• প্রচ্ছদ » শেষ পাতা » অ্যান্টিবায়োটিক ঔষধের অঞ্চলভিত্তিক সংবেদনশীলতা এক নয়, ডাক্তারদের প্রেসক্রিপশনের মান ভালো করতে অঞ্চলভিত্তিক গবেষণাগার প্রয়োজন, বলেছেন অধ্যাপক সাইদুর রহমান


অ্যান্টিবায়োটিক ঔষধের অঞ্চলভিত্তিক সংবেদনশীলতা এক নয়, ডাক্তারদের প্রেসক্রিপশনের মান ভালো করতে অঞ্চলভিত্তিক গবেষণাগার প্রয়োজন, বলেছেন অধ্যাপক সাইদুর রহমান

আমাদের নতুন সময় : 13/04/2019

হিমাদ্রি শেখর : গত ২০ বছরে নতুন কোনো অ্যান্টিবায়োটিক ঔষধ আসেনি এবং আগামী সাত বছরে পৃথিবীতে সর্বোচ্চ দুইটি অ্যান্টিবায়োটিক ঔষধ আসার সম্ভাবনা রয়েছে। সুতরাং এতো গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার কোনোভাবেই অপব্যবহার করা যাবে না বলে মনে করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মাকোলজি বিভাগের অধ্যাপক সাইদুর রহমান।

বিএসএমএমইউর ফার্মাকোলজি বিভাগের গবেষক বলেছেন, অ্যান্টিবায়োটিক ঔষধ পূর্ণাঙ্গভাবে যাতে কার্যকারিতা না হারায় গত পঁচিশ বছরে পৃথিবীতে এ ব্যাপারে ব্যাপক সচেতনতা এসেছে। বিশ্বের উন্নত দেশে সচেতনতা দেখা গেলেও বাংলাদেশের অবস্থা ভয়াবহ। দেশের আড়াই লাখ ফার্মেসিতে প্রেসক্রিপশন ছাড়া গড়ে তিনজন মানুষকেও যদি ঔষধ দেয় তাহলে এর পরিমাণ সাড়ে সাত লাখে গিয়ে দাঁড়ায়।

বাংলাদেশের অধিকাংশ জেলাতে কোনো গবেষণাগার না থাকায় দুই থেকে তিন-তৃতীয়াংশ ডাক্তার গবেষণাগারের সঠিক তথ্য না পেয়েই মুখস্থ বিদ্যায় প্রেসক্রিপশন করেন। গবেষণাগারের গবেষণার সঠিক তথ্য না থাকায় ডাক্তারেরা জানেন না কোন পরিবেশে ব্যাকটেরিয়াগুলো কোন রোগের ব্যাপারে অকার্যকর হয়ে গেছে। প্রতিটি অঞ্চলের সংবেদনশীলতা এক নয়। ডাক্তারদের প্রেসক্রিপশনের মান ভালো করতে চাইলে অঞ্চলভিত্তিক গবেষণাগারের প্রয়োজন। বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাগারে অ্যান্টিবায়োটিক ঔষধ নিয়ে সঠিক গবেষণার তথ্য রয়েছে বলে শতকরা ষাট ভাগ ডাক্তার অ্যান্টিবায়োটিক ঔষধ লেখার নীতিমালা মেনে চলেন। কিন্তু দেশের অন্যত্র অঞ্চলভিত্তিক গবেষণাগারে গবেষণার পূর্ণাঙ্গ তথ্য না থাকায় সঠিকভাবে অ্যান্টিবায়োটিক ঔষধ প্রেসক্রাইভ করা সম্ভব হয় না, বললেন অধ্যাপক সাইদুর রহমান।

গবেষক বলেছেন, মানুষ নিজেদের ব্যাপারে খুব বেশি উদ্বিগ্ন হওয়ায় সাধারণ রোগেও অ্যান্টিবায়োটিক ঔষধ খেয়ে থাকেন। বাজারে অ্যান্টিবায়োটিক ঔষধ খুব বেশি সহজলভ্য হয়ে যাওয়ায় এটির অপব্যবহার বেড়েই চলছে। বর্তমানে মানুষ ছাড়াও অন্য প্রাণীতেও অ্যান্টিবায়োটিক ঔষধ খুব বেশি পরিমাণে ব্যবহার করা হচ্ছে।

তিনি বলেছেন, অ্যান্টিবায়োটিক ঔষধ একটু দামি হওয়ায় প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী ঔষধ কিনলেও রোগের লক্ষণ শেষ হয়ে গেলে কোর্স সম্পূর্ণ না করেই অনেকেই ঔষধ খাওয়া বন্ধ করেন। অ্যান্টিবায়োটিক ঔষধ বাদে অন্য ঔষধের মান খারাপ হলে সেক্ষেত্রে একজন রোগীর শুধু সমস্যা হবে। কিন্তু অ্যান্টিবায়োটিক ঔষধের মান খারাপ হলে সারাবিশ্বের মানুষের নানা সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বাংলাদেশের হাসপাতালগুলোতে সত্তর হাজার থেকে এক লাখ বেডে প্রতিদিন ত্রিশ হাজার থেকে চল্লিশ হাজার রোগী ভর্তি থাকেন।  এসব রোগী ডাক্তারদের তত্ত্বাবধানে অ্যান্টিবায়োটিক ঔষধ খেয়ে থাকেন। কিন্তু বারো লাখ থেকে পনেরো লাখ রোগী প্রতিদিন ফার্মেসিগুলোতে প্রেসক্রিপশন ছাড়াই অ্যান্টিবায়োটিক ঔষধ কিনে খাচ্ছেন, বললেন অধ্যাপক সাইদুর রহমান।

তিনি বলেছেন, অপ্রয়োজনীয়ভাবে অ্যান্টিবায়োটিক ঔষধ ব্যবহারের ফলে অধিকাংশ ব্যাকটেরিয়া ধীরে ধীরে শক্তিশালী উঠছে। ফলে অতীতের তুলনায় অনেক কার্যকরী অ্যান্টিবায়োটিক ঔষধও বর্তমানে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছে। বাংলাদেশে বেশ কিছু ল্যাবরেটরি ও আইসিইউ রয়েছে যেখানে অ্যান্টিবায়োটিক ঔষধ ব্যাকটেরিয়াগুলোর বিপরীতে অকার্যকর হয়ে গেছে।

এই গবেষক বলেছেন, বিজ্ঞানীরা বহুদিন ধরে ব্যবহৃত অ্যান্টিবায়োটিক ঔষধ চক্রাকারভাবে নতুন করে অ্যান্টিবায়োটিক ঔষধের কার্যক্ষমতা ফিরিয়ে আনতে কাজ করছেন। আড়াই লাখ ফার্মেসিকে নজরদারির মধ্যে রাখা সম্ভব নয়। এজন্য এদেশের মানুষকে ফার্মেসি খোলা থাকলেও অবশ্যই ডাক্তারদের পরামর্শ নিয়ে অ্যান্টিবায়োটিক ঔষধ কিনতে হবে।

পৃথিবীতে অ্যান্টিবায়োটিক ঔষধের অপব্যবহার নিয়ে উদ্বিগ্ন দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। তবে এ সমস্যা সমাধানের জন্য পিছিয়ে থাকা অন্যান্য দেশের চেয়ে বাংলাদেশ সব থেকে বেশি উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, বললেন বিএসএমএমইউর অধ্যাপক সাইদুর রহমান।




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]