নিঃশেষে প্রাণ যে করিবে দান…

আমাদের নতুন সময় : 09/04/2019

প্রভাষ আমিন : বাংলাদেশে প্রায় সব সরকারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অদক্ষতা, দায়িত্ব পালনে অবহেলা, ঠিকমতো অফিস না করা, গ্রাহকদের হয়রানির অভিযোগ রয়েছে। একমাত্র ব্যতিক্রম ফায়ার সার্ভিস। তারা সবসময় একপায়ে দাঁড়িয়ে থাকে। খবর আসার এক মিনিটের মধ্যে তাদের বেরুতে হয়। রাজনীতি, ধনী-গরিব, নতুন ঢাকা-পুরান ঢাকা সব তাদের কাছে সমান। এমনকি নামাজ পড়তে দাঁড়ালেও তারা জামাতের শেষ কাতারে দাঁড়ায়, যাতে খবর পেলে নামাজ ফেলে ছুটতে পারে। কিন্তু নিজেরো ছুটলেই তো হবে না, রাস্তা ফাঁকা থাকতে হবে।
যানজট পেরিয়ে যখন ঘটনাস্থলে পৌঁছান, তখন দেখা যায় ঘটনাস্থলে পানি নেই। চূড়ায় পৌঁছানোর মতো উঁচু মই নেই। তবু তারা নিজের জীবনের মায়া না করে, মানুষের জীবন বাঁচায়। এতোকিছুর পরও মানুষের সব ক্ষোভ যেন ফায়ার সার্ভিসের বিরুদ্ধেই। তারা কেন দেরি করে এলো, তারা কেন আরো ঝুঁকি নিলো না। ফায়ার সার্ভিসের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আমি বিশ্বাস করি না। তারা তাদের সামর্থ্যরে সর্বোচ্চটা দিয়ে কাজ করে। সক্ষমতায় হয়তো তারা বিশ্বমানের নয়, কিন্তু আন্তরিকতায় তারা সবার সেরা। আমি নিশ্চিত করে বলতে পারি, নিরাপত্তা বিবেচনায় বাংলাদেশের ফায়ার সার্ভিস কোনোভাবেই বিশ্বমানের নয়। বরং বিশ্বমানের চেয়ে অনেক ওপরে। বাংলাদেশের ফায়ার ফাইটাররা যে ঝুঁকি নেয়, অন্য কোনো দেশ কখনো তা নেবে না। জীবনের মায়া না করে তারা ঢুকে পড়ে আগুনের ভেতরে; ফিরে আসতে পারবে কিনা জানে না, তবু ঢুকে যায় রানা প্লাজার ভেতরে। ২৮ মার্চ বনানীর এফআর টাওয়ারে ভয়াবহ অগ্নিকা-েও ফায়ার ফাইটাররা আরেকবার নিজেদের আন্তরিকতার প্রমাণ রেখেছেন। দুই হাজার সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রার ভবনে ঢুকে পড়েছেন বোকার মতো। আসলেই বোকা, নইলে এতো গালি শুনেও এতোটা ঝুঁকি নেয়া কীভাবে সম্ভব, আমার মাথায়ই ঢোকে না। এতো যে গালি খান, জবাব পর্যন্ত দেন না তারা। তৈরি হন, পরবর্তী অ্যাসাইনমেন্টের জন্য। ফায়ার সার্ভিস কিন্তু শুধু আগুন নেভায় না। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স। পানিতে ডুবলেও তারাই আসে। এমনকি বিপজ্জনক কার্নিশে আটকেপড়া বেড়াল উদ্ধারেও ফায়ার সার্ভিসই ভরসা। ফায়ার সার্ভিস হলো আমাদের সত্যিকারের বিপদের বন্ধু। খালি বিপদের খবরটা তকাদের কানে পৌঁছে দিতে হয়।
বনানীর এফ আর টাওয়ারের আগুন নেভাতে গিয়ে ল্যাডারে ঝুলে গিয়ে গুরুতর আহত হন ফায়ার ফাইটার সোহেল রানা। প্রথমে তাকে নেয়া হয় সিএমএইচে। সেখানে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে থেকেও অবস্থার উন্নতি হয়নি। পরে পাঠানো হয় সিঙ্গাপুরে। কিন্তু সবার সব চেষ্টা বিফল করে, গোটা জাতিকে কাঁদিয়ে সোহেল রানা চলে গেছেন চিরতরে। এই সোহেল রানারাই আমাদের সত্যিকারের বীর। যারা কোনোকিছু পাওয়ার আশা না করে, নিজের জীবনের মায়া না করে ঝাঁপিয়ে পড়েন আমাদের জীবন বাঁচাতে। আমরা যেন এই বীর সোহেল রানাকে ভুলে না যাই, রাষ্ট্র যেন তার পরিবারের পাশে থাকে। আমরা যেন সবসময় ফায়ার ফাইটারদের পাশে থাকি, গালি না দিয়ে যেন তাদের কাজে সহায়তা করি।
লেখক : হেড অব নিউজ, এটিএন নিউজ




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]