মারলিয়ন পার্ক হলো সিঙ্গাপুরের অন্যতম একটি পর্যটন স্পট

আমাদের নতুন সময় : 09/04/2019

বিভুরঞ্জন সরকার : নজরুল ভাইয়ের সঙ্গে সিঙ্গাপুর দর্শন শুরু করলাম বিখ্যাত মারলায়ন পার্ক দেখার মধ্য দিয়ে। আমি ভেবে দেখেছি, আলাদা ঘুরতে গিয়ে আমার ক্ষতি ছাড়া কোনো লাভ নেই। একে তো কিছু চিনি না, জানি না, তারপর নিজের মতো কোথাও যেতে হলে ট্যাক্সি ভাড়া গুনতে হবে আমাকে। আমার ট্যাকের জোর কম। কাজেই কারো ওপর ভর করতে পারলেই আমার সুবিধা। নজরুল ভাই নিজে থেকে আহ্বান না জানালে আমি যেচে অবশ্য তার সঙ্গী হওয়ার কথা বলতে পারতাম না।

তথ্য সচিব এবং অতিরিক্ত তথ্য সচিবের ব্যবহারের জন্য আলাদা দুটি গাড়ি বরাদ্দ ছিলো। তার থেকে মাইক্রোবাসটি আমরা নিলাম। নজরুল ভাইয়ের সঙ্গী হলাম আমি, মাগুরার শামীম, শাওন চৌধুরী এবং সিঙ্গাপুরে বসবাসরত একজন বাঙালি। হোটেল থেকে বের হয়ে মারলায়ন পার্কে পৌঁছতে মিনিট পনের লাগলো। যাওয়ার সময় পথঘাট, আশেপাশের ভবন দেখতে লাগলাম। সমস্যা হলো কোনটা ছেড়ে কোনটা দেখবো। সব কিছুতেই তো চোখ আটকে যায়। রাস্তাগুলো এতো পরিছন্ন যে মনে হয় বেডরুমের মেঝে। কোনো আবর্জনা, ছেড়া কাগজ, বাদামের খোসা, সিগারেটের ফেলে দেওয়া অংশ, খালি ক্যান বা আর কোনো ধরনের বর্জ্য কোথাও নেই। শুধু রাস্তার দুপাশে, মাঝখানের সড়কদ্বীপের গাছের নিচে কিছু ঝরাপাতা আমরা দেখলাম। আমাদের সঙ্গে যে বাঙালি যুবক ছিলেন তিনি জানালেন, ফেরার পথে এই পাতাগুলোও দেখা যাবে না।

প্রতিমুহূর্তেই সেগুলো পরিষ্কারের কাজ চলছে। প্রতিটি ভবনের নির্মাণশৈলী আলাদা এবং দৃষ্টি নন্দন। মনে হয় পুরো শহরটা একদল স্থপতির পরিকল্পনার ফসল। দেখে দেখে সাধ মেটে না। কিন্তু কোথাও দুদন্ড দাঁড়িয়ে একটু ভালো করে ঘুরেফিরে দেখার কোনো সুযোগ নেই। সময় আমাদের সারাক্ষণ তাড়ার মধ্যে রেখেছে। একটা দেখতে বেশি সময় খরচ করলে আরেকটা দেখা হবে না। আমার মত হলো অল্প দেখবো কিন্তু বেশি দেখবো। আর কখনো সিঙ্গাপুর যাওয়ার সুযোগ তো না-ও হতে পারে। মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট করার পর পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হয়েছে কিন্তু কোনো ভিসার ছাপ পড়েনি। আমার বিদেশভাগ্য এতোটাই প্রসন্ন!

যাহোক, মারলায়ন পার্কে পৌঁছে তো আমার চোখ ছানাবড়া। পানি ঘিরে এতো সুন্দর একটি বিনোদন কেন্দ্র গড়ে উঠতে পারে। মুহূর্তের জন্য মনের পর্দায় আমাদের হাতিরঝিলের ছবিটি ভেসে উঠে আবার বিলীন হয়ে যায়।

মারলিয়ন পার্ক হলো সিঙ্গাপুরের অন্যতম একটি পর্যটন স্পট। প্রতিদিন হাজার হাজার বিদেশি এই পার্ক পরিদর্শন করেন। মারলায়ন পার্ক সংক্ষেপে হয়ে গেছে মারলিন পার্ক। মারলিন বা সিংহ-মৎস্য হচ্ছে সিঙ্গাপুরীদের গর্বের প্রতীক, বীরত্বের প্রতীক। কথিত আছে, বহু পূর্বে সিঙ্গাপুর যখন তেমাসেক বা সমুদ্রনগরী নামে পরিচিত ছিলো, তখন প্রচন্ড এক সামুদ্রিক ঝড় ওঠে দ্বীপে। আতঙ্কিত অধিবাসীরা নিজেদের সঁপে দেন ঈশ্বরের হাতে। ঠিক সেই মুহূর্তে সমুদ্র থেকে সিংহ-মৎস্য আকৃতির এক জন্তু এসে ঝড়ের বিরুদ্ধে লড়াই করে বাঁচিয়ে দেয় অধিবাসীদের।
আর তখন থেকেই মারলিন নামের সিংহ-মৎস্য সিঙ্গাপুরীদের গর্ব ও বীরত্বের প্রতীক। মারলিনের মূর্তি ম্যারিনা বে-এর মারলিয়ন পার্কে অবস্থিত।
সিংহ-মৎস্য তার মুখ দিয়ে অনবরত পানি বের করে দিচ্ছে। কতো মানুষ যে এর ছবি তুলছে। মারলিনের পাশে দাঁড়িয়ে সেল্ফি তুলছে। আমিও আমার অপটু হাতে দুচারটি ছবি তুললাম।

বিশাল এলাকা জুড়ে এই পার্ক। একদিক থেকে আরেক দিক যেতে একবেলা কেটে যাবে। কতো ধরনের স্থাপনা যে আছে পার্কটিতে। কিছু জিনিস দেখতে হয় পয়সা দিয়ে টিকেট কেটে। আমরা সেগুলো দর্শন তালিকা থেকে বাদ দিলাম। বিনোদনের কতো রকম আয়োজন। একাধিক মুক্তমঞ্চে নাচ-গান চলছে। এগুলো উন্মুক্ত। আমার মতো সর্বহারা পর্যটকদের জন্য সম্ভবত। আমরা একটি মঞ্চের সামনে দাঁড়িয়ে একজন নারী শিল্পীর পরিবেশনায় একটি গান শুনলাম। চমৎকার সুরেলা কণ্ঠ। আমার হঠাৎ মনে হলো, আমাদের রুনা লায়লা নয় তো! একটি গান শেষে তালি বাজিয়ে আমরা অন্যদিকে হাঁটতে শুরু করলাম।

এখানে এলে চোখ আটকে যায় একটি ৫৪ তলা ভবনের দিকে। ওটা একটা জাদুঘর। ওই ভাবনের আকৃতি খুবই সুন্দর। দূর থেকে দেখে মনে হয়, ভবনের মাথায় বুঝি একটি বড়ো আকৃতির নৌকা বসিয়ে রাখা হয়েছে। ওখানে প্রবেশ করতে ১৫০ ডলার দিয়ে টিকেট কাটতে হয় বলে দূর থেকে দেখে দুধের স্বাদ ঘোলে মিটিয়ে ফেললাম।

লেখক : গ্রুপ যুগ্ম সম্পাদক, আমাদের নতুন সময়




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]