কাল পহেলা বৈশাখ, চড়া ইলিশের বাজার

আমাদের নতুন সময় : 13/04/2019

স্বপ্না চক্রবর্তী : বাঙালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখ। মাছে-ভাতে বাঙালিয়া যেনো পূর্ণ হয় বৈশাখের পান্তা ইলিশে। যদিও পান্তা ভাতের সঙ্গে ইলিশ ভাজা খাওয়ার রীতি বন্ধ হয়েছে তবু পহেলা বৈশাখকে সামনে রেখে থেমে থাকে নি ইলিশ মাছের দাম বাড়ার প্রবণতা। চলতি বছরের দাম বাড়ার ছাড়িয়েছে আগের সব ইতিহাস। অন্যান্য বছরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুন দামেও কোথাও কোথাও বিক্রি হচ্ছে মাছের রাজা ইলিশ। এরই সাথে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে শাক-সবজি-মাংসসহ অন্যান্য মাছের দামও। ২০১৭ সালে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে সাড়া দিয়ে পান্তা ইলিশ খাওয়ার প্রবণতা কমায় গত দুই বছর ইলিশের দাম কম থাকলেও এবার রাজধানীর সুপারশপগুলোসহ অন্যান্য কাঁচা বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতি পিস ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ১৫০০ থেকে ২ হাজার টাকায়। গতকাল শুক্রবার সকালে কারওয়ান বাজারে গিয়ে দেখা যায়, ৮০০ থেকে ৯০০ গ্রাম আকারের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ১৪০০-১৫০০ টাকা পিস, যা গত বছর ছিল ৮০০-৯০০ টাকা। ৬০০-৭০০ গ্রামের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৮০০-৯০০ টাকা পিস, যা গত বছর ছিল ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা। আর ৩৫০-৪০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৮০০-৯০০ টাকা জোড়া, যা গত বছর ৮০০ টাকা হালি ছিল।
কারওয়ানবাজারের মাছ ব্যবসায়ী শ্যামসুন্দর দাস বলেন, প্রতিছরই পহেলা বৈশাখকে কেন্দ্র করে মার্চের মাঝামাঝি সময় থেকেই ইলিশের দাম বাড়তে থাকে। আগের তুলনায় ইলিশ বিক্রি কম হলেও দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে এটা সত্য। এর কারণ হিসেবে তিনি বলেন, জেলেদের জালে এখন ইলিশ খুব একটা ধরা পড়ছে না। ফলে বাজারে ইলিশের সরবরাহ তুলনামূলক কম। বৈশাখ উপলক্ষে ইলিশের দাম বেড়েছে যাত্রাবাড়ী ও রামপুরার বাজারেও। যাত্রাবাড়ীতে ৮০০-৯০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ মাছ ব্যবাসায়ীরা বিক্রি করছেন ১৩০০-১৪০০ টাকা পিস। ৬০০-৭০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের দাম ৭০০-৮০০ টাকা।
পহেলা বৈশাখকে সামনে রেখে রাজধানীর বাজারগুলোতে বেড়েছে গরুর মাংসসহ শাক-সবজির দামও। বাজারগুলোতে প্রতিকেজি গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৫৫০ টাকা। আর খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে ৮৫০ থেকে ৮৮০ টাকায়। আর বয়লার মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৬৫ থেকে ১৭০টাকা। লেয়ার মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে ২২০ থেকে ২৩০ টাকায়। আর কক মুরগির দাম কেজি ৩০০ টাকায় পৌঁছে গেছে। এখন বাজারভেদে কক মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২৯০ থেকে ৩০০ টাকা কেজি। সবজির বাজারে বরবটির বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৮০ টাকায়, পটল ৫০ থেকে ৭০ টাকা, করলা ৭০ টাকায়, ঢেঁড়স ৫০ থেকে ৬০ টাকা, কচুর লতি ৫০ থেকে ৬০টাকা, শিম ৪০ থেকে ৬০ টাকা, ফুলকপি ৫০ থেকে ৬০ টাকা পিস, ধুন্দুল ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজি, বেগুন ৬০ থেকে ৮০ টাকা কেজি, মূলা বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৪০ টাকা কেজিতে। তবে তুলনামূলক একটু কম দামে পাওয়া যাচ্ছে পেঁপে, পাকা টমেটো, শশা ও গাজর। পেঁপে আগের মতোই ২৫ থেকে ৩০ টাকা, পাকা টমেটো ৩০ থেকে ৪০ টাকা, গাজর ২০ থেকে ৩০ টাকা, শসা ৩০ থেকে ৪০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। তবে দাম অপরিবর্তিত অবস্থায় রয়েছে দেশি পেঁয়াজ। বাজারভেদে দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ২৫ টাকা কেজি। আমদানি করা ভারতীয় পেঁয়াজ আগের মতোই ১৮ থেকে ২০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। কাঁচামরিচ প্রতি কেজি ৬০ থেকে ৮০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। সম্পাদনা : ইকবাল খান




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]