একটি ছোট প্রশ্ন : এ দৃশ্য কী ভোলা যায়?

আমাদের নতুন সময় : 13/04/2019

ভূঁইয়া সফিকুল ইসলাম : সাগর-রুনি, ত্বকী, তনুর সঙ্গে প্রতিদিন যোগ হচ্ছে নতুন নতুন নাম। গতকাল যোগ হলো নুসরাত নামক আর এক ট্র্যাজেডি। পরীক্ষা হলের মুক্তমঞ্চে ধর্ষকের বাহিনী তাকে পুড়িয়ে দিলো। তবে এগুলো বিচ্ছিন্ন ঘটনা। আমরা আসলে উপভোগ করছি এক পরম আনন্দঘন কমেডি-নাটক। এ কমেডিকে আরো রসঘন করেছে শেষ দৃশ্যটি… যখন হাসপাতাল থেকে নুসরাতে লাশ বের হচ্ছে, তখই চলছে ধর্ষকের মুক্তির মিছিলো। বেশ না বলুন, এ দৃশ্যটা কী ভোলার মতো ?
ধর্ষক খুনিকে বাঁচাতে মানববন্ধন! হায় মানববন্ধন, হায় রে মানুষ! এ ভূ-খ-েরই আদি পুরুষরা মানুষকে অভিহিত করেছিলেন ‘অমৃতস্য পুত্র’ বলে। সপ্তম শতাব্দী থেকে আমার পূর্ব পুরুষ আরও উন্নতর ধারণা মনে করে যে কোরআনের আদর্শ গ্রহণ করলেন, সে কোরআন তো মানুষকে ‘আল্লাহর খলিফা’ ঘোষণা করলো। মানববন্ধন কথাটা শুনলেই তাই মনও এক পবিত্র আবেগে উৎকর্ণ হয়ে উঠে। মন বলে, বিধাতার প্রতিনিধিরা সুন্দরের জন্য লড়তে নেমেছে, সমাজের গরলের বিরুদ্ধে লড়ছে। কিন্তু এ কোন মানববন্ধ? তারা রাজপথে নেমেছে খুনি-ধর্ষক-চাঁদাবাজ এক মাদ্রাসা অধ্যক্ষকে বাঁচাতে, যার নাম মাওলানা সিরাজউদদৌলা। সোনাগাজীর ইসলামিয়া মাদ্রাসার কুখ্যাত অধ্যক্ষ। কুখ্যাত হতে গেলে যা যা করা লাগে তার সব সে করেছিলো। স্থানীয় সরকারি দলের সঙ্গে গাঁটছড়া, থানা-পুলিশকে হাত করা, অনুগত বাহিনী পোষা সবই করেছিলো সে। প্রতিষ্ঠানের তহবিল তছরুপ, ধর্ষণ-শ্লীলতাহানি বহুবার করেও তাই পার পেয়ে গেছে। প্রতিবাদী হয়ে নুসরাত নামে এক ছাত্রী মামলা করলো, সে তার অনুগত বাহিনী দিয়ে সে ছাত্রীকে পেট্রোল ঢেলে আগুনে পুড়িয়ে মারারও সফল ষড়যন্ত্র করলো। ছাত্রীটি হাসপাতালে যন্ত্রণায় আর্তনাদ করতে করতে, পানির জন্য কোঁকাতে কোঁকাতে অবশেষে মরে গেলো। আর মরার আগে বলে গেলো ‘আমার খুনির যেন বিচার হয়’। দাবিটা তো সে মানুষের কাছেই রাখলো। সমাজের মানুষ ব্যক্তি অপরাধীকে কাঠগড়ায় দাঁড় করাবে এই তার শেষ প্রত্যাশা ছিলো। এটা কী তার একটু বেশি চাওয়া মৃত্যুর আগে মানুষ নামক আল্লাহর প্রতিনিধির কাছে? হয়তো তাই। আর সেজন্য তার লাশ যখন হাসপাতাল থেকে বের হলো, সে লাশ হতবাক হয়ে দেখলো (রূপকার্থে, লাশ দেখেতে পারে না), তারই জন্মভূমিতে ‘অমৃতের সন্তানেরা’, মানববন্ধন করছে, তার হত্যাকারীকে বাঁচাতে। জীবদ্দশায় নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দীক্ষাগুরু তাকে ধর্ষণ করেছে, পুলিশও তাকে অ্যাবিউস করেছে। মামলা দিতে গেলে, অধ্যক্ষের পক্ষ নিয়ে স্বয়ং ওসি বলেছে, ‘তুই সাজানো নাটক করছিস’। আর মামলা তুলে না নেয়ায় তাকে আগুন পুড়িয়ে লাশ করলো অধ্যক্ষের অনুগত মানুষেরা। তবুও সে আস্থা রেখেছিলো মানব সমাজের প্রতি। অথচ তার লাশ কবরে শোয়ার আগে দেখে গেলো দলবদ্ধ ‘আল্লাহর খলিফারা’ তার হত্যাকা-ের বিচার চায় না, অপরাধীর মুক্তি চায়! লাশের যদি দেখার কোনো সুযোগ থাকে, তা হলে বলবো, কবরেও এই ফুলতুল্য নিষ্পাপ কন্যাটি যন্ত্রণায় ছটফট করবে, পৃথিবীর শেষ অঙ্কে অমৃত সন্তানদের এ বিষাক্ত আচরণ দেখে। কী হলো মানুষের? অমৃতের সন্তান তো সব পচে যায়নি। তারাও তো মিছিল করছে, মিছিল করবে ন্যায়বিচারের জন্য। কিন্তু তারা আজ পরাজিত নষ্টদের কাছে। তনুর পক্ষে অমৃতের সন্তানরা মাঠে নেমেছে, ত্বকীর পক্ষেও, সাগর-রুনির পক্ষেও। কিন্তু বিজয় তো পচে যাওয়াদের পক্ষে, নষ্টদের পক্ষে অমৃতের সন্তানের পক্ষে নয়।




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]