের উন্মেষ ঘটবে- “শ্রদ্ধা সেখানেই উৎফুল্ল হয়ে ওঠে, ভালোবাসা যেখানে মুখর ও প্রস্ফুটিত“।

ছাত্রের শ্রদ্ধাশীলতা শিক্ষকের মন জয় করবেই। তাই আর্য্য ভারতের শিক্ষার মূল ভিত্তি- মাতৃদেবো ভব, পিতৃদেবো ভব, আচার্য্যদেবো ভব।




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]